Al-MukhtasarAn‑Nisa · 4:1–24

Al-Mukhtasar · Tafsir · in Bangla

النساء

An-Nisa

The Women · Medinan · 176 ayahs

4:1Page 77

يَٰٓأَيُّهَا ٱلنَّاسُ ٱتَّقُواْ رَبَّكُمُ ٱلَّذِي خَلَقَكُم مِّن نَّفۡسٖ وَٰحِدَةٖ وَخَلَقَ مِنۡهَا زَوۡجَهَا وَبَثَّ مِنۡهُمَا رِجَالٗا كَثِيرٗا وَنِسَآءٗۚ وَٱتَّقُواْ ٱللَّهَ ٱلَّذِي تَسَآءَلُونَ بِهِۦ وَٱلۡأَرۡحَامَۚ إِنَّ ٱللَّهَ كَانَ عَلَيۡكُمۡ رَقِيبٗا ١

O mankind, fear your Lord, who created you from one soul and created from it its mate and dispersed from both of them many men and women. And fear Allāh, through whom1 you ask one another,2 and the wombs.3 Indeed Allāh is ever,4 over you, an Observer.5

১. হে মানবজাতি! তোমরা নিজেদের প্রভুকে ভয় করো। কারণ, তিনিই তো তোমাদেরকে এক আত্মা তথা তোমাদের পিতা আদম থেকে সৃষ্টি করেছেন। এমনকি তিনি আদম থেকে তার স্ত্রী তথা তোমাদের মা হাওয়াকেও সৃষ্টি করেছেন। উপরন্তু তিনি তাদের উভয় থেকে দুনিয়ার আনাচে-কানাচে প্রচুর মানুষ তথা পুরুষ ও মহিলাকে ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা সেই আল্লাহকে ভয় করো যাঁর মাধ্যমে তোমরা একে অপরের নিকট এভাবে চাও যে, আমি আল্লাহর দোহাই দিয়ে তোমার নিকট এ কামনা করছি যে, তুমি এমন এমন করবে। তেমনিভাবে তোমরা নিজেদের মধ্যকার আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা থেকে দূরে থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের একান্ত পর্যবেক্ষক। তাই তোমাদের কোন আমলই তাঁর অলক্ষ্যে নেই। বরং তিনি তা সবই হিসাব করছেন। যার ভিত্তিতেই তিনি তোমাদেরকে প্রতিদান দিবেন।

4:2Page 77

وَءَاتُواْ ٱلۡيَتَٰمَىٰٓ أَمۡوَٰلَهُمۡۖ وَلَا تَتَبَدَّلُواْ ٱلۡخَبِيثَ بِٱلطَّيِّبِۖ وَلَا تَأۡكُلُوٓاْ أَمۡوَٰلَهُمۡ إِلَىٰٓ أَمۡوَٰلِكُمۡۚ إِنَّهُۥ كَانَ حُوبٗا كَبِيرٗا ٢

And give to the orphans their properties and do not substitute the defective [of your own] for the good [of theirs]. And do not consume their properties into your own. Indeed, that is ever a great sin.

২. হে ওসিয়তকারীরা! পিতৃহারা এতিমরা বালেগ ও বুদ্ধিমান হলে তোমরা তাদের সম্পদগুলো পুরোপুরিভাবে দিয়ে দাও। আর তোমরা হারামকে হালালের বিপরীতে গ্রহণ করো না। তোমরা এতিমদের উত্তম সম্পদগুলো গ্রহণ করে তাদেরকে এর বিপরীতে নি¤œ মানের খারাপ সম্পদগুলো দিবে না। আর তাদের সম্পদগুলো নিজেদের সম্পদের সাথে মিলিয়ে তা গ্রাস করবে না। কেননা, এটি আল্লাহর নিকট একটি মহাপাপ।

4:3Page 77

وَإِنۡ خِفۡتُمۡ أَلَّا تُقۡسِطُواْ فِي ٱلۡيَتَٰمَىٰ فَٱنكِحُواْ مَا طَابَ لَكُم مِّنَ ٱلنِّسَآءِ مَثۡنَىٰ وَثُلَٰثَ وَرُبَٰعَۖ فَإِنۡ خِفۡتُمۡ أَلَّا تَعۡدِلُواْ فَوَٰحِدَةً أَوۡ مَا مَلَكَتۡ أَيۡمَٰنُكُمۡۚ ذَٰلِكَ أَدۡنَىٰٓ أَلَّا تَعُولُواْ ٣

And if you fear that you will not deal justly with the orphan girls, then marry those that please you of [other] women, two or three or four. But if you fear that you will not be just, then [marry only] one or those your right hands possess [i.e., slaves]. That is more suitable that you may not incline [to injustice].

৩. তোমরা যদি নিজেদের অধীনস্থ এতীম মেয়েদেরকে বিবাহ করলে তাদের উপর যুলুম বা বেইনসাফির ভয় করো চাই তা তাদেরকে তাদের উপযুক্ত মোহরানা না দিয়ে হোক কিংবা তাদের সাথে দুর্ব্যবহার করে তাহলে তোমরা তাদেরকে পরিত্যাগ করে অন্যান্য পবিত্রা মেয়েদেরকে বিবাহ করো। চাইলে তোমরা এদের থেকে দু’টি, তিনটি কিংবা চারটি বিবাহ করতে পারো। বেইনসাফির ভয় হলে একটি বিবাহ করাই যথেষ্ট অথবা নিজেদের অধীনস্থ বাঁদীদের ব্যবহার করো। কারণ, তাদের সেই অধিকার নেই যা নিজ স্ত্রীদের জন্য রয়েছে। উক্ত আয়াতে এতীমদের সম্পর্কে, শুধু একটি বিবাহ করা অথবা বাঁদীদেরকে ব্যবহার করা সম্পর্কে যা বলা হয়েছে তা যুলুম না করা ও সত্যভ্রষ্ট না হওয়ার নিকটবর্তী।

4:4Page 77

وَءَاتُواْ ٱلنِّسَآءَ صَدُقَٰتِهِنَّ نِحۡلَةٗۚ فَإِن طِبۡنَ لَكُمۡ عَن شَيۡءٖ مِّنۡهُ نَفۡسٗا فَكُلُوهُ هَنِيٓـٔٗا مَّرِيٓـٔٗا ٤

And give the women [upon marriage] their [bridal] gifts1 graciously. But if they give up willingly to you anything of it, then take it in satisfaction and ease.2

৪. আর তোমরা বাধ্যতামূলকভাবে মহিলাদেরকে মোহরানা দিয়ে বিয়ে করবে। বিনা চাপে তারা তোমাদেরকে স্বেচ্ছায় মহরের কিয়দংশ ছেড়ে দিলে তোমরা তা বিনা দ্বিধায় আনন্দ চিত্তে খেতে পারো।

4:5Page 77

وَلَا تُؤۡتُواْ ٱلسُّفَهَآءَ أَمۡوَٰلَكُمُ ٱلَّتِي جَعَلَ ٱللَّهُ لَكُمۡ قِيَٰمٗا وَٱرۡزُقُوهُمۡ فِيهَا وَٱكۡسُوهُمۡ وَقُولُواْ لَهُمۡ قَوۡلٗا مَّعۡرُوفٗا ٥

And do not give the weak-minded your property,1 which Allāh has made a means of sustenance for you, but provide for them with it and clothe them and speak to them words of appropriate kindness.

৫. হে অভিভাবকরা! সম্পদের সুন্দর ব্যবহার জানেনা এমন লোকদের হাতে সম্পদ উঠিয়ে দিয়ো না। কারণ, আল্লাহ তা‘আলা এ সম্পদগুলোকে জীবন ধারণ ও মানুষের বহুমুখী সুবিধাদির মাধ্যম বানিয়েছেন। আর এরা এ সম্পদগুলো নির্বাহ এবং সংরক্ষণের উপযুক্ত নয়। তবে তোমরা তা থেকে তাদের খাদ্য ও পোশাক-পরিচ্ছদের ব্যবস্থা করো। আর তাদের সাথে সুন্দর কথা বলো। উপরন্তু তোমরা তাদের সাথে এ সুন্দর ওয়াদা করো যে, তারা বুঝমান ও সম্পদের সুন্দর ব্যবহার জানলে তাদের সম্পদ তাদেরকেই ফিরিয়ে দিবে।

4:6Page 77

وَٱبۡتَلُواْ ٱلۡيَتَٰمَىٰ حَتَّىٰٓ إِذَا بَلَغُواْ ٱلنِّكَاحَ فَإِنۡ ءَانَسۡتُم مِّنۡهُمۡ رُشۡدٗا فَٱدۡفَعُوٓاْ إِلَيۡهِمۡ أَمۡوَٰلَهُمۡۖ وَلَا تَأۡكُلُوهَآ إِسۡرَافٗا وَبِدَارًا أَن يَكۡبَرُواْۚ وَمَن كَانَ غَنِيّٗا فَلۡيَسۡتَعۡفِفۡۖ وَمَن كَانَ فَقِيرٗا فَلۡيَأۡكُلۡ بِٱلۡمَعۡرُوفِۚ فَإِذَا دَفَعۡتُمۡ إِلَيۡهِمۡ أَمۡوَٰلَهُمۡ فَأَشۡهِدُواْ عَلَيۡهِمۡۚ وَكَفَىٰ بِٱللَّهِ حَسِيبٗا ٦

And test the orphans [in their abilities] until they reach marriageable age. Then if you perceive in them sound judgement, release their property to them. And do not consume it excessively and quickly, [anticipating] that they will grow up. And whoever, [when acting as guardian], is self-sufficient should refrain [from taking a fee]; and whoever is poor - let him take according to what is acceptable. Then when you release their property to them, bring witnesses upon them. And sufficient is Allāh as Accountant.

৬. হে অভিভাবকরা! এতিমরা সাবালক হলে তোমরা তাদেরকে পরীক্ষা করো। তাদেরকে তাদের সামান্যটুকু সম্পদ ব্যয় করার সুযোগ দাও। যদি তারা তা থেকে সুন্দরভাবে তাসারুফ বা ব্যয় করে এবং তাতে তাদের সঠিক বুঝ সুস্পষ্ট হয় তাহলে কোন ধরনের কমতি ছাড়া তাদের পুরো সম্পদটুকুই দিয়ে দাও। প্রয়োজনে তাদের যে সম্পদ আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের জন্য হালাল করেছেন সে সীমা অতিক্রম করে তোমরা তাদের সম্পদ খেয়ো না। তারা বড় হয়ে তাদের সম্পদ নিয়ে নিবে এ ভয়ে তোমরা তাদের সম্পদ দ্রæত খেয়ে ফেলো না। তোমাদের কারো নিকট চলার মতো যথেষ্ট সম্পদ থাকলে সে যেন এতীমের সম্পদ গ্রহণ না করে। তবে সম্পদহীন ফকির প্রয়োজন মাফিক গ্রহণ করবে। পক্ষান্তরে তারা সাবালক ও সুস্পষ্ট বুঝসম্পন্ন হওয়ার পর তাদের সম্পদগুলো তাদেরকে হস্তান্তর করার সময় কাউকে সাক্ষী রাখো। যাতে তাদের অধিকারসমূহ রক্ষা পায় এবং তাতে কোন ধরনের দ্ব›দ্ব সৃষ্টি না হয়। বস্তুতঃ এ ব্যাপারে আল্লাহ তা‘আলাই যথেষ্ট সাক্ষী। তিনি তাঁর বান্দাদের সকল কর্মকাÐের সঠিক হিসাব রক্ষক।

4:7Page 78

لِّلرِّجَالِ نَصِيبٞ مِّمَّا تَرَكَ ٱلۡوَٰلِدَانِ وَٱلۡأَقۡرَبُونَ وَلِلنِّسَآءِ نَصِيبٞ مِّمَّا تَرَكَ ٱلۡوَٰلِدَانِ وَٱلۡأَقۡرَبُونَ مِمَّا قَلَّ مِنۡهُ أَوۡ كَثُرَۚ نَصِيبٗا مَّفۡرُوضٗا ٧

For men is a share of what the parents and close relatives leave, and for women is a share of what the parents and close relatives leave, be it little or much - an obligatory share.

৭. মাতা-পিতা ও নিকটাত্মীয় যেমন ভাই ও চাচারা তাদের মৃত্যুর পর কম-বেশি যে সম্পদটুকু রেখে যাবে তাতে পুরুষ ও মহিলা উভয়েরই অধিকার রয়েছে। জাহিলী যুগের মত নয়; যখন মহিলা ও বাচ্চাদেরকে মিরাস থেকে বঞ্চিত করা হতো। বস্তুতঃ এ অধিকারটুকু আল্লাহ তা‘আলার পক্ষ থেকে বাধ্যতামূলক ও সুস্পষ্ট পরিমিত।

4:8Page 78

وَإِذَا حَضَرَ ٱلۡقِسۡمَةَ أُوْلُواْ ٱلۡقُرۡبَىٰ وَٱلۡيَتَٰمَىٰ وَٱلۡمَسَٰكِينُ فَٱرۡزُقُوهُم مِّنۡهُ وَقُولُواْ لَهُمۡ قَوۡلٗا مَّعۡرُوفٗا ٨

And when [other] relatives and orphans and the needy are present at the [time of] division, then provide for them [something] out of it [i.e., the estate] and speak to them words of appropriate kindness.

৮. মিরাস বন্টনের সময় ফকির ও এতীম আর যে আত্মীয়রা মিরাস পায় না তারা উপস্থিত থাকলে সম্পদ বন্টনের আগেই তোমাদের ইচ্ছা মাফিক এমনিতেই তাদেরকে কিছু সম্পদ দিয়ে দাও। কারণ, তারা তা পাওয়ার জন্য লালায়িত। আর তোমরাও তা বিনা কষ্টে পেয়েছো। উপরন্তু তোমরা তাদের সাথে সুশ্রী সুন্দর কথা বলো।

4:9Page 78

وَلۡيَخۡشَ ٱلَّذِينَ لَوۡ تَرَكُواْ مِنۡ خَلۡفِهِمۡ ذُرِّيَّةٗ ضِعَٰفًا خَافُواْ عَلَيۡهِمۡ فَلۡيَتَّقُواْ ٱللَّهَ وَلۡيَقُولُواْ قَوۡلٗا سَدِيدًا ٩

And let those [executors and guardians] fear [injustice] as if they [themselves] had left weak offspring behind and feared for them. So let them fear Allāh and speak words of appropriate justice.

৯. যারা নিজেদের মৃত্যুর পর দুনিয়াতে রেখে যাওয়া বুদ্ধিতে অপরিপক্ক ছোট ছোট বাচ্চাদের নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করে তারা যেন নিজেদের অধীনস্থ এতীমদের উপর যুলুম করার ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করে। যাতে আল্লাহ তা‘আলা তাদের মৃত্যুর পর তাদের সন্তানের জন্য এমন অভিভাবকের ব্যবস্থা করেন যারা তাদের সন্তানের প্রতি এমনভাবে দয়া করবে যেমনিভাবে তারা অন্যের সন্তানের প্রতি দয়া করেছে। যারা তার ওসিয়তের সময় উপস্থিত থাকে তারাও যেন ওদের সন্তানদের অধিকারের ব্যাপারে ভালো আচরণ করে। তারা যেন ওদের সাথে সত্য ও সঠিক কথা বলে। যাতে সে তার মৃত্যুর পর ওসিয়তের ক্ষেত্রে তার ওয়ারিশের অধিকারের উপর কোন ধরনের যুলুম না করে এবং সেও যেন ওসিয়ত না করে নিজকে কল্যাণ থেকে বঞ্চিত না করে।

4:10Page 78

إِنَّ ٱلَّذِينَ يَأۡكُلُونَ أَمۡوَٰلَ ٱلۡيَتَٰمَىٰ ظُلۡمًا إِنَّمَا يَأۡكُلُونَ فِي بُطُونِهِمۡ نَارٗاۖ وَسَيَصۡلَوۡنَ سَعِيرٗا ١٠

Indeed, those who devour the property of orphans unjustly are only consuming into their bellies fire. And they will be burned in a Blaze [i.e., Hellfire].

১০. যারা এতীমদের সম্পদ গ্রাস করে তাতে যুলুম ও অত্যাচারমূলক তাসারুফ করে তারা যেন নিজেদের পেটে জ্বলন্ত আগুন ঢুকায় যা কিয়ামতের দিন অচিরেই তাদেরকে পুড়িয়ে ফেলবে।

4:11Page 78

يُوصِيكُمُ ٱللَّهُ فِيٓ أَوۡلَٰدِكُمۡۖ لِلذَّكَرِ مِثۡلُ حَظِّ ٱلۡأُنثَيَيۡنِۚ فَإِن كُنَّ نِسَآءٗ فَوۡقَ ٱثۡنَتَيۡنِ فَلَهُنَّ ثُلُثَا مَا تَرَكَۖ وَإِن كَانَتۡ وَٰحِدَةٗ فَلَهَا ٱلنِّصۡفُۚ وَلِأَبَوَيۡهِ لِكُلِّ وَٰحِدٖ مِّنۡهُمَا ٱلسُّدُسُ مِمَّا تَرَكَ إِن كَانَ لَهُۥ وَلَدٞۚ فَإِن لَّمۡ يَكُن لَّهُۥ وَلَدٞ وَوَرِثَهُۥٓ أَبَوَاهُ فَلِأُمِّهِ ٱلثُّلُثُۚ فَإِن كَانَ لَهُۥٓ إِخۡوَةٞ فَلِأُمِّهِ ٱلسُّدُسُۚ مِنۢ بَعۡدِ وَصِيَّةٖ يُوصِي بِهَآ أَوۡ دَيۡنٍۗ ءَابَآؤُكُمۡ وَأَبۡنَآؤُكُمۡ لَا تَدۡرُونَ أَيُّهُمۡ أَقۡرَبُ لَكُمۡ نَفۡعٗاۚ فَرِيضَةٗ مِّنَ ٱللَّهِۗ إِنَّ ٱللَّهَ كَانَ عَلِيمًا حَكِيمٗا ١١

Allāh instructs you concerning your children [i.e., their portions of inheritance]: for the male, what is equal to the share of two females. But if there are [only] daughters, two or more, for them is two thirds of one's estate.1 And if there is only one, for her is half. And for one's parents, to each one of them is a sixth of his estate if he left children. But if he had no children and the parents [alone] inherit from him, then for his mother is one third. And if he had brothers [and/or sisters], for his mother is a sixth,2 after any bequest he [may have] made or debt.3 Your parents or your children - you know not which of them are nearest to you in benefit. [These shares are] an obligation [imposed] by Allāh. Indeed, Allāh is ever Knowing and Wise.

১১. আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের অঙ্গীকার নিচ্ছেন এবং তোমাদের সন্তানের মিরাসের ব্যাপারে তোমাদেরকে আদেশ করছেন। মিরাস তাদের মাঝে এভাবে বন্টন হবে যে, ছেলে পাবে দু’ মেয়ের সমপরিমাণ। যদি মৃত ব্যক্তি শুধু মেয়ে সন্তান রেখে যায় তাহলে দু’ বা ততোধিক মেয়ে মিরাসের দু’ তৃতীয়াংশ পাবে। আর একটি মেয়ে হলে সে পাবে অর্ধেক। উপরন্তু মৃতের মাতা-পিতার প্রত্যেকেই মিরাসের এক ষষ্টাংশ পাবে যদি তার ছেলে বা মেয়ে থাকে। আর যদি তার কোন সন্তানই না থাকে এমনকি তার মাতা-পিতা ছাড়া তার কোন ওয়ারিশই না থাকে তাহলে তার মা পাবে মিরাসের এক তৃতীয়াংশ। আর বাকি মিরাস তার পিতা পাবে। আর যদি মৃতের কোন ভাই-বোন থাকে দু’ বা ততোধিক, আপন বা সৎ তাহলে তার মা তার জন্য নির্ধারিত এক ষষ্টাংশ পাবে। আর বাকিটুকু তার পিতা নির্ধারিত ও অনির্ধারিত মিলে সবটাই পাবে। তার ভাই-বোনরা এর কিছুই পাবে না। মূলতঃ মিরাসের এ বন্টনটুকু মৃতের অসিয়ত বাস্তবায়নের পরই হবে। তবে তার ওসিয়তটুকু মিরাসের এক তৃতীয়াংশের বেশি হতে পারবে না। এমনকি এ বন্টনটুকু মৃতের জিম্মায় থাকা ঋণসমূহ আদায়ের পরই হবে। আল্লাহ তা‘আলা মিরাসের বন্টনটুকু এভাবে করেছেন। কারণ, তোমরা জানো না পিতা-মাতা ও সন্তানদের মধ্যকার কে দুনিয়া ও আখিরাতে তার জন্য বেশি লাভজনক হবে। কখনো মৃত ব্যক্তি দুনিয়াতে থাকাবস্থায় তার ওয়ারিশদের কাউকে ভালো মনে করে তার পুরো সম্পদটুকু তাকে দিয়ে দেয় অথবা কাউকে খারাপ মনে করে তাকে সম্পূর্ণরূপে বঞ্চিত করে; অথচ বাস্তবতা তার উল্টো হয়। বস্তুতঃ যিনি এ সবই জানেন তিনি হলেন আল্লাহ। যাঁর নিকট কোন কিছুই লুক্কায়িত নয়। তাই তিনি উল্লেখিত নিয়মে মিরাস বন্টন করেছেন। যা তিনি তাঁর পক্ষ থেকে ফরয ও বান্দাহর জন্য বাধ্যতামূলক করে দিয়েছেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা মহাজ্ঞানী যাঁর নিকট তাঁর বান্দাদের কোন সুবিধার ব্যাপারই লুক্কায়িত নয়। তিনি তাঁর শরীয়ত ও পরিচালনায় অত্যন্ত প্রজ্ঞাময়।

4:12Page 79

۞ وَلَكُمۡ نِصۡفُ مَا تَرَكَ أَزۡوَٰجُكُمۡ إِن لَّمۡ يَكُن لَّهُنَّ وَلَدٞۚ فَإِن كَانَ لَهُنَّ وَلَدٞ فَلَكُمُ ٱلرُّبُعُ مِمَّا تَرَكۡنَۚ مِنۢ بَعۡدِ وَصِيَّةٖ يُوصِينَ بِهَآ أَوۡ دَيۡنٖۚ وَلَهُنَّ ٱلرُّبُعُ مِمَّا تَرَكۡتُمۡ إِن لَّمۡ يَكُن لَّكُمۡ وَلَدٞۚ فَإِن كَانَ لَكُمۡ وَلَدٞ فَلَهُنَّ ٱلثُّمُنُ مِمَّا تَرَكۡتُمۚ مِّنۢ بَعۡدِ وَصِيَّةٖ تُوصُونَ بِهَآ أَوۡ دَيۡنٖۗ وَإِن كَانَ رَجُلٞ يُورَثُ كَلَٰلَةً أَوِ ٱمۡرَأَةٞ وَلَهُۥٓ أَخٌ أَوۡ أُخۡتٞ فَلِكُلِّ وَٰحِدٖ مِّنۡهُمَا ٱلسُّدُسُۚ فَإِن كَانُوٓاْ أَكۡثَرَ مِن ذَٰلِكَ فَهُمۡ شُرَكَآءُ فِي ٱلثُّلُثِۚ مِنۢ بَعۡدِ وَصِيَّةٖ يُوصَىٰ بِهَآ أَوۡ دَيۡنٍ غَيۡرَ مُضَآرّٖۚ وَصِيَّةٗ مِّنَ ٱللَّهِۗ وَٱللَّهُ عَلِيمٌ حَلِيمٞ ١٢

And for you is half of what your wives leave if they have no child. But if they have a child, for you is one fourth of what they leave, after any bequest they [may have] made or debt. And for them [i.e., the wives] is one fourth if you leave no child. But if you leave a child, then for them is an eighth of what you leave, after any bequest you [may have] made or debt. And if a man or woman leaves neither ascendants nor descendants but has a brother or a sister, then for each one of them is a sixth. But if they are more than two, they share a third,1 after any bequest which was made or debt, as long as there is no detriment [caused].2 [This is] an ordinance from Allāh, and Allāh is Knowing and Forbearing.

১২. হে স্বামীরা! তোমরা সন্তানহীন স্ত্রীর অর্ধেক মিরাস পাবে। সন্তান থাকলে তাদের মিরাসের এক চতুর্থাংশ পাবে। এ বন্টনটি মূলতঃ তাদের অসিয়ত বাস্তবায়ন এবং তাদের জিম্মায় থাকা ঋণসমূহ আদায়ের পরই হবে। হে স্বামীরা! তোমরা নিঃসন্তান হলে তোমাদের মিরাস থেকে তোমাদের স্ত্রীরা এক চতুর্থাংশ পাবে। আর থাকলে মিরাসের এক অষ্টমাংশ পাবে। এ বন্টনটিও মূলতঃ তোমাদের অসিয়ত বাস্তবায়ন এবং তোমাদের জিম্মায় থাকা ঋণসমূহ আদায়ের পরই হবে। পুরুষ বা মহিলা মাতা-পিতা এবং সন্তানহীন মারা গেলে তাদের বৈপিত্রেয় ভাই অথবা বোন থাকলে তাদের বৈপিত্রেয় ভাই অথবা বোন তাদের জন্য নির্ধারিত এক ষষ্টমাংশই পাবে। আর যদি তাদের বৈপিত্রেয় ভাই অথবা বোন একাধিক থাকে তাহলে তাদের সবার জন্য এক তৃতীয়াংশ মিরাস রয়েছে যাতে তারা নির্ধারিতভাবে সমান অংশীদার হবে। তাতে ছেলে-মেয়ের সমান অধিকার। তবে তারাও তাদের অংশ গ্রহণ করবে মৃতের অসিয়ত বাস্তবায়ন এবং তার জিম্মায় থাকা ঋণসমূহ আদায়ের পরই। এ শর্তে যে, তার ওসিয়তও তার ওয়ারিশদের কোন ধরনের ক্ষতি করতে পারবে না। যেমন: তার ওসিয়ত মিরাসের এক তৃতীয়াংশের বেশি হওয়া। আয়াতে উল্লেখিত বিধানটি আল্লাহর পক্ষ থেকে তোমাদের প্রতি চুক্তিস্বরূপ যা তিনি তোমাদের উপর বাধ্যতামূলক করে দিয়েছেন। বস্তুতঃ আল্লাহ তা‘আলা বান্দার দুনিয়া ও আখিরাতের সব লাভজনক বিষয় জানেন। তিনি ধৈর্যশীল। কোন পাপীকে তিনি দ্রæত শাস্তি দেন না।

4:13Page 79

تِلۡكَ حُدُودُ ٱللَّهِۚ وَمَن يُطِعِ ٱللَّهَ وَرَسُولَهُۥ يُدۡخِلۡهُ جَنَّٰتٖ تَجۡرِي مِن تَحۡتِهَا ٱلۡأَنۡهَٰرُ خَٰلِدِينَ فِيهَاۚ وَذَٰلِكَ ٱلۡفَوۡزُ ٱلۡعَظِيمُ ١٣

These are the limits [set by] Allāh, and whoever obeys Allāh and His Messenger will be admitted by Him to gardens [in Paradise] under which rivers flow, abiding eternally therein; and that is the great attainment.

১৩. এতীম ও অন্যান্যদের সাথে সম্পৃক্ত উল্লেখিত বিধানাবলী আল্লাহর শরীয়ত যা তিনি তার বান্দাদের আমলের জন্য নির্ধারিত করেছেন। যারা আল্লাহর আদেশ-নিষেধ মেনে তাঁর ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করেছে আল্লাহ তা‘আলা তাকে এমন জান্নাতে প্রবেশ করাবেন যার অট্টালিকাগুলোর নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে নদ-নদী। তারা তাতে বিশেষভাবে অবস্থান করবে। কোন ধ্বংস তাদেরকে স্পর্শ করতে পারবে না। আর এ ঐশী প্রতিদান হলো এমন মহান সফলতা যার সমকক্ষ আর কোন সফলতা নেই।

4:14Page 79

وَمَن يَعۡصِ ٱللَّهَ وَرَسُولَهُۥ وَيَتَعَدَّ حُدُودَهُۥ يُدۡخِلۡهُ نَارًا خَٰلِدٗا فِيهَا وَلَهُۥ عَذَابٞ مُّهِينٞ ١٤

And whoever disobeys Allāh and His Messenger and transgresses His limits - He will put him into the Fire to abide eternally therein, and he will have a humiliating punishment.

১৪. আর যে ব্যক্তি আল্লাহর বিধানাবলীকে অমান্য করে তথা তার উপর আমল না করে অথবা তাতে কোন ধরনের সন্দেহ পোষণ করে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধাচরণ করবে উপরন্তু তাঁর শরীয়তের গÐি অতিক্রম করবে তিনি তাকে জাহান্নামে প্রবেশ করাবেন যাতে সে বিশেষভাবে অবস্থান করবে এবং তাতে রয়েছে তার জন্য অতি লাঞ্ছনাকর শাস্তি।

4:15Page 80

وَٱلَّٰتِي يَأۡتِينَ ٱلۡفَٰحِشَةَ مِن نِّسَآئِكُمۡ فَٱسۡتَشۡهِدُواْ عَلَيۡهِنَّ أَرۡبَعَةٗ مِّنكُمۡۖ فَإِن شَهِدُواْ فَأَمۡسِكُوهُنَّ فِي ٱلۡبُيُوتِ حَتَّىٰ يَتَوَفَّىٰهُنَّ ٱلۡمَوۡتُ أَوۡ يَجۡعَلَ ٱللَّهُ لَهُنَّ سَبِيلٗا ١٥

Those who commit immorality [i.e., unlawful sexual intercourse] of your women - bring against them four [witnesses] from among you. And if they testify,1 confine them [i.e., the guilty women] to houses until death takes them or Allāh ordains for them [another] way.2

১৫. তোমাদের মহিলারা ব্যভিচারের অশ্লীলতায় লিপ্ত হলে চাই তারা বিবাহিতা হোক কিংবা অবিবাহিতা তোমরা তাদের ব্যাপারে ন্যায়পরায়ণ চার জন মুসলিম পুরুষের সাক্ষ্য গ্রহণ করো। তারা এদের ব্যাপারে ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়ার সাক্ষ্য দিলে তোমরা তাদেরকে শাস্তিস্বরূপ ঘরে আটকে রাখো যতক্ষণ না তাদের জীবন মৃত্যুর মাধ্যমে শেষ হয় অথবা আল্লাহ তা‘আলা তাদের ব্যাপারে বন্দীদশা ছাড়া অন্য কোন পথ বের করে দেন। এরপর আল্লাহ তা‘আলা তাদের জন্য একটি বিশেষ পথ বর্ণনা করেছেন। তিনি অবিবাহিতা ব্যভিচারিণী মেয়ের জন্য একশ’টি বেত্রাঘাত ও এক বছরের জন্য দেশান্তর এবং বিবাহিতাকে পাথর মেরে হত্যা করার বিধান করেছেন।

4:16Page 80

وَٱلَّذَانِ يَأۡتِيَٰنِهَا مِنكُمۡ فَـَٔاذُوهُمَاۖ فَإِن تَابَا وَأَصۡلَحَا فَأَعۡرِضُواْ عَنۡهُمَآۗ إِنَّ ٱللَّهَ كَانَ تَوَّابٗا رَّحِيمًا ١٦

And the two1 who commit it [i.e., unlawful sexual intercourse] among you - punish [i.e., dishonor] them both. But if they repent and correct themselves, leave them alone. Indeed, Allāh is ever Accepting of Repentance and Merciful.

১৬. আর যে পুরুষদ্বয় ব্যভিচারের অশ্লীলতায় লিপ্ত হয় চাই তারা বিবাহিত হোক কিংবা অবিবাহিত তোমরা তাদেরকে হাত ও মুখ দিয়ে লাঞ্ছনা ও তিরস্কারমূলক শাস্তি দাও। ফলে তারা যদি উক্ত কর্মকাÐ পরিত্যাগ করে এবং তাদের অবস্থা ভালো হয়ে যায় তাহলে তোমরা তাদেরকে কষ্ট দেয়া থেকে বিরত থাকো। কারণ, পাপ থেকে তাওবাকারী নিষ্পাপ ব্যক্তির মতো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা তাঁর তাওবাকারী বান্দাদের তাওবা গ্রহণকারী ও তাদের প্রতি অত্যন্ত দয়ালু। মূলতঃ এ জাতীয় শাস্তি ইসলামের প্ররম্ভিক যুগে ছিলো অতঃপর তা অবিবাহিতকে একশ’টি বেত্রাঘাত ও দেশান্তর এবং বিবাহিতকে একেবারে পাথর মেরে হত্যা করার মাধ্যমে রহিত করা হয়েছে।

4:17Page 80

إِنَّمَا ٱلتَّوۡبَةُ عَلَى ٱللَّهِ لِلَّذِينَ يَعۡمَلُونَ ٱلسُّوٓءَ بِجَهَٰلَةٖ ثُمَّ يَتُوبُونَ مِن قَرِيبٖ فَأُوْلَٰٓئِكَ يَتُوبُ ٱللَّهُ عَلَيۡهِمۡۗ وَكَانَ ٱللَّهُ عَلِيمًا حَكِيمٗا ١٧

The repentance accepted by Allāh is only for those who do wrong in ignorance [or carelessness] and then repent soon [after].1 It is those to whom Allāh will turn in forgiveness, and Allāh is ever Knowing and Wise.

১৭. নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা ওদের তাওবা গ্রহণ করেন যারা পাপ ও গুনাহের পরিণতি ও অনিষ্টের কথা না জেনে তাতে লিপ্ত হয় (আর এটিই হলো ইচ্ছাকৃত অথবা অনিচ্ছাকৃত পাপীদের অবস্থা) অতঃপর মৃত্যু দেখার পূর্বে তাদের প্রভুর প্রতি নত হয়ে তাঁর দিকে ফিরে আসে। আল্লাহ তা‘আলা এদের তাওবাই গ্রহণ করেন এবং তাদের অপরাধসমূহের প্রতি কোন ধরনের ভ্রƒক্ষেপই করেন না। বস্তুতঃ আল্লাহ তা‘আলা তাঁর সৃষ্টির সার্বিক অবস্থা সম্পর্কে জ্ঞাত উপরন্তু তিনি তাঁর তাক্বদীর ও শরীয়তের ব্যাপারে প্রজ্ঞাময়।

4:18Page 80

وَلَيۡسَتِ ٱلتَّوۡبَةُ لِلَّذِينَ يَعۡمَلُونَ ٱلسَّيِّـَٔاتِ حَتَّىٰٓ إِذَا حَضَرَ أَحَدَهُمُ ٱلۡمَوۡتُ قَالَ إِنِّي تُبۡتُ ٱلۡـَٰٔنَ وَلَا ٱلَّذِينَ يَمُوتُونَ وَهُمۡ كُفَّارٌۚ أُوْلَٰٓئِكَ أَعۡتَدۡنَا لَهُمۡ عَذَابًا أَلِيمٗا ١٨

But repentance is not [accepted] of those who [continue to] do evil deeds up until, when death comes to one of them, he says, "Indeed, I have repented now," or of those who die while they are disbelievers. For them We have prepared a painful punishment.

১৮. তবে যারা গুনাহের উপর অটল থেকে তা থেকে দ্রæত তাওবা না করে তাদের তাওবা আল্লাহ তা‘আলা গ্রহণ করেন না। মৃত্যু যন্ত্রণা ভোগ করার সময় তাদের কেউ কেউ বলে: আমি এখন আমার সমস্ত পাপ থেকে তাওবা করছি। তেমনিভাবে আল্লাহ তা‘আলা কুফরিতে অটল মৃত ব্যক্তির তাওবাও কবুল করেন না। বস্তুতঃ আমি গুনাহের উপর অটল পাপী এবং কুফরির উপর অটল অবস্থায় মৃত্যু বরণকারীদের জন্য যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি প্রস্তুত রেখেছি।

4:19Page 80

يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ لَا يَحِلُّ لَكُمۡ أَن تَرِثُواْ ٱلنِّسَآءَ كَرۡهٗاۖ وَلَا تَعۡضُلُوهُنَّ لِتَذۡهَبُواْ بِبَعۡضِ مَآ ءَاتَيۡتُمُوهُنَّ إِلَّآ أَن يَأۡتِينَ بِفَٰحِشَةٖ مُّبَيِّنَةٖۚ وَعَاشِرُوهُنَّ بِٱلۡمَعۡرُوفِۚ فَإِن كَرِهۡتُمُوهُنَّ فَعَسَىٰٓ أَن تَكۡرَهُواْ شَيۡـٔٗا وَيَجۡعَلَ ٱللَّهُ فِيهِ خَيۡرٗا كَثِيرٗا ١٩

O you who have believed, it is not lawful for you to inherit women by compulsion.1 And do not make difficulties for them in order to take [back] part of what you gave them2 unless they commit a clear immorality [i.e., adultery]. And live with them in kindness. For if you dislike them - perhaps you dislike a thing and Allāh makes therein much good.

১৯. হে আল্লাহতে বিশ্বাসী ও তাঁর রাসূলের অনুসারী মু’মিনরা! তোমাদের জন্য জায়িয হবে না সম্পদের ন্যায় তোমাদের বাপ-দাদার স্ত্রীদের ওয়ারিশ হওয়া। যার ফলে তোমরা তাদেরকে বিবাহ করবে অথবা যার সাথে চাও তার সাথে বিবাহ দিবে কিংবা তাদেরকে কারো সাথে বিবাহ বসতে বাধা দিবে। তেমনিভাবে তোমাদের জন্য জায়িয হবে না তোমাদের অপছন্দনীয় স্ত্রীদেরকে কষ্ট দেয়ার নিয়্যাতে নিজের অধীনে আটকে রাখা। যেন তারা তোমাদেরকে তাদেরকে দেয়া মোহরানা ইত্যাদির কিছু অংশ ফেরত দেয়। তবে তারা ব্যভিচারের ন্যায় সুস্পষ্ট অশ্লীলতায় লিপ্ত হলে তা ভিন্ন কথা। বস্তুতঃ তারা এমন করলে তাদেরকে নিজের অধীনে আটকে রেখে তাদেরকে কোনঠাসা করা জায়িয। যাতে তারা তোমাদের দেয়া মোহরানাটুকু তোমাদেরকে ফেরত দিয়ে তোমাদের অধীন থেকে নিজেদেরকে ছাড়িয়ে নেয়। আর তোমরা নিজেদের স্ত্রীদের সাথে সদাচরণ করো। তাদেরকে কষ্ট না দিয়ে বরং তাদের প্রতি দয়া করো। দুনিয়ার কোন কারণে তাদেরকে অপছন্দ করলেও তাদের প্রতি ধৈর্য ধারণ করো। আশা করা যায়, আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের অপছন্দের মধ্যেও দুনিয়া ও আখিরাতের জীবনের বহু কল্যাণ রেখেছেন।

4:20Page 81

وَإِنۡ أَرَدتُّمُ ٱسۡتِبۡدَالَ زَوۡجٖ مَّكَانَ زَوۡجٖ وَءَاتَيۡتُمۡ إِحۡدَىٰهُنَّ قِنطَارٗا فَلَا تَأۡخُذُواْ مِنۡهُ شَيۡـًٔاۚ أَتَأۡخُذُونَهُۥ بُهۡتَٰنٗا وَإِثۡمٗا مُّبِينٗا ٢٠

But if you want to replace one wife with another and you have given one of them a great amount [in gifts], do not take [back] from it anything. Would you take it in injustice and manifest sin?

২০. হে স্বামীরা! যদি তোমরা নিজেদের স্ত্রীকে তালাক দিয়ে তার পরিবর্তে অন্য কাউকে স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করতে চাও তাহলে তাতে তোমাদের কোন অসুবিধে নেই। তবে যদি তোমরা যার সাথে বিবাহ বিচ্ছেদে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ তাকে ইতোপূর্বে প্রচুর সম্পদ মোহরানা হিসেবে দিয়ে থাকো তারপরও তা থেকে কোন কিছু ফেরত নেয়া তোমাদের জন্য জায়িয হবে না। কারণ, তোমাদের দেয়া কোন কিছু পুনরায় গ্রহণ করা তোমাদের পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট অপবাদ এবং প্রকাশ্য পাপ হিসেবেই পরিগণিত।

4:21Page 81

وَكَيۡفَ تَأۡخُذُونَهُۥ وَقَدۡ أَفۡضَىٰ بَعۡضُكُمۡ إِلَىٰ بَعۡضٖ وَأَخَذۡنَ مِنكُم مِّيثَٰقًا غَلِيظٗا ٢١

And how could you take it while you have gone in unto each other and they have taken from you a solemn covenant?

২১. কীভাবেই বা তোমরা নিজেদের দেয়া মোহরানাটুকু আবার ফেরত নিবে; অথচ তোমাদের মাঝে ইতিমধ্যে অনেক কিছুই ঘটে গেছে। যেমন: পারস্পরিক সম্পর্ক ও ভালোবাসা এবং যৌন সম্ভোগ ও পরস্পরের গোপনীয় ব্যাপারগুলো জানা। কারণ, এরপরও তাদের হাতে থাকা সম্পদের লোভ করা সত্যিই একটি গর্হিত ও বিশ্রী কাজ। অথচ তারা তোমাদের থেকে ইতোপূর্বে একটি শক্ত ও কঠিন অঙ্গীকার গ্রহণ করেছে। আর তা হলো আল্লাহর বাণী ও তাঁর শরীয়তের মাধ্যমে তাদেরকে হালাল হিসেবে গ্রহণ করা।

4:22Page 81

وَلَا تَنكِحُواْ مَا نَكَحَ ءَابَآؤُكُم مِّنَ ٱلنِّسَآءِ إِلَّا مَا قَدۡ سَلَفَۚ إِنَّهُۥ كَانَ فَٰحِشَةٗ وَمَقۡتٗا وَسَآءَ سَبِيلًا ٢٢

And do not marry those [women] whom your fathers married, except what has already occurred.1 Indeed, it was an immorality and hateful [to Allāh] and was evil as a way.

২২. তোমাদের বাপ-দাদার স্ত্রীদেরকে তোমরা বিবাহ করো না। কারণ, এটি একটি হারাম কাজ। তবে ইসলাম পূর্ব বিষয় ধর্তব্য নয়। কারণ, ছেলেরা বাপ-দাদার স্ত্রীদেরকে বিবাহ করা একটি মহা বিশ্রী কাÐ, এর কর্তা আল্লাহর রোষানলে পতিত হওয়ার বিশেষ কারণ ও এ পথে চলা ব্যক্তির জন্য এটি একটি নিকৃষ্ট পথ।

4:23Page 81

حُرِّمَتۡ عَلَيۡكُمۡ أُمَّهَٰتُكُمۡ وَبَنَاتُكُمۡ وَأَخَوَٰتُكُمۡ وَعَمَّٰتُكُمۡ وَخَٰلَٰتُكُمۡ وَبَنَاتُ ٱلۡأَخِ وَبَنَاتُ ٱلۡأُخۡتِ وَأُمَّهَٰتُكُمُ ٱلَّٰتِيٓ أَرۡضَعۡنَكُمۡ وَأَخَوَٰتُكُم مِّنَ ٱلرَّضَٰعَةِ وَأُمَّهَٰتُ نِسَآئِكُمۡ وَرَبَٰٓئِبُكُمُ ٱلَّٰتِي فِي حُجُورِكُم مِّن نِّسَآئِكُمُ ٱلَّٰتِي دَخَلۡتُم بِهِنَّ فَإِن لَّمۡ تَكُونُواْ دَخَلۡتُم بِهِنَّ فَلَا جُنَاحَ عَلَيۡكُمۡ وَحَلَٰٓئِلُ أَبۡنَآئِكُمُ ٱلَّذِينَ مِنۡ أَصۡلَٰبِكُمۡ وَأَن تَجۡمَعُواْ بَيۡنَ ٱلۡأُخۡتَيۡنِ إِلَّا مَا قَدۡ سَلَفَۗ إِنَّ ٱللَّهَ كَانَ غَفُورٗا رَّحِيمٗا ٢٣

Prohibited to you [for marriage] are your mothers, your daughters, your sisters, your father's sisters, your mother's sisters, your brother's daughters, your sister's daughters, your [milk] mothers who nursed you, your sisters through nursing, your wives' mothers, and your step-daughters under your guardianship [born] of your wives unto whom you have gone in. But if you have not gone in unto them, there is no sin upon you. And [also prohibited are] the wives of your sons who are from your [own] loins, and that you take [in marriage] two sisters simultaneously, except for what has already occurred.1 Indeed, Allāh is ever Forgiving and Merciful.

২৩. আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের উপর হারাম করে দিয়েছেন তোমাদের মা-নানীদেরকে বিবাহ করা; তারা যতো উপরেরই হোক না কেন। তথা মায়ের মা ও তার নানী। চাই তা বাপের পক্ষ থেকে হোক কিংবা মায়ের পক্ষ থেকে। তোমাদের মেয়েদেরকে; তারা যতো নিচেরই হোক না কেন। তথা মেয়ে ও মেয়ের মেয়ে। তেমনিভাবে ছেলের মেয়ে ও মেয়ের মেয়ে; তারা যতো নিচেরই হোক না কেন। তোমাদের বোনদেরকে; চাই তারা মাতা-পিতা উভয়ের পক্ষ থেকে হোক অথবা কোন একজনের পক্ষ থেকে। তোমাদের ফুফীদেরকে তেমনিভাবে তোমাদের বাপ-দাদা ও মা-নানীদের ফুফীদেরকেও; তারা যতো উপরেরই হোক না কেন। তোমাদের খালাদেরকে; তেমনিভাবে তোমাদের মা-নানী ও বাপ-দাদাদের খালাদেরকেও; তারা যতো উপরেরই হোক না কেন। তোমাদের ভাই ও বোনের মেয়েদেরকে এবং তাদের সন্তানদেরকে; তারা যতো নিচেরই হোক না কেন। তোমাদের দুধ মা এবং তোমাদের দুধ বোনদেরকে। তোমাদের স্ত্রীদের মায়েদেরকে; চাই তোমরা তাদের সাথে সহবাস করো কিংবা নাই করো। তোমাদের স্ত্রীদের অন্যের ঔরসজাত মেয়েদেরকে। যদিও তারা সাধারণত তোমাদের ঘরেই লালিত-পালিত ও বড় হয়েছে। তেমনিভাবে যারা তোমাদের ঘরে লালিত-পালিত হয়নি তারাও। যদি তোমরা তাদের মায়েদের সাথে সহবাস করে থাকো। আর যদি তোমরা তাদের মায়েদের সাথে সহবাস না করে থাকো তাহলে তাদের মেয়েদেরকে বিবাহ করায় তোমাদের কোন অসুবিধে নেই। আরো হারাম করা হয়েছে তোমাদের ঔরসজাত ছেলেদের স্ত্রীদেরকে বিবাহ করা। যদিও তারা এখনো তাদের সাথে সহবাস করেনি। এ বিধানের অধীনে আরো রয়েছে দুধ ছেলেদের স্ত্রীরাও। আরো তোমাদের উপর হারাম করা হয়েছে বংশীয় অথবা দুধপান সম্পর্কীয় দু’ বোনকে একই জনের বিবাহ বন্ধনে একত্রিত করা। তবে জাহিলী যুগে গত হওয়া বিষয় আল্লাহ তা‘আলা ক্ষমা করে দিয়েছেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা তাঁর তাওবাকারী বান্দাদের প্রতি ক্ষমাশীল ও দয়ালু। তেমনিভাবে কোন মহিলা ও তার ফুফী অথবা তার খালাকে একই ব্যক্তির বিবাহ বন্ধনে একত্রিত করা হারাম হওয়ার ব্যাপারটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর সুন্নাত দ্বারা প্রমাণিত।

4:24Page 82

۞ وَٱلۡمُحۡصَنَٰتُ مِنَ ٱلنِّسَآءِ إِلَّا مَا مَلَكَتۡ أَيۡمَٰنُكُمۡۖ كِتَٰبَ ٱللَّهِ عَلَيۡكُمۡۚ وَأُحِلَّ لَكُم مَّا وَرَآءَ ذَٰلِكُمۡ أَن تَبۡتَغُواْ بِأَمۡوَٰلِكُم مُّحۡصِنِينَ غَيۡرَ مُسَٰفِحِينَۚ فَمَا ٱسۡتَمۡتَعۡتُم بِهِۦ مِنۡهُنَّ فَـَٔاتُوهُنَّ أُجُورَهُنَّ فَرِيضَةٗۚ وَلَا جُنَاحَ عَلَيۡكُمۡ فِيمَا تَرَٰضَيۡتُم بِهِۦ مِنۢ بَعۡدِ ٱلۡفَرِيضَةِۚ إِنَّ ٱللَّهَ كَانَ عَلِيمًا حَكِيمٗا ٢٤

And [also prohibited to you are all] married women except those your right hands possess.1 [This is] the decree of Allāh upon you. And lawful to you are [all others] beyond these, [provided] that you seek them [in marriage] with [gifts from] your property, desiring chastity, not unlawful sexual intercourse. So for whatever you enjoy [of marriage] from them, give them their due compensation2 as an obligation. And there is no blame upon you for what you mutually agree to beyond the obligation. Indeed, Allāh is ever Knowing and Wise.

২৪. তেমনিভাবে তিনি তোমাদের উপর বিবাহিতা মহিলাদেরকে বিবাহ করা হারাম করে দিয়েছেন। তবে আল্লাহর পথে জিহাদ করতে গিয়ে বন্দী করার মাধ্যমে তোমরা যাদের মালিক হয়েছো তাদের কথা অবশ্যই ভিন্ন। একটি ঋতু¯্রাবের মাধ্যমে তাদের জরায়ুগুলো খালি প্রমাণিত হওয়ার পর তাদের সাথে সহবাস করা তোমাদের জন্য হালাল। উক্ত বিধানটি পালন করা আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের উপর একেবারেই ফরয করে দিয়েছেন। আর এ ছাড়া অন্যান্য মেয়েদেরকে তিনি তোমাদের জন্য হালাল করে দিয়েছেন। তোমরা ব্যভিচারের ইচ্ছা ছাড়া হালালভাবে নিজেদের সম্পদের মাধ্যমে তাদেরকে বিবাহ করে নিজেদের সাধুতা ও পবিত্রতা রক্ষা করতে পারো। তোমরা বিবাহের মাধ্যমে তাদের কাউকে সম্ভোগ করলে তাদেরকে তাদের মোহরানা দিয়ে দিবে। যা আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের উপর একান্তভাবে ফরয করে দিয়েছেন। তোমরা বাধ্যতামূলক মোহরানাটুকু নির্ধারণের পর পরস্পরের সম্মতিতে তাতে কম-বেশি করাতে তোমাদের কোন পাপ নেই। নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা তাঁর সৃষ্টি সম্পর্কে সম্যক অবগত। তাদের কোন কিছুই তাঁর নিকট লুক্কায়িত নয়। তিনি তাঁর শরীয়ত নির্ধারণ ও পরিচালনায় অত্যন্ত প্রজ্ঞাময়।

Text: Quranic Universal Library (Tarteel), via spa5k/tafsir_api (MIT), at a fixed version. The ayahs: Quran Foundation. Sources and licences

Contents

Ayat al-Kursi36Al-Kahfpage 42juz 15Bukhari 1Muslim 2999

Style

Theme
Text size
Layout

Читать на русском