Al-Mukhtasar · Tafsir · in Bangla
Al-Isra 17:84–111
17:84Page 290
قُلۡ كُلّٞ يَعۡمَلُ عَلَىٰ شَاكِلَتِهِۦ فَرَبُّكُمۡ أَعۡلَمُ بِمَنۡ هُوَ أَهۡدَىٰ سَبِيلٗا ٨٤
Say, "Each works according to his manner, but your Lord is most knowing of who is best guided in way."
৮৪. হে রাসূল! আপনি বলে দিন: প্রত্যেকটি মানুষ হিদায়েত ও ভ্রষ্টতার ক্ষেত্রে তার অবস্থা অনুযায়ীই আমল করে থাকে। তোমাদের প্রতিপালক সর্বাধিক জানেন কে সত্যের প্রতি হিদায়েতপ্রাপ্ত।
17:85Page 290
وَيَسۡـَٔلُونَكَ عَنِ ٱلرُّوحِۖ قُلِ ٱلرُّوحُ مِنۡ أَمۡرِ رَبِّي وَمَآ أُوتِيتُم مِّنَ ٱلۡعِلۡمِ إِلَّا قَلِيلٗا ٨٥
And they ask you, [O Muḥammad], about the soul. Say, "The soul is of the affair [i.e., concern] of my Lord. And you [i.e., mankind] have not been given of knowledge except a little."
৮৫. হে রাসূল! আহলে কিতাবের কাফিররা রূহের মূল তত্ত¡ সম্পর্কে আপনার নিকট জানতে চাইবে। আপনি তাদেরকে বলুন, রূহের মূল তত্ত¡ সম্পর্কে আল্লাহ ছাড়া আর কেউ জানে না। তোমাদেরকে এবং আল্লাহর সকল সৃষ্টিকে যে জ্ঞান দেয়া হয়েছে তা তাঁর জ্ঞানের সামনে খুবই অতি সামান্য।
17:86Page 290
وَلَئِن شِئۡنَا لَنَذۡهَبَنَّ بِٱلَّذِيٓ أَوۡحَيۡنَآ إِلَيۡكَ ثُمَّ لَا تَجِدُ لَكَ بِهِۦ عَلَيۡنَا وَكِيلًا ٨٦
And if We willed, We could surely do away with that which We revealed to you. Then you would not find for yourself concerning it an advocate against Us.
৮৬. হে রাসূল! আল্লাহর কসম! আমি যদি আপনার নিকট যে ওহী নাযিল করেছি তা মানুষের অন্তর ও কিতাব থেকে মুছে দিতে চাই তাহলে আমি তা করতে পারি। ফলে আপনি কাউকে আপনার সাহায্যকারী পাবেন না যে তা আবারো ফিরিয়ে আনার দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারে।
17:87Page 291
إِلَّا رَحۡمَةٗ مِّن رَّبِّكَۚ إِنَّ فَضۡلَهُۥ كَانَ عَلَيۡكَ كَبِيرٗا ٨٧
Except [We have left it with you] as a mercy from your Lord. Indeed, His favor upon you has ever been great.
৮৭. আপনার প্রতিপালকের দয়ায় আমি তা মুছে দিলাম না। বরং তা আপনার জন্য সংরক্ষিত রাখলাম। নিশ্চয়ই আপনার প্রতিপালকের দয়া আপনার উপর অনেক বড়। কারণ, তিনি আপনাকে রাসূল বানিয়েছেন এবং আপনার মাধ্যমেই নবুওয়াতের সমাপ্তি ঘটিয়েছেন। উপরন্তু আপনার উপর তিনি কুর‘আন নাযিল করেছেন।
17:88Page 291
قُل لَّئِنِ ٱجۡتَمَعَتِ ٱلۡإِنسُ وَٱلۡجِنُّ عَلَىٰٓ أَن يَأۡتُواْ بِمِثۡلِ هَٰذَا ٱلۡقُرۡءَانِ لَا يَأۡتُونَ بِمِثۡلِهِۦ وَلَوۡ كَانَ بَعۡضُهُمۡ لِبَعۡضٖ ظَهِيرٗا ٨٨
Say, "If mankind and the jinn gathered in order to produce the like of this Qur’ān, they could not produce the like of it, even if they were to each other assistants."
৮৮. হে রাসূল! আপনি বলে দিন: যদি সকল মানুষ ও জিন আপনার উপর নাযিলকৃত এ কুর‘আনের ন্যায় আরেকটি কুর‘আন আনার জন্য একত্রিত হয় যার বিষয়বস্তু, বাচনভঙ্গি, বর্ণনশৈলী ও সুন্দর গাঁথুনী একই রকম হবে তারপরও তারা তা কখনোই আনতে পারবে না। যদিও তাদের একজন অন্যের সহযোগী ও সাহায্যকারী হয়।
17:89Page 291
وَلَقَدۡ صَرَّفۡنَا لِلنَّاسِ فِي هَٰذَا ٱلۡقُرۡءَانِ مِن كُلِّ مَثَلٖ فَأَبَىٰٓ أَكۡثَرُ ٱلنَّاسِ إِلَّا كُفُورٗا ٨٩
And We have certainly diversified for the people in this Qur’ān from every [kind of] example, but most of the people refused except disbelief.
৮৯. আমি এ কুর‘আনে মানুষের জন্য সব ধরনের শিক্ষণীয় মাধ্যম তথা উপদেশ, শিক্ষা, আদেশ, নিষেধ ও ঘটনাবলী সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছি। যাতে তারা ঈমান গ্রহণ করে। তবে অধিকাংশ মানুষই এ কুর‘আনকে অস্বীকার ও প্রত্যাখ্যান করেছে।
17:90Page 291
وَقَالُواْ لَن نُّؤۡمِنَ لَكَ حَتَّىٰ تَفۡجُرَ لَنَا مِنَ ٱلۡأَرۡضِ يَنۢبُوعًا ٩٠
And they say, "We will not believe you until you break open for us from the ground a spring
৯০. মুশরিকরা বললো: আমরা কখনোই ঈমান আনবো না যতক্ষণ না আপনি মক্কার জমিন থেকে অবিরাম এক ঝর্ণাধারা বের করে দিবেন যা কখনো শুকিয়ে যাবে না।
17:91Page 291
أَوۡ تَكُونَ لَكَ جَنَّةٞ مِّن نَّخِيلٖ وَعِنَبٖ فَتُفَجِّرَ ٱلۡأَنۡهَٰرَ خِلَٰلَهَا تَفۡجِيرًا ٩١
Or [until] you have a garden of palm trees and grapes and make rivers gush forth within them in force [and abundance]
৯১. অথবা আপনার জন্য অধিক গাছ বিশিষ্ট একটি বাগান হবে যাতে অনেকগুলো নদী প্রবল বেগে প্রবাহিত হবে।
17:92Page 291
أَوۡ تُسۡقِطَ ٱلسَّمَآءَ كَمَا زَعَمۡتَ عَلَيۡنَا كِسَفًا أَوۡ تَأۡتِيَ بِٱللَّهِ وَٱلۡمَلَٰٓئِكَةِ قَبِيلًا ٩٢
Or you make the heaven fall upon us in fragments as you have claimed or you bring Allāh and the angels before [us]
৯২. অথবা আপনার বর্ণানুযায়ী আমাদের উপর শাস্তিস্বরূপ আকাশকে টুকরো টুকরো করে ফেলবেন কিংবা আল্লাহ ও ফিরিশতাগণকে আপনি প্রকাশ্যে নিয়ে আসবেন। যাতে তারা আপনার দাবির বিশুদ্ধতার সাক্ষ্য দিতে পারে।
17:93Page 291
أَوۡ يَكُونَ لَكَ بَيۡتٞ مِّن زُخۡرُفٍ أَوۡ تَرۡقَىٰ فِي ٱلسَّمَآءِ وَلَن نُّؤۡمِنَ لِرُقِيِّكَ حَتَّىٰ تُنَزِّلَ عَلَيۡنَا كِتَٰبٗا نَّقۡرَؤُهُۥۗ قُلۡ سُبۡحَانَ رَبِّي هَلۡ كُنتُ إِلَّا بَشَرٗا رَّسُولٗا ٩٣
Or you have a house of ornament [i.e., gold] or you ascend into the sky. And [even then], we will not believe in your ascension until you bring down to us a book we may read." Say, "Exalted is my Lord! Was I ever but a human messenger?"
৯৩. অথবা আপনার জন্য স্বর্ণ এবং অন্যান্য বস্তু দ্বারা খচিত একটি ঘর হবে কিংবা আপনি আকাশে উঠে যাবেন। আপনি আকাশে উঠে গেলেও আমরা আপনাকে কখনো রাসূল হিসেবে বিশ্বাস করবো না যতক্ষণ না আপনি আল্লাহর কাছ থেকে একটি লিখিত কিতাব নিয়ে আসেন। যাতে আমরা পড়ে দেখবো যে, নিশ্চয়ই আপনি আল্লাহর রাসূল। হে রাসূল! আপনি তাদেরকে বলে দিন: আমি আমার প্রতিপালকের পবিত্রতা বর্ণনা করে বলছি যে, আমি তো কেবল অন্যান্য রাসূলগণের ন্যায় একজন মানব রাসূল মাত্র। ফলে আমি এ জাতীয় কোন কিছু নিজের পক্ষ থেকে আনার ক্ষমতা রাখি না। তাই আমি কীভাবে তোমাদের প্রস্তাবিত বিষয়গুলো নিয়ে আসবো?!
17:94Page 291
وَمَا مَنَعَ ٱلنَّاسَ أَن يُؤۡمِنُوٓاْ إِذۡ جَآءَهُمُ ٱلۡهُدَىٰٓ إِلَّآ أَن قَالُوٓاْ أَبَعَثَ ٱللَّهُ بَشَرٗا رَّسُولٗا ٩٤
And what prevented the people from believing when guidance came to them except that they said, "Has Allāh sent a human messenger?"
৯৪. আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উপর ঈমান আনা এবং রাসূল আনীত বিধানের উপর ঈমান আনার পথে কাফিরদের জন্য এটাই বাধা ছিলো যে, তারা মানব রাসূলকে অস্বীকার করেছে। তারা অস্বীকার করে বললো: আল্লাহ কি আমাদের নিকট একজন মানব রাসূল পাঠিয়েছেন?!
17:95Page 291
قُل لَّوۡ كَانَ فِي ٱلۡأَرۡضِ مَلَٰٓئِكَةٞ يَمۡشُونَ مُطۡمَئِنِّينَ لَنَزَّلۡنَا عَلَيۡهِم مِّنَ ٱلسَّمَآءِ مَلَكٗا رَّسُولٗا ٩٥
Say, "If there were upon the earth angels walking securely,1 We would have sent down to them from the heaven an angel [as a] messenger."
৯৫. হে রাসূল! আপনি তাদের উত্তরে বলুন: যদি জমিনে কোন ফিরিশতা বসবাস করতো এবং তারা সেখানে তোমাদের ন্যায় নিশ্চিন্তে চলাফেরা করতো তাহলে আমি তাদের নিকট তাদের মধ্য থেকেই ফিরিশতা জাতীয় রাসূল পাঠাতাম। কারণ, তখন সেই কেবল তাদেরকে প্রেরিত বস্তু বুঝাতে সক্ষম হতো। তখন তাদের নিকট মানব রাসূল পাঠানোর কোন যুক্তিকতাই থাকতো না। তেমনিভাবে তোমাদেরও একই অবস্থা।
17:96Page 291
قُلۡ كَفَىٰ بِٱللَّهِ شَهِيدَۢا بَيۡنِي وَبَيۡنَكُمۡۚ إِنَّهُۥ كَانَ بِعِبَادِهِۦ خَبِيرَۢا بَصِيرٗا ٩٦
Say, "Sufficient is Allāh as Witness between me and you. Indeed He is ever, concerning His servants, Aware and Seeing."
৯৬. হে রাসূল! আপনি বলে দিন: আমি যে তোমাদের নিকট প্রেরিত রাসূল এবং আমি যে তোমাদেরকে তোমাদের নিকট পৌঁছানোর বস্তুটি পৌঁছিয়ে দিয়েছি এ ব্যাপারে আমি ও তোমাদের মাঝে একমাত্র আল্লাহ তা‘আলাই সাক্ষী হিসেবে যথেষ্ট। নিশ্চয়ই তিনি তাঁর বান্দাদের অবস্থা সম্পর্কে সম্যক অবগত। তাঁর নিকট এগুলোর কোন কিছুই গোপন নয়। তিনি তাদের অন্তরের গোপনীয় ব্যাপারগুলোও দেখেন।
17:97Page 292
وَمَن يَهۡدِ ٱللَّهُ فَهُوَ ٱلۡمُهۡتَدِۖ وَمَن يُضۡلِلۡ فَلَن تَجِدَ لَهُمۡ أَوۡلِيَآءَ مِن دُونِهِۦۖ وَنَحۡشُرُهُمۡ يَوۡمَ ٱلۡقِيَٰمَةِ عَلَىٰ وُجُوهِهِمۡ عُمۡيٗا وَبُكۡمٗا وَصُمّٗاۖ مَّأۡوَىٰهُمۡ جَهَنَّمُۖ كُلَّمَا خَبَتۡ زِدۡنَٰهُمۡ سَعِيرٗا ٩٧
And whoever Allāh guides - he is the [rightly] guided; and whoever He sends astray1 - you will never find for them protectors besides Him, and We will gather them on the Day of Resurrection [fallen] on their faces - blind, dumb and deaf. Their refuge is Hell; every time it subsides, We increase [for] them blazing fire.
৯৭. যাকে আল্লাহ তা‘আলা হিদায়েতের তাওফীক দিয়েছেন সেই সত্যিকারের হিদায়েতপ্রাপ্ত। আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেছেন এবং হিদায়েতের তাওফীক দেননি হে রাসূল! আপনি তাদের জন্য এমন কোন অভিভাবক পাবেন না যারা তাদেরকে সত্যের পথ দেখাবে, তাদেরকে ক্ষতি থেকে বাঁচাবে ও তাদের জন্য কোন উপকার নিয়ে আসবে। বরং আমি তাদেরকে কিয়ামতের দিন এমনভাবে একত্রিত করবো যে, তাদেরকে মুখের ভরে টেনে আনা হবে। তারা তখন কিছুই দেখতে পাবে না, শুনতেও পাবে না এবং বলতেও পারবে না। বরং তাদের আশ্রয়স্থল হবে জাহান্নাম। যখনই তার অগ্নিশিখা একটু করে নিভে আসবে আমি তাকে আরো প্রজ্বলিত করবো।
17:98Page 292
ذَٰلِكَ جَزَآؤُهُم بِأَنَّهُمۡ كَفَرُواْ بِـَٔايَٰتِنَا وَقَالُوٓاْ أَءِذَا كُنَّا عِظَٰمٗا وَرُفَٰتًا أَءِنَّا لَمَبۡعُوثُونَ خَلۡقٗا جَدِيدًا ٩٨
That is their recompense because they disbelieved in Our verses and said, "When we are bones and crumbled particles, will we [truly] be resurrected [in] a new creation?"
৯৮. যে শাস্তি তারা তখন পাবে তা হলো আমার রাসূলের উপর নাযিলকৃত নিদর্শনসমূহের সাথে কুফরি করা এবং পুনরুত্থানকে অসম্ভব ভেবে তাদের এ কথা বলার প্রতিদান যে, আমরা যখন মরে পুরনো হাড় ও ছিন্নভিন্ন টুকরো হয়ে যাবো তখনকি আমাদেরকে নতুন সৃষ্টিরূপে পুনরুত্থিত করা হবে?
17:99Page 292
۞ أَوَلَمۡ يَرَوۡاْ أَنَّ ٱللَّهَ ٱلَّذِي خَلَقَ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلۡأَرۡضَ قَادِرٌ عَلَىٰٓ أَن يَخۡلُقَ مِثۡلَهُمۡ وَجَعَلَ لَهُمۡ أَجَلٗا لَّا رَيۡبَ فِيهِ فَأَبَى ٱلظَّٰلِمُونَ إِلَّا كُفُورٗا ٩٩
Do they not see that Allāh, who created the heavens and earth, is [the one] Able to create the likes of them? And He has appointed for them a term, about which there is no doubt. But the wrongdoers refuse except disbelief.
৯৯. এ পুনরুত্থান অস্বীকারকারীরা কি জানে না যে, নিশ্চয়ই যে আল্লাহ তা‘আলা এতো প্রকাÐ আকাশ ও জমিনকে সৃষ্টি করেছেন তিনি কি তাদের মতো এ ক্ষুদ্র মানুষকে সৃষ্টি করতে সক্ষম নন। কারণ, যিনি প্রকাÐ কোন কিছু সৃষ্টি করতে সক্ষম তিনি তো তার নিচের অন্য সবই করতে সক্ষম। আল্লাহ তা‘আলা তাদের জন্য একটি নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করেছেন যখন তাদের জীবনাবসান ঘটবে। তেমনিভাবে তিনি তাদের পুনরুত্থানের জন্যও একটি সময় নির্ধারণ করেছেন যাতে কোন সন্দেহ নেই। পুনরুত্থানের প্রমাণসমূহ সুস্পষ্ট থাকা সত্তে¡ও মুশরিকরা তা অস্বীকার করেই চলেছে।
17:100Page 292
قُل لَّوۡ أَنتُمۡ تَمۡلِكُونَ خَزَآئِنَ رَحۡمَةِ رَبِّيٓ إِذٗا لَّأَمۡسَكۡتُمۡ خَشۡيَةَ ٱلۡإِنفَاقِۚ وَكَانَ ٱلۡإِنسَٰنُ قَتُورٗا ١٠٠
Say [to them], "If you possessed the depositories of the mercy of my Lord, then you would withhold out of fear of spending." And ever has man been stingy.
১০০. হে রাসূল! আপনি এ মুশরিকদেরকে বলুন যে, যদি তোমরা আমার প্রতিপালকের রহমতের ভাÐারগুলোর মালিক হতে যা কখনো শেষ ও পরিসমাপ্ত হবে না তাহলে তোমরা তা নিঃশেষ হওয়ার ভয়ে খরচ করতে অস্বীকৃতি জানাতে। যাতে তোমরা ফকির না হয়ে যাও। বস্তুতঃ মানুষের স্বভাবই হলো কৃপণ হওয়া। তবে যদি সে মু’মিন হয় তখন সে আল্লাহর সাওয়াবের আশায়ই খরচ করে।
17:101Page 292
وَلَقَدۡ ءَاتَيۡنَا مُوسَىٰ تِسۡعَ ءَايَٰتِۭ بَيِّنَٰتٖۖ فَسۡـَٔلۡ بَنِيٓ إِسۡرَٰٓءِيلَ إِذۡ جَآءَهُمۡ فَقَالَ لَهُۥ فِرۡعَوۡنُ إِنِّي لَأَظُنُّكَ يَٰمُوسَىٰ مَسۡحُورٗا ١٠١
And We had certainly given Moses nine evident signs, so ask the Children of Israel [about] when he came to them and Pharaoh said to him, "Indeed I think, O Moses, that you are affected by magic."
১০১. আমি মূসা (আলাইহিস-সালাম) কে নয়টি সুস্পষ্ট প্রমাণ দিলাম যেগুলো তাঁর সাক্ষ্য প্রদান করে। সেগুলো হলো লাঠি, হাত, দুর্ভিক্ষ, ফল-মূলের ঘাটতি, তুফান, পঙ্গপাল, উকুন, ব্যাঙ ও রক্ত। হে রাসূল! আপনি ইহুদিদেরকে জিজ্ঞাসা করুন যখন মূসা (আলাইহিস-সালাম) তাদের পূর্বপুরুষদের নিকট এ নিদর্শনসমূহ নিয়ে আসলেন তখন ফিরআউন তাঁকে বললো: হে মূসা! আমি তোমাকে নিশ্চয়ই যাদুগ্রস্ত লোক হিসেবে ভাবছি। কারণ, তুমি আশ্চর্য আশ্চর্য ব্যাপারগুলো নিয়ে আসছো।
17:102Page 292
قَالَ لَقَدۡ عَلِمۡتَ مَآ أَنزَلَ هَٰٓؤُلَآءِ إِلَّا رَبُّ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلۡأَرۡضِ بَصَآئِرَ وَإِنِّي لَأَظُنُّكَ يَٰفِرۡعَوۡنُ مَثۡبُورٗا ١٠٢
[Moses] said, "You have already known that none has sent down these [signs] except the Lord of the heavens and the earth as evidence, and indeed I think,1 O Pharaoh, that you are destroyed."
১০২. মূসা (আলাইহিস-সালাম) তার উত্তরে বললেন: হে ফিরআউন! তুমি নিশ্চয়ই এ কথা দৃঢ় বিশ্বাস করো যে, এ নিদর্শনগুলো কেবল আকাশ ও জমিনের প্রতিপালক আল্লাহই নাযিল করেছেন। সেগুলো তিনি তাঁর অসীম ক্ষমতা ও তাঁর রাসূলের সত্যবাদিতার প্রমাণস্বরূপই নাযিল করেছেন। কিন্তু তুমি সেগুলোকে প্রকাশ্যে অস্বীকার করছো। হে ফিরআউন! আমি নিশ্চিত জানি যে, তুমি অবশ্যই ধ্বংসপ্রাপ্ত ও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
17:103Page 292
فَأَرَادَ أَن يَسۡتَفِزَّهُم مِّنَ ٱلۡأَرۡضِ فَأَغۡرَقۡنَٰهُ وَمَن مَّعَهُۥ جَمِيعٗا ١٠٣
So he intended to drive them from the land, but We drowned him and those with him all together.
১০৩. তখন ফিরআউন মূসা (আলাইহিস-সালাম) ও তাঁর সম্প্রদায়কে মিশর থেকে বের করে দিয়ে শাস্তি দিতে চাইলো। ফলে আমি ফিরআউনকে ও তার সাথের সকল সেনাবাহিনীকে ডুবিয়ে ধ্বংস করলাম।
17:104Page 292
وَقُلۡنَا مِنۢ بَعۡدِهِۦ لِبَنِيٓ إِسۡرَٰٓءِيلَ ٱسۡكُنُواْ ٱلۡأَرۡضَ فَإِذَا جَآءَ وَعۡدُ ٱلۡأٓخِرَةِ جِئۡنَا بِكُمۡ لَفِيفٗا ١٠٤
And We said after him [i.e., Pharaoh] to the Children of Israel, "Dwell in the land, and when there comes the promise [i.e., appointment] of the Hereafter, We will bring you forth in [one] gathering."
১০৪. আর আমি ফিরআউন ও তার সেনাবাহিনীকে ধ্বংস করে দিয়ে বনী ইসরাঈলকে বললাম: তোমরা শাম এলাকায় বসবাস করো। যখন কিয়ামতের দিন আসবে তখন আমি তোমাদের সবাইকে হিসাবের জন্য হাশরের মাঠে একত্রিত করবো।
17:105Page 293
وَبِٱلۡحَقِّ أَنزَلۡنَٰهُ وَبِٱلۡحَقِّ نَزَلَۗ وَمَآ أَرۡسَلۡنَٰكَ إِلَّا مُبَشِّرٗا وَنَذِيرٗا ١٠٥
And with the truth We have sent it [i.e., the Qur’ān] down, and with the truth it has descended. And We have not sent you, [O Muḥammad], except as a bringer of good tidings and a warner.
১০৫. আমি এ কুর‘আনকে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর উপর সত্যসহ নাযিল করেছি এবং কোন ধরনের পরিবর্তন ও বিকৃতি ছাড়াই সত্যসহ তাঁর উপর তা নাযিল হয়েছে। হে রাসূল! আমি আপনাকে কেবল মুত্তাকীদের জন্য জান্নাতের সুসংবাদদাতা এবং কাফির ও অবাধ্যদের জন্য জাহান্নামের ভীতি প্রদর্শনকারীরূপেই পাঠিয়েছি।
17:106Page 293
وَقُرۡءَانٗا فَرَقۡنَٰهُ لِتَقۡرَأَهُۥ عَلَى ٱلنَّاسِ عَلَىٰ مُكۡثٖ وَنَزَّلۡنَٰهُ تَنزِيلٗا ١٠٦
And [it is] a Qur’ān which We have separated [by intervals] that you might recite it to the people over a prolonged period. And We have sent it down progressively.
১০৬. আমি এ কুর‘আনকে বিস্তারিত ও সুস্পষ্টভাবে নাযিল করেছি যেন আপনি মানুষদেরকে ধীরে সুস্থে তা পড়ে শুনাতে পারেন। কারণ, তা বুঝা ও চিন্তা করার সহায়ক। আর আমি এটিকে ঘটনা ও পরিস্থিতি অনুসারে একটু একটু করে নাযিল করেছি।
17:107Page 293
قُلۡ ءَامِنُواْ بِهِۦٓ أَوۡ لَا تُؤۡمِنُوٓاْۚ إِنَّ ٱلَّذِينَ أُوتُواْ ٱلۡعِلۡمَ مِن قَبۡلِهِۦٓ إِذَا يُتۡلَىٰ عَلَيۡهِمۡ يَخِرُّونَۤ لِلۡأَذۡقَانِۤ سُجَّدٗاۤ ١٠٧
Say, "Believe in it or do not believe." Indeed, those who were given knowledge before it1 - when it is recited to them, they fall upon their faces in prostration,
১০৭. হে রাসূল! আপনি বলে দিন: তোমরা এর উপর ঈমান আনো। তবে তোমাদের ঈমান এর কোন মর্যাদা বাড়িয়ে দিবে না অথবা তোমরা চাইলে এর উপর ঈমান এনো না। কিন্তু তোমাদের কুফরি এর কোন সম্মান কমিয়ে দিবে না। নিশ্চয়ই যারা পূর্বের আসমানী কিতাবসমূহ পড়েছে এবং ওহী ও নবুওয়াত সম্পর্কে জানে তাদের নিকট যখন কুর‘আন তিলাওয়াত করা হয় তখন তারা আল্লাহর কৃতজ্ঞতার্থে নিজেদেরকে মস্তকাবনত করে সাজদায় পড়ে যায়।
17:108Page 293
وَيَقُولُونَ سُبۡحَٰنَ رَبِّنَآ إِن كَانَ وَعۡدُ رَبِّنَا لَمَفۡعُولٗا ١٠٨
And they say, "Exalted is our Lord! Indeed, the promise of our Lord has been fulfilled."
১০৮. তারা সাজদায় গিয়ে বলে: আমাদের প্রতিপালক ওয়াদা ভঙ্গ করা থেকে পবিত্র। তাই তিনি যে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে রাসূল হিসেবে পাঠানোর ওয়াদা করেছেন তা বাস্তবায়িত হয়েছে। নিশ্চয়ই আমাদের প্রতিপালকের এটা ও অন্যান্য ওয়াদা অবশ্যই বাস্তবায়িত হবে।
17:109Page 293
وَيَخِرُّونَ لِلۡأَذۡقَانِ يَبۡكُونَ وَيَزِيدُهُمۡ خُشُوعٗا۩ ١٠٩
And they fall upon their faces weeping, and it [i.e., the Qur’ān] increases them in humble submission.
১০৯. তারা আল্লাহর জন্য মস্তকাবনত করে সাজদায় পড়ে তাঁর ভয়ে কাঁদতে থাকে। বস্তুতঃ তাদের কুর‘আন শ্রবণ ও তার অর্থসমূহ নিয়ে চিন্তা করা তাদের মাঝে আল্লাহর প্রতি ভক্তি ও ভয় বাড়িয়ে দেয়।
17:110Page 293
قُلِ ٱدۡعُواْ ٱللَّهَ أَوِ ٱدۡعُواْ ٱلرَّحۡمَٰنَۖ أَيّٗا مَّا تَدۡعُواْ فَلَهُ ٱلۡأَسۡمَآءُ ٱلۡحُسۡنَىٰۚ وَلَا تَجۡهَرۡ بِصَلَاتِكَ وَلَا تُخَافِتۡ بِهَا وَٱبۡتَغِ بَيۡنَ ذَٰلِكَ سَبِيلٗا ١١٠
Say, "Call upon Allāh or call upon the Most Merciful [ar-Raḥmān]. Whichever [name] you call - to Him belong the best names." And do not recite [too] loudly in your prayer or [too] quietly but seek between that an [intermediate] way.
১১০. হে রাসূল! যারা ইয়া আল্লাহ! ইয়া রহমান! বলে আহŸান করাকে অস্বীকার করে তাদেরকে আপনি বলুন: আল্লাহ ও রহমান একই সত্তার দু’টি নাম। সুতরাং তোমরা তাঁকে সে দু’টির একটি অথবা তাঁর আরো অন্যান্য নামে ডাকো। কারণ, তাঁর অনেকগুলো সুন্দর সুন্দর নাম রয়েছে। এ দু’টি সেগুলোরই অন্তর্ভুক্ত। অতএব, তোমরা তাঁকে এ দু’টি অথবা অন্যান্য সুন্দর নামে ডাকো। আর আপনি নামাযের কিরাত এতো জোরে পড়বেন না যে মুশরিকরা শুনে ফেলে এবং এতো আস্তে পড়বেন না যে মু’মিনরা শুনতে না পায়। বরং আপনি মধ্যম পন্থা অবলম্বন করুন।
17:111Page 293
وَقُلِ ٱلۡحَمۡدُ لِلَّهِ ٱلَّذِي لَمۡ يَتَّخِذۡ وَلَدٗا وَلَمۡ يَكُن لَّهُۥ شَرِيكٞ فِي ٱلۡمُلۡكِ وَلَمۡ يَكُن لَّهُۥ وَلِيّٞ مِّنَ ٱلذُّلِّۖ وَكَبِّرۡهُ تَكۡبِيرَۢا ١١١
And say, "Praise to Allāh, who has not taken a son and has had no partner in [His] dominion and has no [need of a] protector out of weakness; and glorify Him with [great] glorification."
১১১. হে রাসূল! আপনি বলুন: সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি মূলতঃ সকল প্রশংসারই উপযুক্ত। যিনি সন্তান ও শরীক থেকে পবিত্র। তাঁর ক্ষমতায় কোন শরীক নেই। লাঞ্ছনা ও অবমাননা তাঁকে স্পর্শ করতে পারে না। তাই তাঁর কোন সাহায্যকারীর প্রয়োজন নেই। আপনি তাঁকে বেশি বেশি সম্মান করুন। অতএব, আপনি তাঁর সাথে কোন সন্তান বা ক্ষমতার অংশীদার অথবা কোন সাহায্যকারী ও সহযোগীকে সম্পৃক্ত করবেন না।
Text: Quranic Universal Library (Tarteel), via spa5k/tafsir_api (MIT), at a fixed version. The ayahs: Quran Foundation. Sources and licences