Al-MukhtasarAl‑Anfal · 8:1–36

Al-Mukhtasar · Tafsir · in Bangla

الأنفال

Al-Anfal

The Spoils of War · Medinan · 75 ayahs

8:1Page 177

يَسۡـَٔلُونَكَ عَنِ ٱلۡأَنفَالِۖ قُلِ ٱلۡأَنفَالُ لِلَّهِ وَٱلرَّسُولِۖ فَٱتَّقُواْ ٱللَّهَ وَأَصۡلِحُواْ ذَاتَ بَيۡنِكُمۡۖ وَأَطِيعُواْ ٱللَّهَ وَرَسُولَهُۥٓ إِن كُنتُم مُّؤۡمِنِينَ ١

They ask you, [O Muḥammad], about the bounties [of war]. Say, "The [decision concerning] bounties is for Allāh and the Messenger." So fear Allāh and amend that which is between you and obey Allāh and His Messenger, if you should be believers.

১. হে রাসূল! আপনার সাথীরা আপনাকে যুদ্ধলব্ধ সম্পদ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবে সেটির বন্টন কী ধরনের হবে? এবং কারা কারা সে সম্পদের অধিকারী হবে? হে রাসূল! আপনি তাদের প্রশ্নের উত্তরে বলুন: যুদ্ধলব্ধ সম্পদগুলো আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের জন্য। এর বন্টন ও ব্যবহারের ক্ষমতা কেবল আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের জন্যই। তোমাদের কাজ হবে শুধু তা মেনে নেয়া ও তার সামনে মাথা নত করা। হে মু’মিনরা! তোমরা আল্লাহর আদেশ-নিষেধ মেনে তাঁকেই ভয় করো। আর তোমাদের নিজেদের পারস্পরিক সম্পর্ককে বিনষ্ট না করে ভালোবাসা, পারস্পরিক যোগাযোগ, সচ্চরিত্র ও ক্ষমার মাধ্যমে দৃঢ় ও মজবুত করার চেষ্টা করো। তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্যকে আঁকড়ে ধরো যদি তোমরা সত্যিকারার্থে মু’মিন হয়ে থাকো। কারণ, ঈমান বস্তুতঃ আনুগত্যে উৎসাহিত ও গুনাহ থেকে দূরে রাখে। উপরোক্ত প্রশ্নটি মূলতঃ বদরের যুদ্ধের পরপরই করা হয়েছিলো।

8:2Page 177

إِنَّمَا ٱلۡمُؤۡمِنُونَ ٱلَّذِينَ إِذَا ذُكِرَ ٱللَّهُ وَجِلَتۡ قُلُوبُهُمۡ وَإِذَا تُلِيَتۡ عَلَيۡهِمۡ ءَايَٰتُهُۥ زَادَتۡهُمۡ إِيمَٰنٗا وَعَلَىٰ رَبِّهِمۡ يَتَوَكَّلُونَ ٢

The believers are only those who, when Allāh is mentioned, their hearts become fearful, and when His verses are recited to them, it increases them in faith; and upon their Lord they rely -

২. সত্যিকার ঈমানদার ওরা যাদের সামনে আল্লাহকে স্মরণ করা হলে তাদের অন্তরগুলো ভয়ে কেঁপে উঠে অতঃপর তাদের হৃদয় ও শরীর আনুগত্যের জন্য তৈরি হয়ে যায়। যখন তাদের নিকট আল্লাহর আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করা হয় তখন তারা সেগুলোকে নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করে। ফলে তাদের ঈমান উত্তরোত্তর বেড়ে যায়। আর তারা নিজেদের কল্যাণের অন্বেষণে এবং অকল্যাণ ও পাপাচার থেকে বাঁচার জন্য একমাত্র তাদের প্রতিপালকের উপরই ভরসা করে থাকে।

8:3Page 177

ٱلَّذِينَ يُقِيمُونَ ٱلصَّلَوٰةَ وَمِمَّا رَزَقۡنَٰهُمۡ يُنفِقُونَ ٣

The ones who establish prayer, and from what We have provided them, they spend.

৩. যারা সময় মতো পরিপূর্ণ পদ্ধতিতে সর্বদা সালাত আদায় করে থাকে। আর আমি তাদেরকে যা রিযিক দিয়েছি তা থেকে বাধ্যতামূলভাবে এবং স্বেচ্ছায় দান করে।

8:4Page 177

أُوْلَٰٓئِكَ هُمُ ٱلۡمُؤۡمِنُونَ حَقّٗاۚ لَّهُمۡ دَرَجَٰتٌ عِندَ رَبِّهِمۡ وَمَغۡفِرَةٞ وَرِزۡقٞ كَرِيمٞ ٤

Those are the believers, truly. For them are degrees [of high position] with their Lord and forgiveness and noble provision.

৪. এ বৈশিষ্ট্যাবলীর অধিকারীরা সত্যিকারার্থেই মু’মিন। কারণ, তাদের মাঝে ঈমান ও ইসলামের প্রকাশ্য গুণাবলীর সমন্বয় ঘটেছে। তাদের প্রতিদান হবে নিজেদের প্রতিপালকের নিকট সুউচ্চ অট্টালিকা, গুনাহের ক্ষমা ও সম্মানজনক রিযিক। যা আল্লাহ তা‘আলা তাদের জন্য নিয়ামত স্বরূপ তৈরি করে রেখেছেন।

8:5Page 177

كَمَآ أَخۡرَجَكَ رَبُّكَ مِنۢ بَيۡتِكَ بِٱلۡحَقِّ وَإِنَّ فَرِيقٗا مِّنَ ٱلۡمُؤۡمِنِينَ لَكَٰرِهُونَ ٥

[It1 is] just as when your Lord brought you out of your home [for the battle of Badr] in truth, while indeed, a party among the believers were unwilling,

৫. যুদ্ধলব্ধ সম্পদের বন্টন নিয়ে তোমাদের মাঝে দ্ব›দ্ব-বিগ্রহের পর আল্লাহ তা‘আলা আপন ক্ষমতা বলে বন্টনের বিষয়টি নিজের ও তদীয় রাসূলের হাতে ন্যস্ত করলেন এভাবেই হে রাসূল! আপনার প্রতিপালক আপনাকে ওহীর মাধ্যমে মদীনা থেকে বের করে মুশরিকদের মুখোমুখী দাঁড় করালেন। অথচ মু’মিনদের একদল লোক তখনো তা দারুনভাবে অপছন্দ করছিলো।

8:6Page 177

يُجَٰدِلُونَكَ فِي ٱلۡحَقِّ بَعۡدَ مَا تَبَيَّنَ كَأَنَّمَا يُسَاقُونَ إِلَى ٱلۡمَوۡتِ وَهُمۡ يَنظُرُونَ ٦

Arguing with you concerning the truth after it had become clear, as if they were being driven toward death while they were looking on.

৬. হে রাসূল! মু’মিনদের এ দলটির নিকট মুশরিকদের সাথে যুদ্ধ অবধারিত হওয়ার ব্যাপারটি সুস্পষ্ট হওয়ার পরও তারা আপনার সাথে ঝগড়া করেছে। যেন এর মাধ্যমে তাদেরকে মৃত্যুর দিকে হাঁকিয়ে নেয়া হচ্ছে আর তারা তা সচক্ষে দেখতে পাচ্ছে। কারণ, তারা যুদ্ধের জন্য বের হওয়াকে কঠিনভাবে অপছন্দ করছিলো। তারা এর জন্য কোনভাবেই প্রস্তুত ছিলো না।

8:7Page 177

وَإِذۡ يَعِدُكُمُ ٱللَّهُ إِحۡدَى ٱلطَّآئِفَتَيۡنِ أَنَّهَا لَكُمۡ وَتَوَدُّونَ أَنَّ غَيۡرَ ذَاتِ ٱلشَّوۡكَةِ تَكُونُ لَكُمۡ وَيُرِيدُ ٱللَّهُ أَن يُحِقَّ ٱلۡحَقَّ بِكَلِمَٰتِهِۦ وَيَقۡطَعَ دَابِرَ ٱلۡكَٰفِرِينَ ٧

[Remember, O believers], when Allāh promised you one of the two groups1 - that it would be yours - and you wished that the unarmed one would be yours. But Allāh intended to establish the truth by His words and to eliminate the disbelievers

৭. হে ঝগড়াকারী মু’মিনরা! তোমরা সে সময়ের কথা স্মরণ করো যখন আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের সাথে এ ওয়াদা করেছেন যে, তিনি অচিরেই তোমাদেরকে মুশরিকদের দু’ দলের কোন একটিকে আয়ত্বে আনার সুযোগ করে দিবেন। একটি ছিলো ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী দল এবং তারা যে সম্পদগুলো বহন করে আনছে। তা তোমরা গনীমত তথা যুদ্ধলব্ধ সম্পদ হিসেবে গ্রহণ করবে। অন্যটি ছিলো যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত দল। যাদের সাথে যুদ্ধ করে তোমরা তাদের উপর জয়লাভ করবে। বস্তুতঃ তোমরা চাচ্ছিলে ব্যবসায়ী দলকে ধরার জন্য। কারণ, যুদ্ধ ছাড়া তাদেরকে আয়ত্ব করা খুবই সহজ। অথচ আল্লাহ তা‘আলা চাচ্ছিলেন তোমাদেরকে যুদ্ধের ময়দানে এনে সত্যকে বাস্তবায়িত করতে। যাতে তোমরা মুশরিকদের নেতাদেরকে হত্যা এবং তাদের অধিকাংশকে বন্দী করতে পারো। ফলে ইসলামের শক্তি জনসমক্ষে প্রকাশ পাবে।

8:8Page 177

لِيُحِقَّ ٱلۡحَقَّ وَيُبۡطِلَ ٱلۡبَٰطِلَ وَلَوۡ كَرِهَ ٱلۡمُجۡرِمُونَ ٨

That He should establish the truth and abolish falsehood, even if the criminals disliked it.

৮. আল্লাহ তা‘আলা তা এ জন্যই করেছেন যেন তিনি ইসলামের সত্যতার ব্যাপারে কিছু প্রমাণ দাঁড় করিয়ে ইসলাম ও মুসলিমদেরকে জনসমক্ষে প্রকাশ করে সত্যের জয় ও মিথ্যার পরাজয়কে নিশ্চিত ও প্রমাণিত করতে পারেন। যদিও মুশরিকরা এমনটি চাচ্ছে না তবুও আল্লাহ তা‘আলা তা অবশ্যই প্রকাশ করবেন।

8:9Page 178

إِذۡ تَسۡتَغِيثُونَ رَبَّكُمۡ فَٱسۡتَجَابَ لَكُمۡ أَنِّي مُمِدُّكُم بِأَلۡفٖ مِّنَ ٱلۡمَلَٰٓئِكَةِ مُرۡدِفِينَ ٩

[Remember] when you were asking help of your Lord, and He answered you, "Indeed, I will reinforce you with a thousand from the angels, following one another."

৯. বদরের দিনের কথা স্মরণ করো যখন তোমরা আল্লাহর কাছ থেকে শত্রæর উপর জয়ের ব্যাপারে সহযোগিতার আবেদন করছিলে তখন আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের দু‘আ কবুল করে এ ঘোষণা দিলেন যে, হে মু’মিনরা! আল্লাহ তা‘আলা তোমাদেরকে এক হাজার ফিরিশতা দিয়ে সাহায্য ও সহযোগিতা করবেন। যারা ধারাবাহিকভাবে একের পর এক আসতে থাকবে।

8:10Page 178

وَمَا جَعَلَهُ ٱللَّهُ إِلَّا بُشۡرَىٰ وَلِتَطۡمَئِنَّ بِهِۦ قُلُوبُكُمۡۚ وَمَا ٱلنَّصۡرُ إِلَّا مِنۡ عِندِ ٱللَّهِۚ إِنَّ ٱللَّهَ عَزِيزٌ حَكِيمٌ ١٠

And Allāh made it not but good tidings and so that your hearts would be assured thereby. And victory is not but from Allāh. Indeed, Allāh is Exalted in Might and Wise.

১০. হে মু’মিনরা! আল্লাহর পক্ষ থেকে ফিরিশতা কর্তৃক তোমাদেরকে সাহায্য করা শুধু তোমাদেরকে এ সুসংবাদ দেয়ার জন্য যে, তিনি তোমাদেরকে শত্রæর উপর বিজয়ী করবেন। আর যেন তোমাদের অন্তরগুলো সাহায্যের দৃঢ় বিশ্বাসে শান্ত হয়ে যায়। বিজয় শুধু সংখ্যাধিক্য ও প্রচুর সরঞ্জামের জন্য নয় বরং তা আল্লাহর কাছ থেকে। নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা নিজ ক্ষমতায় পরাক্রমশালী। তাঁকে কেউ পরাজিত করতে পারে না। তিনি তাঁর শরীয়ত ও তাক্বদীরে অত্যন্ত প্রজ্ঞাময়।

8:11Page 178

إِذۡ يُغَشِّيكُمُ ٱلنُّعَاسَ أَمَنَةٗ مِّنۡهُ وَيُنَزِّلُ عَلَيۡكُم مِّنَ ٱلسَّمَآءِ مَآءٗ لِّيُطَهِّرَكُم بِهِۦ وَيُذۡهِبَ عَنكُمۡ رِجۡزَ ٱلشَّيۡطَٰنِ وَلِيَرۡبِطَ عَلَىٰ قُلُوبِكُمۡ وَيُثَبِّتَ بِهِ ٱلۡأَقۡدَامَ ١١

[Remember] when He overwhelmed you with drowsiness [giving] security from Him and sent down upon you from the sky, rain by which to purify you and remove from you the evil [suggestions] of Satan and to make steadfast your hearts and plant firmly thereby your feet.

১১. হে মু’মিনরা! তোমরা সে সময়ের কথা স্মরণ করো যখন আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের উপর শত্রæর ভয় থেকে নিরাপত্তা স্বরূপ তন্দ্রা ঢেলে দিলেন। তেমনিভাবে তিনি তোমাদেরকে নাপাকী থেকে পবিত্র করতে ও শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে বাঁচাতে এবং তোমাদের অন্তরগুলোকে স্থির রাখতে আকাশ থেকে বৃষ্টি নাযিল করলেন। যাতে যুদ্ধের সময় তোমাদের শরীরগুলোও স্থির থাকে এবং বালুময় জমিনে পাগুলোও দৃঢ় থাকে।

8:12Page 178

إِذۡ يُوحِي رَبُّكَ إِلَى ٱلۡمَلَٰٓئِكَةِ أَنِّي مَعَكُمۡ فَثَبِّتُواْ ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْۚ سَأُلۡقِي فِي قُلُوبِ ٱلَّذِينَ كَفَرُواْ ٱلرُّعۡبَ فَٱضۡرِبُواْ فَوۡقَ ٱلۡأَعۡنَاقِ وَٱضۡرِبُواْ مِنۡهُمۡ كُلَّ بَنَانٖ ١٢

[Remember] when your Lord inspired to the angels, "I am with you, so strengthen those who have believed. I will cast terror into the hearts of those who disbelieved, so strike [them] upon the necks and strike from them every fingertip."1

১২. হে নবী! স্মরণ করুন বদর যুদ্ধে যখন ফিরিশতাগণকে দিয়ে আল্লাহ তা‘আলা মু’মিনদেরকে সহযোগিতা করেছেন তখন আপনার প্রতিপালক তাঁদেরকে এ মর্মে ওহী করলেন যে, হে ফিরিশতারা! আমি সাহায্য-সহযোগিতায় তোমাদের সাথেই রয়েছি। সুতরাং তোমরা শত্রæর সাথে যুদ্ধের ব্যাপারে মু’মিনদের মনোবলকে শক্তিশালী করো। আমি অচিরেই কাফিরদের অন্তরে কঠিন ভয় ঢেলে দেবো। তাই হে মু’মিনরা! তোমরা কাফিরদের ঘাড়ে আঘাত করো যাতে তারা মারা যায়। তেমনিভাবে তোমরা তাদের গিরায় গিরায় আঘাত করো যাতে তারা তোমাদের সাথে যুদ্ধ করতে অক্ষম হয়।

8:13Page 178

ذَٰلِكَ بِأَنَّهُمۡ شَآقُّواْ ٱللَّهَ وَرَسُولَهُۥۚ وَمَن يُشَاقِقِ ٱللَّهَ وَرَسُولَهُۥ فَإِنَّ ٱللَّهَ شَدِيدُ ٱلۡعِقَابِ ١٣

That is because they opposed Allāh and His Messenger. And whoever opposes Allāh and His Messenger - indeed, Allāh is severe in penalty.

১৩. কাফিরদেরকে হত্যা ও তাদের অঙ্গপ্রত্যঙ্গে যে আঘাত করা হলো তা কেবল এ জন্য যে, তারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরোধিতা করেছে। তাদেরকে যা আদেশ করা হয়েছে তা তারা মানেনি এবং তাদেরকে যা থেকে নিষেধ করা হয়েছে তা থেকে তারা বিরত থাকেনি। বস্তুতঃ যে ব্যক্তি এ ব্যাপারে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধাচরণ করবে নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা তাকে দুনিয়াতে হত্যা ও বন্দী এবং পরকালে জাহান্নামের আগুনের মাধ্যমে কঠিন শাস্তি দিবেন।

8:14Page 178

ذَٰلِكُمۡ فَذُوقُوهُ وَأَنَّ لِلۡكَٰفِرِينَ عَذَابَ ٱلنَّارِ ١٤

"That [is yours], so taste it." And indeed for the disbelievers is the punishment of the Fire.

১৪. হে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধাচরণকারীরা! উক্ত শাস্তি তোমাদেরই জন্য। তাই তোমরা দুনিয়ার জীবনে নগদেই এর স্বাদ আস্বাদন করো। আর যদি তোমরা কুফরি ও হঠকারিতার উপর মৃত্যু বরণ করো তাহলে পরকালে তোমাদের জন্য রয়েছে জাহান্নামের কঠিন শাস্তি।

8:15Page 178

يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓاْ إِذَا لَقِيتُمُ ٱلَّذِينَ كَفَرُواْ زَحۡفٗا فَلَا تُوَلُّوهُمُ ٱلۡأَدۡبَارَ ١٥

O you who have believed, when you meet those who disbelieve advancing [in battle], do not turn to them your backs [in flight].

১৫. হে আল্লাহতে বিশ্বাসী ও তাঁর রাসূলের অনুসারী মু’মিনরা! যখন তোমরা যুদ্ধ ক্ষেত্রে একে অপরের খুব কাছাকাছি থেকে মুশরিকদের মুকাবিলা করবে তখন তোমরা কখনো রণে ভঙ্গ দিবে না। পালিয়ে গিয়ে তাদেরকে পৃষ্ঠ প্রদর্শন করবে না। বরং তোমরা তাদের সামনে অটল থাকো এবং তাদের মুকাবিলায় ধৈর্যের পরিচয় দাও। কারণ, আল্লাহ তা‘আলা সাহায্য-সহযোগিতা নিয়ে তোমাদের সাথেই রয়েছেন।

8:16Page 178

وَمَن يُوَلِّهِمۡ يَوۡمَئِذٖ دُبُرَهُۥٓ إِلَّا مُتَحَرِّفٗا لِّقِتَالٍ أَوۡ مُتَحَيِّزًا إِلَىٰ فِئَةٖ فَقَدۡ بَآءَ بِغَضَبٖ مِّنَ ٱللَّهِ وَمَأۡوَىٰهُ جَهَنَّمُۖ وَبِئۡسَ ٱلۡمَصِيرُ ١٦

And whoever turns his back to them on such a day, unless swerving [as a strategy] for war or joining [another] company, has certainly returned with anger [upon him] from Allāh, and his refuge is Hell - and wretched is the destination.

১৬. যে ব্যক্তি পালিয়ে গিয়ে তাদেরকে পৃষ্ঠ প্রদর্শন করলো সে মূলতঃ আল্লাহর রাগ নিয়ে ফিরে আসলো এবং সে তার উপযুক্তও বটে আর পরকালে তার জায়গা হবে জাহান্নাম যা নিকৃষ্টতম গন্তব্য ও নিকৃষ্টতম প্রত্যাবর্তন। তবে কেউ যদি পুনরায় যুদ্ধে ফিরে আসার কৌশল হিসেবে যেমন তাদেরকে পালানোর ভাব দেখিয়ে আবার আক্রমণ করা অথবা সাহায্যের জন্য কোন মুসলিম বাহিনীর সাথে মিলিত হওয়ার উদ্দেশ্যে পৃষ্ঠ প্রদর্শন করে সেটা ভিন্ন কথা।

8:17Page 179

فَلَمۡ تَقۡتُلُوهُمۡ وَلَٰكِنَّ ٱللَّهَ قَتَلَهُمۡۚ وَمَا رَمَيۡتَ إِذۡ رَمَيۡتَ وَلَٰكِنَّ ٱللَّهَ رَمَىٰ وَلِيُبۡلِيَ ٱلۡمُؤۡمِنِينَ مِنۡهُ بَلَآءً حَسَنًاۚ إِنَّ ٱللَّهَ سَمِيعٌ عَلِيمٞ ١٧

And you did not kill them, but it was Allāh who killed them.1 And you threw not, [O Muḥammad], when you threw, but it was Allāh who threw2 that He might test the believers with a good test.3 Indeed, Allāh is Hearing and Knowing.

১৭. হে মু’মিনরা! তোমরা বদরের দিন শুধু নিজেদের শক্তি ও সামর্থ্য দিয়েই মুশরিকদের সাথে যুদ্ধ করোনি। বরং আল্লাহ তা‘আলা তোমাদেরকে এ ব্যাপারে সাহায্য করেছেন। তোমরা তাদেরকে হত্যা করোনি। বরং যেন আল্লাহ তা‘আলাই হত্যা করেছেন। হে নবী! আপনি যখন মুশরিকদের দিকে ধূলি নিক্ষেপ করেছিলেন তখন আপনি তা নিক্ষেপ করেননি বরং যেন আল্লাহ তা‘আলাই তা নিক্ষেপ করেছেন। এমনকি তিনি তা তাদের পর্যন্ত পৌঁছিয়েও দিয়েছেন। আর তা এ জন্য করেছেন, যেন তিনি মু’মিনদের সংখ্যা ও সরঞ্জাম কম থাকা সত্তে¡ও তাদেরকে কাফিরদের উপর বিজয়ী হওয়ার নিয়ামত দিয়ে তাদেরকে পরীক্ষা করতে পারেন। এর ফলে তারা তাঁর কৃতজ্ঞতাও আদায় করতে পারবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের সকল দু‘আ ও সাধারণ কথাগুলো শুনছেন এবং তিনি তোমাদের সকল আমল ও কোন্টিতে তোমাদের কল্যাণ রয়েছে সে সবই জানেন।

8:18Page 179

ذَٰلِكُمۡ وَأَنَّ ٱللَّهَ مُوهِنُ كَيۡدِ ٱلۡكَٰفِرِينَ ١٨

That [is so], and [also] that Allāh will weaken the plot of the disbelievers.

১৮. উক্ত ব্যাপারটি তথা মুশরিকদেরকে হত্যা করা এবং তাদেরকে ধূলি নিক্ষেপের পর তাদের পরাজিত হওয়া ও পৃষ্ঠ প্রদর্শন করে পালিয়ে যাওয়া এবং মু’মিনদেরকে তাদের শত্রæর উপর বিজয়ী করে তাদের প্রতি দয়া করা এ সবই আল্লাহর পক্ষ থেকে। বস্তুতঃ আল্লাহ তা‘আলা কাফিরদের ষড়যন্ত্রকে দুর্বল করে দেন।

8:19Page 179

إِن تَسۡتَفۡتِحُواْ فَقَدۡ جَآءَكُمُ ٱلۡفَتۡحُۖ وَإِن تَنتَهُواْ فَهُوَ خَيۡرٞ لَّكُمۡۖ وَإِن تَعُودُواْ نَعُدۡ وَلَن تُغۡنِيَ عَنكُمۡ فِئَتُكُمۡ شَيۡـٔٗا وَلَوۡ كَثُرَتۡ وَأَنَّ ٱللَّهَ مَعَ ٱلۡمُؤۡمِنِينَ ١٩

If you [disbelievers] seek the decision [i.e., victory] - the decision [i.e., defeat] has come to you. And if you desist [from hostilities], it is best for you; but if you return [to war], We will return, and never will you be availed by your [large] company at all, even if it should increase; and [that is] because Allāh is with the believers.

১৯. হে মুশরিকরা! তোমরা যদি চাও আল্লাহ তা‘আলা তাঁর শাস্তি ও আযাব যালিম ও হঠকারীদের উপর নিপতিত করুক তাহলে তিনি তো তোমাদের উপর তা নিপতিত করেছেন যা তোমরা চেয়েছো। তোমাদের উপর তিনি যা নাযিল করেছেন তা তোমাদের জন্য শাস্তি এবং মুত্তাকীদের জন্য শিক্ষণীয়। যদি তোমরা উক্ত বাসনা থেকে বিরত থাকতে তাহলে তা তোমাদের জন্য অনেক উত্তম হতো। কারণ, তিনি অধিকাংশ সময় তোমাদেরকে অবকাশ দিয়ে থাকেন; তোমাদের থেকে দ্রæত প্রতিশোধ নেন না। তোমরা যদি তা আবার তলব করো অথবা মু’মিনদের সাথে যুদ্ধ করো আমি আবার তোমাদের উপর আযাব নাযিল করবো এবং মু’মিনদেরকে সাহায্য করবো। জেনে রাখো, যদিও তোমরা সংখ্যা ও সরঞ্জামে বেশি এবং মু’মিনরা কম তবুও তোমাদের দল ও সাহায্যকারীরা কখনো তোমাদের কোন উপকারে আসবে না। নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা সাহায্য ও সহযোগিতা নিয়ে মু’মিনদের সাথেই রয়েছেন। বস্তুতঃ যার সাথে আল্লাহ রয়েছেন তাকে কেউ পরাজিত করতে পারে না।

8:20Page 179

يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓاْ أَطِيعُواْ ٱللَّهَ وَرَسُولَهُۥ وَلَا تَوَلَّوۡاْ عَنۡهُ وَأَنتُمۡ تَسۡمَعُونَ ٢٠

O you who have believed, obey Allāh and His Messenger and do not turn from him while you hear [his order].

২০. হে আল্লাহতে বিশ্বাসী ও রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর অনুসারী মু’মিনরা! তোমরা শরীয়তের সকল আদেশ-নিষেধ মেনে চলার মাধ্যমে আল্লাহর আনুগত্য করো এবং তাঁর রাসূলের আনুগত্য করো। তাঁর আদেশ-নিষেধ অমান্য করে কখনো তাঁর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ো না; অথচ আল্লাহর আয়াতগুলো তোমাদের সামনে পড়া হচ্ছে তা তোমরা শুনতে পাচ্ছো।

8:21Page 179

وَلَا تَكُونُواْ كَٱلَّذِينَ قَالُواْ سَمِعۡنَا وَهُمۡ لَا يَسۡمَعُونَ ٢١

And do not be like those who say, "We have heard," while they do not hear.

২১. হে মু’মিনগণ! তোমরা সেই মুনাফিক ও মুশরিকদের মতো হয়ো না যাদের সামনে আল্লাহর আয়াতগুলো পাঠ করে শুনানো হলে তারা বলে: আমরা কুর‘আনের তিলাওয়াত নিজেদের কান দিয়ে শুনেছি। তবে তারা চিন্তা-গবেষণা ও উপদেশ গ্রহণের উদ্দেশ্যে তা শুনে না, তা না হলে তারা তা শুনে উপকৃত হতে পারতো।

8:22Page 179

۞ إِنَّ شَرَّ ٱلدَّوَآبِّ عِندَ ٱللَّهِ ٱلصُّمُّ ٱلۡبُكۡمُ ٱلَّذِينَ لَا يَعۡقِلُونَ ٢٢

Indeed, the worst of living creatures in the sight of Allāh are the deaf and dumb who do not use reason [i.e., the disbelievers].

২২. আল্লাহর নিকট তাঁর জমিনের বুকে বিচরণকারী সর্বনিকৃষ্ট সৃষ্টি হলো সেই বধির যারা গ্রহণের নিয়তে সত্য কথা শুনে না এবং সেই মূক যারা সত্য কথা বলতে পারে না। তারা মূলতঃ আল্লাহর আদেশ-নিষেধ কোন কিছুই বুঝে না।

8:23Page 179

وَلَوۡ عَلِمَ ٱللَّهُ فِيهِمۡ خَيۡرٗا لَّأَسۡمَعَهُمۡۖ وَلَوۡ أَسۡمَعَهُمۡ لَتَوَلَّواْ وَّهُم مُّعۡرِضُونَ ٢٣

Had Allāh known any good in them, He would have made them hear. And if He had made them hear, they would [still] have turned away, while they were refusing.

২৩. আল্লাহ তা‘আলা যদি জানতেন এ মিথ্যারোপকারী মুশরিকদের মাঝে কোন কল্যাণ রয়েছে তাহলে তিনি তাদেরকে লাভজনক কোন কিছু শুনার ব্যবস্থা করে দিতেন এবং তারাও তাঁর কাছ থেকে দলীল ও প্রমাণ বুঝতে পারতো। তবে আল্লাহ তা‘আলা জানেন যে, তাদের মাঝে কোন কল্যাণ নেই। তদুপরি যদি আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে শুনাতেন তাহলেও তারা হঠকারিতাবশতঃ ঈমান থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতো। তারা সেদিকে সামান্য ভ্রƒক্ষেপও করতো না।

8:24Page 179

يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ ٱسۡتَجِيبُواْ لِلَّهِ وَلِلرَّسُولِ إِذَا دَعَاكُمۡ لِمَا يُحۡيِيكُمۡۖ وَٱعۡلَمُوٓاْ أَنَّ ٱللَّهَ يَحُولُ بَيۡنَ ٱلۡمَرۡءِ وَقَلۡبِهِۦ وَأَنَّهُۥٓ إِلَيۡهِ تُحۡشَرُونَ ٢٤

O you who have believed, respond to Allāh and to the Messenger when he calls you to that which gives you life. And know that Allāh intervenes between a man and his heart and that to Him you will be gathered.

২৪. হে আল্লাহতে বিশ্বাসী ও তাঁর রাসূলের অনুসারী মু’মিনরা! তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল যখন তোমাদেরকে সত্যের দিকে ডাকে তখন তাঁদের আদেশ-নিষেধ মানার জন্য তাঁদের ডাকে সাড়া দাও। উপরন্তু তোমরা এ কথায় দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস রেখো যে, নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা সবকিছু করতে সক্ষম। তোমরা সত্য প্রত্যাখ্যানের পর তা আবার গ্রহণ করতে চাইলে তিনি অবশ্যই তোমাদের ও সত্য গ্রহণের মাঝে বাধা সৃষ্টি করতে সক্ষম। তাই তোমরা সত্য গ্রহণে দ্রæত অগ্রসর হও। মনে রেখো, নিশ্চয়ই তোমাদেরকে কিয়ামতের দিন তাঁর কাছেই একত্রিত করা হবে। তখন তিনি তোমাদেরকে দুনিয়ার আমলগুলোর প্রতিদান দিবেন।

8:25Page 179

وَٱتَّقُواْ فِتۡنَةٗ لَّا تُصِيبَنَّ ٱلَّذِينَ ظَلَمُواْ مِنكُمۡ خَآصَّةٗۖ وَٱعۡلَمُوٓاْ أَنَّ ٱللَّهَ شَدِيدُ ٱلۡعِقَابِ ٢٥

And fear a trial1 which will not strike those who have wronged among you exclusively, and know that Allāh is severe in penalty.

২৫. হে মু’মিনগণ! তোমরা সেই আযাবকে ভয় করো যা শুধু পাপীকেই স্পর্শ করবে না। বরং তা পাপী ও পুণ্যবান উভয়কেই স্পর্শ করবে। সেটি হবে তখন যখন যুলুম প্রকাশ্যে করা হবে; অথচ সে অবস্থার পরিবর্তনের কোন চেষ্টা-সাধনা করা হবে না। তাছাড়া তোমরা এ কথায় দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস রেখো যে, নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা পাপীদের কঠিন শাস্তিদাতা। তাই তোমরা তাঁর বিরুদ্ধাচরণকে ভয় করো।

8:26Page 180

وَٱذۡكُرُوٓاْ إِذۡ أَنتُمۡ قَلِيلٞ مُّسۡتَضۡعَفُونَ فِي ٱلۡأَرۡضِ تَخَافُونَ أَن يَتَخَطَّفَكُمُ ٱلنَّاسُ فَـَٔاوَىٰكُمۡ وَأَيَّدَكُم بِنَصۡرِهِۦ وَرَزَقَكُم مِّنَ ٱلطَّيِّبَٰتِ لَعَلَّكُمۡ تَشۡكُرُونَ ٢٦

And remember when you were few and oppressed in the land, fearing that people might abduct you, but He sheltered you, supported you with His victory, and provided you with good things - that you might be grateful.

২৬. হে মু’মিনগণ! তোমরা সে সময়ের কথা স্মরণ করো যখন তোমরা মক্কা এলাকায় সংখ্যায় কম ছিলে, সে এলাকার লোকেরা তোমাদেরকে দুর্বল ভাবতো এবং তোমাদেরকে নির্যাতন করতো। উপরন্তু তোমরা এ ব্যাপারে ভয় পেতে যে, শত্রæরা দ্রæত তোমাদেরকে গ্রাস করে নিবে। অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা তোমাদেরকে মদীনা নামক ঠিকানায় একত্রিত করলেন এবং তিনি তোমাদেরকে যুদ্ধের ক্ষেত্রগুলোতে (যেগুলোর একটি হলো বদর যুদ্ধ) শত্রæর উপর বিজয় দিয়ে শক্তিশালী করেছেন এবং তিনি তোমাদেরকে পবিত্র রিযিক দিয়েছেন। যেগুলোর একটি হলো যুদ্ধলব্ধ সম্পদ যা তোমরা শত্রæদের থেকে হাসিল করেছো। উদ্দেশ্য হলো তোমরা যেন আল্লাহ তা‘আলার নিয়ামতগুলোর কৃতজ্ঞতা আদায় করতে পারো। তোমরা কৃতজ্ঞ হলে তিনি তোমাদেরকে তা আরো বাড়িয়ে দিবেন। সুতরাং তোমরা কখনো সেগুলোর প্রতি অকৃতজ্ঞ হয়ো না। অন্যথায় তিনি তোমাদের থেকে তা ছিনিয়ে নিবেন ও তোমাদেরকে কঠিন শাস্তি দিবেন।

8:27Page 180

يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ لَا تَخُونُواْ ٱللَّهَ وَٱلرَّسُولَ وَتَخُونُوٓاْ أَمَٰنَٰتِكُمۡ وَأَنتُمۡ تَعۡلَمُونَ ٢٧

O you who have believed, do not betray Allāh and the Messenger or betray your trusts while you know [the consequence].

২৭. হে আল্লাহতে বিশ্বাসী ও তাঁর রাসূলের অনুসারী মু’মিনগণ! তোমরা আল্লাহ তা‘আলা ও তাঁর রাসূলের আদেশ-নিষেধ অমান্য করে তাঁদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করো না। তোমাদের নিকট যা কিছু আমানত রাখা হয়েছে তার খিয়ানত করো না। যদি তোমরা এসব কাজে লিপ্ত হও তাহলে বিশ্বাসঘাতকদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে।

8:28Page 180

وَٱعۡلَمُوٓاْ أَنَّمَآ أَمۡوَٰلُكُمۡ وَأَوۡلَٰدُكُمۡ فِتۡنَةٞ وَأَنَّ ٱللَّهَ عِندَهُۥٓ أَجۡرٌ عَظِيمٞ ٢٨

And know that your properties and your children are but a trial and that Allāh has with Him a great reward.

২৮. হে মু’মিনগণ! তোমরা এ কথা জেনে রাখো যে, নিশ্চয়ই তোমাদের সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি আল্লাহ তা‘আলার পক্ষ থেকে কেবল পরীক্ষা মাত্র। তাই কখনো কখনো সেগুলো তোমাদেরকে আখিরাতের আমল করতে বাধা দিবে এবং তোমাদেরকে বিশ্বাসঘাতকতা করতে উৎসাহিত করবে। তোমরা আরো জেনে রাখো যে, নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলার নিকট রয়েছে মহা প্রতিদান। তাই তোমরা সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি এবং সেগুলোর জন্য বিশ্বাসঘাতকতা করতে গিয়ে এ সাওয়াবকে নিজেদের হাতছাড়া করো না।

8:29Page 180

يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓاْ إِن تَتَّقُواْ ٱللَّهَ يَجۡعَل لَّكُمۡ فُرۡقَانٗا وَيُكَفِّرۡ عَنكُمۡ سَيِّـَٔاتِكُمۡ وَيَغۡفِرۡ لَكُمۡۗ وَٱللَّهُ ذُو ٱلۡفَضۡلِ ٱلۡعَظِيمِ ٢٩

O you who have believed, if you fear Allāh, He will grant you a criterion1 and will remove from you your misdeeds and forgive you. And Allāh is the possessor of great bounty.

২৯. হে আল্লাহতে বিশ্বাসী ও তাঁর রাসূলের অনুসারী মু’মিনগণ! তোমরা এ কথা জেনে রাখো যে, সত্যিকারার্থে তোমরা যদি আল্লাহর আদেশ-নিষেধ মেনে তাঁকে ভয় করতে পারো তাহলে তিনি তোমাদেরকে সত্য-মিথ্যার প্রভেদজ্ঞান প্রদান করবেন। ফলে সত্য-মিথ্যা তোমাদের নিকট কখনো মিশ্রিত হবে না। উপরন্তু তিনি তোমাদের কৃত পাপগুলো মুছে দিবেন এবং তোমাদেরকে ক্ষমা করবেন। বস্তুতঃ আল্লাহ তা‘আলা মহান দয়াশীল। তাঁর মহান দয়ার একটি হলো জান্নাত। যা তিনি তাঁর মুত্তাকী বান্দাদের জন্য তৈরি করেছেন।

8:30Page 180

وَإِذۡ يَمۡكُرُ بِكَ ٱلَّذِينَ كَفَرُواْ لِيُثۡبِتُوكَ أَوۡ يَقۡتُلُوكَ أَوۡ يُخۡرِجُوكَۚ وَيَمۡكُرُونَ وَيَمۡكُرُ ٱللَّهُۖ وَٱللَّهُ خَيۡرُ ٱلۡمَٰكِرِينَ ٣٠

And [remember, O Muḥammad], when those who disbelieved plotted against you to restrain you or kill you or evict you [from Makkah]. But they plan, and Allāh plans. And Allāh is the best of planners.

৩০. হে রাসূল! আপনি স্মরণ করুন সে সময়ের কথা যখন মুশরিকরা আপনার সাথে এ ব্যাপারে ষড়যন্ত্র করতে একমত হয়েছে যে, তারা হয়তো বা আপনাকে বন্দী করবে কিংবা আপনাকে হত্যা করবে অথবা তারা আপনাকে নিজ এলাকা থেকে অন্য এলাকায় তাড়িয়ে দিবে। তারা পারলে আপনার সাথে ষড়যন্ত্র করুক। আল্লাহ তা‘আলা অবশ্যই তাদের ষড়যন্ত্রের উত্তর দিবেন। বস্তুতঃ আল্লাহ তা‘আলা কৌশলে যে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। আর তিনি হলেন সর্বোত্তম কৌশলী।

8:31Page 180

وَإِذَا تُتۡلَىٰ عَلَيۡهِمۡ ءَايَٰتُنَا قَالُواْ قَدۡ سَمِعۡنَا لَوۡ نَشَآءُ لَقُلۡنَا مِثۡلَ هَٰذَآ إِنۡ هَٰذَآ إِلَّآ أَسَٰطِيرُ ٱلۡأَوَّلِينَ ٣١

And when Our verses are recited to them, they say, "We have heard. If we willed, we could say [something] like this. This is not but legends of the former peoples."

৩১. যখন তাদের নিকট আমার আয়াতগুলো পড়া হয় তখন তারা সত্যের প্রতি হঠকারিতা দেখিয়ে অহঙ্কার করে বলে: আমরা এরূপ পূর্বেও শুনেছি। আমরা এ কুর‘আনের ন্যায় বলতে চাইলে অবশ্যই বলতে পারবো। আমরা যে কুর‘আন শুনছি, তা মূলতঃ পূর্বসূরীদের মিথ্যা কল্পকাহিনীমাত্র। সুতরাং আমরা এর উপর ঈমান আনবো না।

8:32Page 180

وَإِذۡ قَالُواْ ٱللَّهُمَّ إِن كَانَ هَٰذَا هُوَ ٱلۡحَقَّ مِنۡ عِندِكَ فَأَمۡطِرۡ عَلَيۡنَا حِجَارَةٗ مِّنَ ٱلسَّمَآءِ أَوِ ٱئۡتِنَا بِعَذَابٍ أَلِيمٖ ٣٢

And [remember] when they said, "O Allāh, if this should be the truth from You, then rain down upon us stones from the sky or bring us a painful punishment."

৩২. হে রাসূল! আপনি স্মরণ করুন সে সময়ের কথা যখন মুশরিকরা বললো: হে আল্লাহ! যদি মুহাম্মাদ আনীত বিধান সত্য হয়ে থাকে তাহলে আপনি আমাদেরকে আকাশ থেকে পাথর ফেলে ধ্বংস করে দিন অথবা আমাদেরকে কঠিন শাস্তি দিন। তারা কুর‘আনকে চরমভাবে অস্বীকার করতে গিয়ে এরকম বলেছে।

8:33Page 180

وَمَا كَانَ ٱللَّهُ لِيُعَذِّبَهُمۡ وَأَنتَ فِيهِمۡۚ وَمَا كَانَ ٱللَّهُ مُعَذِّبَهُمۡ وَهُمۡ يَسۡتَغۡفِرُونَ ٣٣

But Allāh would not punish them while you, [O Muḥammad], are among them, and Allāh would not punish them while they seek forgiveness.

৩৩. আল্লাহ তা‘আলা আপনার উপস্থিতিতে আপনার উম্মতকে এমন শাস্তি দিবেন না যে, তাদেরকে একেবারেই মূলোৎপাটন করে দিবেন। চাই তারা আপনাকে মেনে নিক বা না নিক। মূলতঃ তাদের মাঝে আপনার উপস্থিতি তাদের জন্য আমার আযাব থেকে নিরাপত্তা স্বরূপ। তেমনিভাবে আল্লাহ তাদেরকে শাস্তি দিবেন না যতক্ষণ তারা নিজেদের পাপসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকবে।

8:34Page 181

وَمَا لَهُمۡ أَلَّا يُعَذِّبَهُمُ ٱللَّهُ وَهُمۡ يَصُدُّونَ عَنِ ٱلۡمَسۡجِدِ ٱلۡحَرَامِ وَمَا كَانُوٓاْ أَوۡلِيَآءَهُۥٓۚ إِنۡ أَوۡلِيَآؤُهُۥٓ إِلَّا ٱلۡمُتَّقُونَ وَلَٰكِنَّ أَكۡثَرَهُمۡ لَا يَعۡلَمُونَ ٣٤

But why should Allāh not punish them while they obstruct [people] from al-Masjid al-Ḥarām and they were not [fit to be] its guardians? Its [true] guardians are not but the righteous, but most of them do not know.

৩৪. কোন্ জিনিস তাদেরকে আমার শাস্তি থেকে রক্ষা করবে; অথচ তারা এমন কাজে লিপ্ত হয়েছে যা তাদের শাস্তিকে অবধারিত করে। তারা মানুষকে মসজিদে হারামে তাওয়াফ ও সালাত আদায় করতে বাধা দেয়। তদুপরি তারা দাবি করে যে, তারা হলো মূলতঃ আল্লাহর বন্ধু; অথচ তারা আল্লাহর বন্ধু নয়। বস্তুতঃ মুশরিকরা কখনো আল্লাহর বন্ধু হতে পারে না। আল্লাহর বন্ধু শুধু তারাই যারা আল্লাহর আদেশ-নিষেধ মেনে তাঁকে ভয় করে চলে। কিন্তু অধিকাংশ মুশরিক তা বুঝে না।

8:35Page 181

وَمَا كَانَ صَلَاتُهُمۡ عِندَ ٱلۡبَيۡتِ إِلَّا مُكَآءٗ وَتَصۡدِيَةٗۚ فَذُوقُواْ ٱلۡعَذَابَ بِمَا كُنتُمۡ تَكۡفُرُونَ ٣٥

And their prayer at the House [i.e., the Kaʿbah] was not except whistling and handclapping. So taste the punishment for what you disbelieved [i.e., practiced of deviations].

৩৫. মসজিদে হারামের নিকট মুশরিকদের সালাত শুধু শিস ধ্বনি ও হাত তালি দেয়া ছাড়া আর কিছুই নয়। হে মুশরিকরা! তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সাথে কুফরি করার দরুন বদরের দিনে হত্যা ও বন্দী হওয়ার মত শাস্তির স্বাদ আস্বাদন করো।

8:36Page 181

إِنَّ ٱلَّذِينَ كَفَرُواْ يُنفِقُونَ أَمۡوَٰلَهُمۡ لِيَصُدُّواْ عَن سَبِيلِ ٱللَّهِۚ فَسَيُنفِقُونَهَا ثُمَّ تَكُونُ عَلَيۡهِمۡ حَسۡرَةٗ ثُمَّ يُغۡلَبُونَۗ وَٱلَّذِينَ كَفَرُوٓاْ إِلَىٰ جَهَنَّمَ يُحۡشَرُونَ ٣٦

Indeed, those who disbelieve spend their wealth to avert [people] from the way of Allāh. So they will spend it; then it will be for them a [source of] regret; then they will be overcome. And those who have disbelieved - unto Hell they will be gathered.

৩৬. যারা কাফির তারা মূলতঃ নিজেদের সম্পদগুলো মানুষকে আল্লাহর দীন থেকে দূরে সরানোর জন্যই ব্যয় করে। তারা অচিরেই সম্পদগুলো আরো ব্যয় করবে কিন্তু তাদের উদ্দেশ্য কখনো হাসিল হবে না। বরং তাদের এ সম্পদ ব্যয়ের পরিণতি হবে শুধু আপসোস ও লজ্জা। পরিশেষে তারাই পরাজিত হবে আর মু’মিনরা বিজয়ী হবে। বস্তুতঃ যারা আল্লাহর সাথে কুফরি করেছে তাদেরকে কিয়ামতের দিন জাহান্নামের দিকেই হাঁকিয়ে নেয়া হবে। তারা জাহান্নামে প্রবেশ করবে ও অনাদি-অনন্ত কাল সেখানে অবস্থান করবে।

Text: Quranic Universal Library (Tarteel), via spa5k/tafsir_api (MIT), at a fixed version. The ayahs: Quran Foundation. Sources and licences

Contents

Ayat al-Kursi36Al-Kahfpage 42juz 15Bukhari 1Muslim 2999

Style

Theme
Text size
Layout

Читать на русском