Al-MukhtasarAl‑Baqarah · 2:104–135

Al-Mukhtasar · Tafsir · in Bangla

Al-Baqarah 2:104–135

2:104Page 16

يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ لَا تَقُولُواْ رَٰعِنَا وَقُولُواْ ٱنظُرۡنَا وَٱسۡمَعُواْۗ وَلِلۡكَٰفِرِينَ عَذَابٌ أَلِيمٞ ١٠٤

O you who have believed, say not [to Allāh's Messenger], "Rāʿinā" but say, "Unẓurnā"1 and listen. And for the disbelievers is a painful punishment.

১০৪. আল্লাহ তা‘আলা মু’মিনদেরকে সুন্দর শব্দ চয়নের উপদেশ দিয়ে বলেন: হে ঈমানদারগণ! তোমরা رَاعِنَا তথা “আমাদের অবস্থার কথা চিন্তা করুন” এমন শব্দ বলোনা। কারণ, ইহুদিরা এতে বিকৃতি ঘটিয়ে এর খারাপ অর্থে তথা বোকা ও কথায় জড়তাগ্রস্ত অর্থে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে তা দিয়ে সম্বোধন করে। তাই আল্লাহ তা‘আলা এ ধরনের শব্দ ব্যবহার করতে নিষেধ করেছেন। যাতে তারা এমন সুযোগ না পায়। বরং আল্লাহ তা‘আলা এর পরিবর্তে তাঁর বান্দাদেরকে বলতে বলেছেন: انْظُرْنَا অর্থাৎ আমাদেরকে দেখুন! তথা “একটু অপেক্ষা করুন; আমরা আপনার কথাটুকু বুঝে নেই”। কেননা, এ শব্দটি কোন সমস্যা ছাড়াই দ্ব্যর্থহীনভাবে সঠিক অর্থটি বুঝাচ্ছে। আর কাফিরদের জন্য রয়েছে কঠিন যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।

2:105Page 16

مَّا يَوَدُّ ٱلَّذِينَ كَفَرُواْ مِنۡ أَهۡلِ ٱلۡكِتَٰبِ وَلَا ٱلۡمُشۡرِكِينَ أَن يُنَزَّلَ عَلَيۡكُم مِّنۡ خَيۡرٖ مِّن رَّبِّكُمۡۚ وَٱللَّهُ يَخۡتَصُّ بِرَحۡمَتِهِۦ مَن يَشَآءُۚ وَٱللَّهُ ذُو ٱلۡفَضۡلِ ٱلۡعَظِيمِ ١٠٥

Neither those who disbelieve from the People of the Scripture [i.e., the Jews and Christians] nor the polytheists wish that any good should be sent down to you from your Lord. But Allāh selects for His mercy whom He wills, and Allāh is the possessor of great bounty.

১০৫. কাফিররা তথা আহলে কিতাব ও মুশরিকরা কেউই চায় না যে, তোমাদের উপর আল্লাহর পক্ষ থেকে কোন কল্যাণ নাযিল হোক। কম-বেশি যাই হোক না কেন। তবে আল্লাহ তা‘আলা তাঁর রহমত তথা নবুওয়াত, ওহী ও ঈমান দিয়ে যাকে ইচ্ছা তাকেই বিশেষায়িত করে থাকেন। কারণ, তিনিই হলেন মহান অনুকম্পাশীল। তাঁর ইচ্ছা ব্যতিরেকে কোন সৃষ্টির নিকট কোন প্রকার কল্যাণ পৌঁছাতে পারে না। তাঁর নিজ অনুগ্রহেই তিনি রাসূল পাঠিয়েছেন এবং কিতাব নাযিল করেছেন।

2:106Page 17

۞ مَا نَنسَخۡ مِنۡ ءَايَةٍ أَوۡ نُنسِهَا نَأۡتِ بِخَيۡرٖ مِّنۡهَآ أَوۡ مِثۡلِهَآۗ أَلَمۡ تَعۡلَمۡ أَنَّ ٱللَّهَ عَلَىٰ كُلِّ شَيۡءٖ قَدِيرٌ ١٠٦

We do not abrogate a verse or cause it to be forgotten except that We bring forth [one] better than it or similar to it. Do you not know that Allāh is over all things competent?

১০৬. আল্লাহ তা‘আলা বলছেন, তিনি যখনই কোন আয়াতের বিধান রহিত করেন কিংবা তার শব্দ উঠিয়ে দেন তথা মানুষকে তা ভুলিয়ে দেন তখনই তিনি উভয় জাহানের জন্য অতি লাভজনক এমন কিছু নিয়ে আসেন অথবা তার সমপর্যায়ের কোন কিছু নিয়ে আসেন। আর এটি হচ্ছে তাঁর জ্ঞান ও প্রজ্ঞার ভিত্তিতে। হে নবী! আপনি তো জানেনই, নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা সর্ব বিষয়ে শক্তিমান। তিনি যা চান তাই করেন। আর যা চান তাই আদেশ করেন।

2:107Page 17

أَلَمۡ تَعۡلَمۡ أَنَّ ٱللَّهَ لَهُۥ مُلۡكُ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلۡأَرۡضِۗ وَمَا لَكُم مِّن دُونِ ٱللَّهِ مِن وَلِيّٖ وَلَا نَصِيرٍ ١٠٧

Do you not know that to Allāh belongs the dominion of the heavens and the earth and [that] you have not besides Allāh any protector or any helper?

১০৭. হে নবী! আপনি তো জানেনই, নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা আকাশ ও জমিনের মালিক। তিনি যা চান তাই ফায়সালা করেন। তিনি যা চান তাঁর বান্দাদেরকে তাই আদেশ করেন। আর যা চান তা থেকে তাদেরকে নিষেধ করেন। তিনি শরীয়তের যা রাখতে চান তাই রাখেন। আর যা রহিত করতে চান তাই রহিত করেন। আল্লাহ ছাড়া তোমাদের এমন কোন অভিভাবক নেই যে তোমাদের ব্যাপারগুলো তত্ত¡াবধান করবে। আর এমন কোন সাহায্যকারী নেই যে তোমাদের সমস্যা দূর করবে। বরং আল্লাহই তোমাদের সব বিষয়ের একমাত্র সক্ষম অভিভাবক।

2:108Page 17

أَمۡ تُرِيدُونَ أَن تَسۡـَٔلُواْ رَسُولَكُمۡ كَمَا سُئِلَ مُوسَىٰ مِن قَبۡلُۗ وَمَن يَتَبَدَّلِ ٱلۡكُفۡرَ بِٱلۡإِيمَٰنِ فَقَدۡ ضَلَّ سَوَآءَ ٱلسَّبِيلِ ١٠٨

Or do you intend to ask1 your Messenger as Moses was asked before? And whoever exchanges faith for disbelief has certainly strayed from the soundness of the way.

১০৮. হে মু’মিনরা! তোমাদের স্বভাব এমন হওয়া উচিত নয় যে, তোমরা নিজেদের রাসূলের নিকট অবাস্তব এমন কিছু প্রশ্ন করবে যেমনিভাবে মূসা (আলাইহিস-সালাম) এর সম্প্রদায় তাঁকে প্রশ্ন করেছিলো। যেমন: তারা বলেছিলো: “আপনি আমাদেরকে সরাসরি আল্লাহর সাক্ষাৎ দিন” (নিসা: ১৫৩)। বস্তুতঃ যে ঈমানের পরিবর্তে কুফরিকে গ্রহণ করবে সে মধ্যম পন্থা তথা সোজা রাস্তা থেকে দূরে সরে যাবে।

2:109Page 17

وَدَّ كَثِيرٞ مِّنۡ أَهۡلِ ٱلۡكِتَٰبِ لَوۡ يَرُدُّونَكُم مِّنۢ بَعۡدِ إِيمَٰنِكُمۡ كُفَّارًا حَسَدٗا مِّنۡ عِندِ أَنفُسِهِم مِّنۢ بَعۡدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُمُ ٱلۡحَقُّۖ فَٱعۡفُواْ وَٱصۡفَحُواْ حَتَّىٰ يَأۡتِيَ ٱللَّهُ بِأَمۡرِهِۦٓۗ إِنَّ ٱللَّهَ عَلَىٰ كُلِّ شَيۡءٖ قَدِيرٞ ١٠٩

Many of the People of the Scripture wish they could turn you back to disbelief after you have believed, out of envy from themselves [even] after the truth has become clear to them. So pardon and overlook until Allāh delivers His command. Indeed, Allāh is over all things competent.

১০৯. ইহুদি ও খ্রিস্টানদের অনেকেই হিংসাবশতঃ এ আশা করে যে, যেন তারা তোমাদেরকে ঈমান আনার পর আবার কুফরির দিকে ফিরিয়ে নিতে পারে। যেমন তোমরা ইতিপূর্বে মূর্তিপূজা করেছিলে। তারা এটি আশা করছে; অথচ তারা এ কথা সুস্পষ্টভাবে জানে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহর পক্ষ থেকে যা নিয়ে এসেছেন তা নিশ্চিত সত্য। অতএব, হে মু’মিনরা! তোমরা তাদের এ কর্মকাÐকে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখে যাও এবং তাদের এ মূর্খতা ও নিকৃষ্ট চিন্তার প্রতি সামান্যও ভ্রƒক্ষেপ করো না যতক্ষণ না তাদের ব্যাপারে আল্লাহর ফায়সালা নেমে আসে। যাহোক, তাদের ব্যাপারে ইতিমধ্যে আল্লাহর বিধান নেমে এসেছে। আল্লাহর এ আদেশ ও ফায়সালা আসার পর একজন কাফিরকে এখতিয়ার দেয়া হয়েছে যে, সে ইসলাম গ্রহণ করবে, না হয় জিযয়াহ কর দিবে, আর না হয় তার সাথে যুদ্ধ চলবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা সবকিছুর উপর ক্ষমতাশীল। তাদের কেউ তাঁকে পরাজিত করতে পারে না।

2:110Page 17

وَأَقِيمُواْ ٱلصَّلَوٰةَ وَءَاتُواْ ٱلزَّكَوٰةَۚ وَمَا تُقَدِّمُواْ لِأَنفُسِكُم مِّنۡ خَيۡرٖ تَجِدُوهُ عِندَ ٱللَّهِۗ إِنَّ ٱللَّهَ بِمَا تَعۡمَلُونَ بَصِيرٞ ١١٠

And establish prayer and give zakāh, and whatever good you put forward for yourselves - you will find it with Allāh. Indeed Allāh, of what you do, is Seeing.

১১০. তোমরা নিজেদের নামাযকে তার রুকন, ওয়াজিব ও সুন্নাতসহ পরিপূর্ণভাবে আদায় করো এবং তোমাদের সম্পদের যাকাত হকদারদেরকে দিয়ে দাও। কেননা, তোমরা নিজেদের জীবদ্দশায় যতো নেক আমল করবে এবং তোমাদের মৃত্যুর পূর্বে জমা হিসেবে পরকালের জন্য যা কিছু পাঠাবে কিয়ামতের দিন সেগুলোর সাওয়াব অবশ্যই তোমরা নিজেদের প্রতিপালকের নিকট পাবে। তা দিয়ে তিনি তোমাদেরকে প্রতিদান দিবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের সকল কর্মকাÐ দেখছেন। তাই তিনি সে অনুযায়ী তোমাদের সকলকে তার আমলের প্রতিদান দিবেন।

2:111Page 17

وَقَالُواْ لَن يَدۡخُلَ ٱلۡجَنَّةَ إِلَّا مَن كَانَ هُودًا أَوۡ نَصَٰرَىٰۗ تِلۡكَ أَمَانِيُّهُمۡۗ قُلۡ هَاتُواْ بُرۡهَٰنَكُمۡ إِن كُنتُمۡ صَٰدِقِينَ ١١١

And they say, "None will enter Paradise except one who is a Jew or a Christian." That is [merely] their wishful thinking. Say, "Produce your proof, if you should be truthful."

১১১. ইহুদি ও খ্রিস্টানদের সকলেই এ কথা বলে যে, জান্নাত শুধু তাদেরই জন্য। ইহুদিরা বলে: ইহুদি ছাড়া আর কেউই জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। খ্রিস্টানরাও বলে: খ্রিস্টান ছাড়া আর কেউই জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। এগুলো মূলতঃ তাদের অলীক স্বপ্ন ও অমূলক ধারণা। হে নবী! আপনি বলে দিন, যদি তোমরা নিজেদের দাবিতে সত্যবাদী হয়ে থাকো তাহলে তার প্রমাণ নিয়ে আসো।

2:112Page 17

بَلَىٰۚ مَنۡ أَسۡلَمَ وَجۡهَهُۥ لِلَّهِ وَهُوَ مُحۡسِنٞ فَلَهُۥٓ أَجۡرُهُۥ عِندَ رَبِّهِۦ وَلَا خَوۡفٌ عَلَيۡهِمۡ وَلَا هُمۡ يَحۡزَنُونَ ١١٢

Yes, [on the contrary], whoever submits his face [i.e., self] in Islām to Allāh while being a doer of good will have his reward with his Lord. And no fear will there be concerning them, nor will they grieve.

১১২. বস্তুতঃ জান্নাতে প্রবেশ করবে সে ব্যক্তি যে সত্যিই আল্লাহমুখী ও তাঁর প্রতি নিষ্ঠাবান। উপরন্তু সে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর নিয়ে আসা বিধানের অনুসরণে যথানিয়মে উত্তম পন্থায় ইবাদাত করে যাচ্ছে। এমন লোকই জান্নাতী হবে। সে যে দল-উপদলেরই হোক না কেন। তার প্রতিপালকের নিকট সে অবশ্যই তার আমলের প্রতিদান পাবে। ভবিষ্যত তথা পরকাল নিয়ে তাদের কোন ভয় নেই। অনুরূভাবে দুনিয়ার জীবনের উপরও তাদের কোন দুশ্চিন্তা নেই। এ গুণাবলী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর আগমনের পর কেবল মুসলমানদের মধ্যেই পাওয়া যায়।

2:113Page 18

وَقَالَتِ ٱلۡيَهُودُ لَيۡسَتِ ٱلنَّصَٰرَىٰ عَلَىٰ شَيۡءٖ وَقَالَتِ ٱلنَّصَٰرَىٰ لَيۡسَتِ ٱلۡيَهُودُ عَلَىٰ شَيۡءٖ وَهُمۡ يَتۡلُونَ ٱلۡكِتَٰبَۗ كَذَٰلِكَ قَالَ ٱلَّذِينَ لَا يَعۡلَمُونَ مِثۡلَ قَوۡلِهِمۡۚ فَٱللَّهُ يَحۡكُمُ بَيۡنَهُمۡ يَوۡمَ ٱلۡقِيَٰمَةِ فِيمَا كَانُواْ فِيهِ يَخۡتَلِفُونَ ١١٣

The Jews say, "The Christians have nothing [true] to stand on," and the Christians say, "The Jews have nothing to stand on," although they [both] recite the Scripture. Thus do those who know not [i.e., the polytheists] speak the same as their words. But Allāh will judge between them on the Day of Resurrection concerning that over which they used to differ.

১১৩. ইহুদিরা বলে: খ্রিস্টানরা সঠিক ধর্মের উপর নেই। তেমনিভাবে খ্রিস্টানরা মনে করে ইহুদিরা সঠিক ধর্মের উপর নেই। অথচ তারা সবাই আল্লাহর নাযিলকৃত কিতাব পড়ে। তাতে রয়েছে কোন পার্থক্য ছাড়াই সকল নবীর উপর বিশ্বাস স্থাপন করা। এ কাজে তারা মূলতঃ অজ্ঞ মুশরিকদের ন্যায়। তারাও রাসূলগণ এবং তাঁদের উপর নাযিলকৃত কিতাবকে অস্বীকার করেছে। আল্লাহ তা‘আলা কিয়ামতের দিন এ সকল বিবদমান সম্প্রদায়ের মাঝে ন্যায় ভিত্তিক ফায়সালা করবেন। তিনি তাঁর বান্দাদেরকে এ কথা জানিয়ে দিয়েছেন যে, আল্লাহর পুরো বিধানকে মানা ছাড়া কখনো সফলতা মিলবে না।

2:114Page 18

وَمَنۡ أَظۡلَمُ مِمَّن مَّنَعَ مَسَٰجِدَ ٱللَّهِ أَن يُذۡكَرَ فِيهَا ٱسۡمُهُۥ وَسَعَىٰ فِي خَرَابِهَآۚ أُوْلَٰٓئِكَ مَا كَانَ لَهُمۡ أَن يَدۡخُلُوهَآ إِلَّا خَآئِفِينَۚ لَهُمۡ فِي ٱلدُّنۡيَا خِزۡيٞ وَلَهُمۡ فِي ٱلۡأٓخِرَةِ عَذَابٌ عَظِيمٞ ١١٤

And who are more unjust than those who prevent the name of Allāh from being mentioned [i.e., praised] in His mosques and strive toward their destruction. It is not for them to enter them except in fear. For them in this world is disgrace, and they will have in the Hereafter a great punishment.

১১৪. ওর চেয়ে বড় যালিম আর কে হতে পারে? যে আল্লাহর মসজিদসমূহে তাঁর নাম উচ্চারণ করতে বাধা দেয়। সে তাতে নামায, যিকির ও কুরআন তিলাওয়াত করতে বাধা দেয়। এমনকি সে ওইগুলোতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি এবং ওইগুলো ধ্বংসের জন্য মুখ্য ভ‚মিকা পালন করে থাকে। যাতে সেখানে কেউ ইবাদাত করতে না পারে। সুতরাং যারা মসজিদসমূহ ধ্বংসের পাঁয়তারা করে তারা এসব উপাসনালয়ে প্রবেশের যোগ্যতা রাখে না। তবে ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে প্রবেশ করতে চাইলে তা ভিন্ন কথা। কারণ, তারা কুফরি করছে এবং আল্লাহর মসজিদগুলোতে ইবাদাত করতে বাধা দিচ্ছে। তাদের জন্য দুনিয়াতে রয়েছে মু’মিনদের হাতের লাঞ্ছনা ও অবমাননা। আর পরকালে তো রয়েছেই তাদের জন্য কঠিন শাস্তি। যেহেতু তারা মানুষদেরকে আল্লাহর মসজিদে যেতে বাধা দিয়েছে।

2:115Page 18

وَلِلَّهِ ٱلۡمَشۡرِقُ وَٱلۡمَغۡرِبُۚ فَأَيۡنَمَا تُوَلُّواْ فَثَمَّ وَجۡهُ ٱللَّهِۚ إِنَّ ٱللَّهَ وَٰسِعٌ عَلِيمٞ ١١٥

And to Allāh belongs the east and the west. So wherever you [might] turn, there is the Face1 of Allāh. Indeed, Allāh is all-Encompassing and Knowing.

১১৫. পূর্ব-পশ্চিম ও এতদুভয়ের মধ্যকার সবকিছুরই মালিক হলেন আল্লাহ। তিনি তাঁর বান্দাদেরকে যা চান আদেশ করেন। তাই তোমরা যেদিকেই মূখ ফিরাও না কেন বস্তুতঃ তোমরা আল্লাহর দিকেই মুখ ফিরাচ্ছো। অতএব, তিনি যদি তোমাদেরকে বাইতুল-মাকদিস কিংবা কা’বার দিকে ফিরতে আদেশ করেন অথবা তোমরা কিবলার ব্যাপারে ভুল করে ফেলো কিংবা তোমাদের জন্য কিবলামূখী হওয়া কষ্টকর হয়ে যায় তাহলে তাতে কোন অসুবিধে নেই। কারণ, সকল দিকই তো আল্লাহর। নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা তাঁর রহমত ও করুণার মাধ্যমে তাঁর সকল সৃষ্টিকে ব্যাপৃত করে রেখেছেন। তিনি সকলের নিয়ত ও কর্মকাÐ সম্পর্কে সম্যক অবগত।

2:116Page 18

وَقَالُواْ ٱتَّخَذَ ٱللَّهُ وَلَدٗاۗ سُبۡحَٰنَهُۥۖ بَل لَّهُۥ مَا فِي ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلۡأَرۡضِۖ كُلّٞ لَّهُۥ قَٰنِتُونَ ١١٦

They say, "Allāh has taken a son." Exalted is He!1 Rather, to Him belongs whatever is in the heavens and the earth. All are devoutly obedient to Him,

১১৬. ইহুদি, খ্রিস্টান ও মুশরিকরা বলে: আল্লাহ তা‘আলা নিজের জন্য ছেলে গ্রহণ করেছেন। অথচ তিনি এগুলো থেকে পূত ও পবিত্র। কারণ, তিনি তাঁর সৃষ্টির প্রতি অমুখাপেক্ষী। আর সন্তান সেই নেয় যে তার প্রতি মুখাপেক্ষী। বরং তিনি আকাশ ও জমিনের সবকিছুরই মালিক। সকল সৃষ্টি তাঁরই গোলাম এবং তাঁরই সামনে অবনত। তিনি তাদের ব্যাপারে যা চান তাই করেন।

2:117Page 18

بَدِيعُ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلۡأَرۡضِۖ وَإِذَا قَضَىٰٓ أَمۡرٗا فَإِنَّمَا يَقُولُ لَهُۥ كُن فَيَكُونُ ١١٧

Originator of the heavens and the earth. When He decrees a matter, He only says to it, "Be," and it is.

১১৭. আল্লাহ তা‘আলা আকাশ ও জমিন এবং এতদুভয়ের মাঝে যা কিছু আছে তা সবই বিনা নমুনায় সৃষ্টি করেছেন। তিনি যখন কোন জিনিস বানানোর ইচ্ছা পোষণ করেন এবং সে ব্যাপারে বাস্তব সিদ্ধান্ত নেন তখন তিনি সে জিনিসকে বলেন: “হয়ে যাও”। তখন তা আল্লাহর ইচ্ছা অনুপাতেই হয়ে যায়। তাঁর আদেশ ও ফায়সালা প্রতিরোধ করার কেউ নেই।

2:118Page 18

وَقَالَ ٱلَّذِينَ لَا يَعۡلَمُونَ لَوۡلَا يُكَلِّمُنَا ٱللَّهُ أَوۡ تَأۡتِينَآ ءَايَةٞۗ كَذَٰلِكَ قَالَ ٱلَّذِينَ مِن قَبۡلِهِم مِّثۡلَ قَوۡلِهِمۡۘ تَشَٰبَهَتۡ قُلُوبُهُمۡۗ قَدۡ بَيَّنَّا ٱلۡأٓيَٰتِ لِقَوۡمٖ يُوقِنُونَ ١١٨

Those who do not know say, "Why does Allāh not speak to us or there come to us a sign?" Thus spoke those before them like their words. Their hearts resemble each other. We have shown clearly the signs to a people who are certain [in faith].

১১৮. আহলে কিতাব ও মুশরিকদের মধ্যকার মূর্খরা হঠকারিতা দেখিয়ে বলে: কেন আল্লাহ তা‘আলা আমাদের সাথে প্রকাশ্যে কথা বলেন না অথবা আপনি কেন আমাদের জন্য বিশেষ কোন সুস্পষ্ট নিদর্শন নিয়ে আসেন না? এদের মতোই পূর্ববর্তী অস্বীকারকারী সম্প্রদায়ও তাদের রাসূলদেরকে এমন কথাই বলেছে। সময় ও স্থানের ভিন্নতা থাকলেও সবার কথা ও মানসিকতা একই। আমি সত্য বিশ্বাসীদের জন্য নিদর্শনগুলো সুস্পষ্টভাবে বলে দিয়েছি। সত্য সুস্পষ্ট হলে তাদের আর কোন সন্দেহ থাকে না এবং তারা তা গ্রহণ করতে হঠকারিতাও দেখায় না।

2:119Page 18

إِنَّآ أَرۡسَلۡنَٰكَ بِٱلۡحَقِّ بَشِيرٗا وَنَذِيرٗاۖ وَلَا تُسۡـَٔلُ عَنۡ أَصۡحَٰبِ ٱلۡجَحِيمِ ١١٩

Indeed, We have sent you, [O Muḥammad], with the truth as a bringer of good tidings and a warner, and you will not be asked about the companions of Hellfire.

১১৯. হে নবী! আমি আপনাকে সত্য ধর্ম দিয়ে পাঠিয়েছি। যাতে কোন সন্দেহ নেই। যাতে আপনি মু’মিনদেরকে জান্নাতের সুসংবাদ এবং কাফিরদেরকে জাহান্নামের ভীতি প্রদর্শন করতে পারেন। আপনার দায়িত্ব শুধু সুস্পষ্ট প্রচার। আল্লাহ তা‘আলা আপনাকে কখনো বেঈমান জাহান্নামীদের ব্যাপারে জবাবদিহি করবেন না।

2:120Page 19

وَلَن تَرۡضَىٰ عَنكَ ٱلۡيَهُودُ وَلَا ٱلنَّصَٰرَىٰ حَتَّىٰ تَتَّبِعَ مِلَّتَهُمۡۗ قُلۡ إِنَّ هُدَى ٱللَّهِ هُوَ ٱلۡهُدَىٰۗ وَلَئِنِ ٱتَّبَعۡتَ أَهۡوَآءَهُم بَعۡدَ ٱلَّذِي جَآءَكَ مِنَ ٱلۡعِلۡمِ مَا لَكَ مِنَ ٱللَّهِ مِن وَلِيّٖ وَلَا نَصِيرٍ ١٢٠

And never will the Jews and the Christians approve of you until you follow their religion. Say, "Indeed, the guidance of Allāh is the [only] guidance." If you were to follow their desires after what has come to you of knowledge, you would have against Allāh no protector or helper.

১২০. আল্লাহ তা‘আলা তাঁর নবীকে উপদেশ দিয়ে ও সতর্ক করে বলেন: ইহুদি ও খ্রিস্টানরা কখনোই তোমার উপর সন্তুষ্ট হবে না যতক্ষণ না তুমি ইসলামকে ছেড়ে দাও এবং তাদের ধর্মের অনুসরণ করো। সত্য সুস্পষ্ট হওয়ার পর তুমি ও তোমার অনুসারীদের কারো পক্ষ থেকে এমনটি ঘটলে সে আল্লাহর পক্ষ থেকে কোন ধরনের সাহায্য ও সহযোগিতা পাবে না। এটি হলো সত্য প্রত্যাখ্যান করে বাতিলপন্থীদের সাথে তাল মিলানোর ভয়াবহতার সুস্পষ্ট বর্ণনা।

2:121Page 19

ٱلَّذِينَ ءَاتَيۡنَٰهُمُ ٱلۡكِتَٰبَ يَتۡلُونَهُۥ حَقَّ تِلَاوَتِهِۦٓ أُوْلَٰٓئِكَ يُؤۡمِنُونَ بِهِۦۗ وَمَن يَكۡفُرۡ بِهِۦ فَأُوْلَٰٓئِكَ هُمُ ٱلۡخَٰسِرُونَ ١٢١

Those to whom We have given the Book recite it with its true recital.1 They [are the ones who] believe in it. And whoever disbelieves in it - it is they who are the losers.

১২১. কুর‘আনুল-কারীম আহলে কিতাবের একটি গোষ্ঠীর কথা বর্ণনা দিয়ে বলে যে, তারা নিজেদের কাছে থাকা আল্লাহর নাযিলকৃত কিতাবাদির উপর আমল করে। এমনকি তারা সেগুলোকে সত্যিকারার্থেই মানে। এরা এ কিতাবগুলোতে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর নবুওয়াতের সত্যতার ব্যাপারে কিছু আলামত দেখতে পায়। তাই তারা তাঁর প্রতি দ্রæত ঈমান আনে। আর অন্যরা তাদের কুফরির উপর অটল আছে বিধায় তারা সত্যিকারার্থেই ক্ষতিগ্রস্ত।

2:122Page 19

يَٰبَنِيٓ إِسۡرَٰٓءِيلَ ٱذۡكُرُواْ نِعۡمَتِيَ ٱلَّتِيٓ أَنۡعَمۡتُ عَلَيۡكُمۡ وَأَنِّي فَضَّلۡتُكُمۡ عَلَى ٱلۡعَٰلَمِينَ ١٢٢

O Children of Israel, remember My favor which I have bestowed upon you and that I preferred you over the worlds.

১২২. হে বনী ইসরাঈল! তোমরা আমার ধর্মীয় ও জাগতিক সকল নিয়ামতের কথা স্মরণ করো যা আমি তোমাদেরকে দিয়েছি। তেমনিভাবে তোমরা সে কথাও স্মরণ করো যখন আমি তোমাদেরকে নবুওয়াত ও ক্ষমতার মাধ্যমে তোমাদের যুগের সবার উপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছি।

2:123Page 19

وَٱتَّقُواْ يَوۡمٗا لَّا تَجۡزِي نَفۡسٌ عَن نَّفۡسٖ شَيۡـٔٗا وَلَا يُقۡبَلُ مِنۡهَا عَدۡلٞ وَلَا تَنفَعُهَا شَفَٰعَةٞ وَلَا هُمۡ يُنصَرُونَ ١٢٣

And fear a Day when no soul will suffice for another soul1 at all, and no compensation will be accepted from it, nor will any intercession benefit it, nor will they be aided.

১২৩. তোমরা আল্লাহর বিধানাবলীর অনুসরণ ও তাঁর নিষিদ্ধ কর্মকাÐগুলো থেকে দূরে থাকার মাধ্যমে নিজেদের ও কিয়ামতের শাস্তির মাঝে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করো। কারণ, সে দিন কেউ কারো উপকারে আসবে না। না সে দিন কারো পক্ষ থেকে কোন মুক্তিপণ গ্রহণ করা হবে, তা যতো বড়োই হোক না কেন। না সে দিন কারো কোন সুপারিশ কাজে আসবে, সে যতো মর্যাদাশীলই হোক না কেন। না সে দিন আল্লাহ ছাড়া কেউ তার কোন সহযোগিতা করতে পারবে।

2:124Page 19

۞ وَإِذِ ٱبۡتَلَىٰٓ إِبۡرَٰهِـۧمَ رَبُّهُۥ بِكَلِمَٰتٖ فَأَتَمَّهُنَّۖ قَالَ إِنِّي جَاعِلُكَ لِلنَّاسِ إِمَامٗاۖ قَالَ وَمِن ذُرِّيَّتِيۖ قَالَ لَا يَنَالُ عَهۡدِي ٱلظَّٰلِمِينَ ١٢٤

And [mention, O Muḥammad], when Abraham was tried by his Lord with words [i.e., commands] and he fulfilled them. [Allāh] said, "Indeed, I will make you a leader for the people." [Abraham] said, "And of my descendants?" [Allāh] said, "My covenant does not include the wrongdoers."

১২৪. তুমি স্মরণ করো সে সময়ের কথা যখন আল্লাহ তা‘আলা ইব্রাহীম (আলাইহিস-সালাম) কে পরীক্ষা করলেন তাঁর কিছু বিধানের মাধ্যমে। যা বাস্তবায়িত করার জন্য তিনি তাঁকে আদেশ করলেন। ফলে তিনি তা পরিপূর্ণভাবেই আদায় করলেন। তখন আল্লাহ তা‘আলা তাঁর নবী ইব্রাহীম (আলাইহিস-সালাম) কে বললেন: আমি তোমাকে মানুষের জন্য আদর্শ বানিয়ে দিলাম। তাই তারা কথায় ও কাজে তোমারই অনুসরণ করবে। ইব্রাহীম (আলাইহিস-সালাম) বললেন: হে আমার প্রতিপালক! আপনি আমার বংশ থেকেও কিছু লোককে নেতৃস্থানীয় বানিয়ে দিন। যাদের অনুসরণ মানুষ করবে। তখন আল্লাহ তা‘আলা এর উত্তরে বললেন: আমার পক্ষ থেকে ধর্মীয় নেতৃত্বের ব্যাপারে কৃত ওয়াদা কিন্তু তোমার বংশের যালিমদের ভাগ্যে জুটবে না।

2:125Page 19

وَإِذۡ جَعَلۡنَا ٱلۡبَيۡتَ مَثَابَةٗ لِّلنَّاسِ وَأَمۡنٗا وَٱتَّخِذُواْ مِن مَّقَامِ إِبۡرَٰهِـۧمَ مُصَلّٗىۖ وَعَهِدۡنَآ إِلَىٰٓ إِبۡرَٰهِـۧمَ وَإِسۡمَٰعِيلَ أَن طَهِّرَا بَيۡتِيَ لِلطَّآئِفِينَ وَٱلۡعَٰكِفِينَ وَٱلرُّكَّعِ ٱلسُّجُودِ ١٢٥

And [mention] when We made the House [i.e., the Kaʿbah] a place of return for the people and [a place of] security. And take, [O believers], from the standing place of Abraham a place of prayer. And We charged Abraham and Ishmael, [saying], "Purify My House for those who perform ṭawāf1 and those who are staying [there] for worship and those who bow and prostrate [in prayer]."

১২৫. তুমি স্মরণ করো সে সময়ের কথা যখন আল্লাহ তা‘আলা বাইতুল্লাহিল-হারামকে মানুষের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করলেন। যার সাথে মানুষের আত্মার সম্পর্ক। যখন তারা তাকে ছেড়ে যায় তখন তারা আবারো তার দিকে ফিরে আসে। তেমনিভাবে তিনি সে এলাকাকে নিরাপদও বানিয়েছেন। যাতে কারো পক্ষ থেকে তাদের উপর কোন ধরনের আক্রমণ করা না হয়। আল্লাহ তা‘আলা মানুষদেরকে বললেন: তোমরা মাকামে ইব্রাহীম তথা যে পাথরের উপর ইব্রাহীম (আলাইহিস-সালাম) কা’বা নির্মাণের সময় দাঁড়িয়েছিলেন সে এলাকাকে নামাযের জায়গা বানিয়ে নাও। আর আমি ইব্রাহীম ও তাঁর ছেলে ইসমাঈলকে আদেশ করলাম বাইতুল্লাহিল-হারামকে সকল প্রকারের ময়লা, অপবিত্রতা ও মূর্তি থেকে পবিত্র করতে। উপরন্তু সে এলাকাকে ইবাদাতকারী তথা তাওয়াফকারী, ই’তিকাফকারী, নামাযী ও অন্যান্যদের জন্য প্রস্তুত রাখতে।

2:126Page 19

وَإِذۡ قَالَ إِبۡرَٰهِـۧمُ رَبِّ ٱجۡعَلۡ هَٰذَا بَلَدًا ءَامِنٗا وَٱرۡزُقۡ أَهۡلَهُۥ مِنَ ٱلثَّمَرَٰتِ مَنۡ ءَامَنَ مِنۡهُم بِٱللَّهِ وَٱلۡيَوۡمِ ٱلۡأٓخِرِۚ قَالَ وَمَن كَفَرَ فَأُمَتِّعُهُۥ قَلِيلٗا ثُمَّ أَضۡطَرُّهُۥٓ إِلَىٰ عَذَابِ ٱلنَّارِۖ وَبِئۡسَ ٱلۡمَصِيرُ ١٢٦

And [mention] when Abraham said, "My Lord, make this a secure city and provide its people with fruits - whoever of them believes in Allāh and the Last Day." [Allāh] said, "And whoever disbelieves - I will grant him enjoyment for a little; then I will force him to the punishment of the Fire, and wretched is the destination."

১২৬. হে নবী! আপনি স্মরণ করুন সে সময়ের কথা যখন ইব্রাহীম (আলাইহিস-সালাম) তাঁর প্রতিপালকের নিকট দু‘আ করতে গিয়ে বলেন: হে আমার প্রতিপালক! আপনি মক্কাকে নিরাপদ শহর বানিয়ে দিন। যাতে কারো প্রতি কোন ধরনের অনাচার করা হবে না। আর আপনি এর অধিবাসীদেরকে হরেক রকমের ফল-ফলাদির রিযিক দিন। বিশেষ করে আপনি নিজের প্রতি ও পরকালের প্রতি বিশ্বাসীদেরকে বিশেষ রিযিক দিন। আল্লাহ তা‘আলা বলেন: আমি এদের মধ্যকার কাফিরদেরকেও সামান্যটুকু দুনিয়া ভোগ করার সুযোগ দেবো। অতঃপর পরকালে তাদেরকে জাহান্নামের আগুনে জ্বলতে বাধ্য করবো। কিয়ামতের দিন তাদের অবস্থানস্থল কতোই না নিকৃষ্ট।

2:127Page 20

وَإِذۡ يَرۡفَعُ إِبۡرَٰهِـۧمُ ٱلۡقَوَاعِدَ مِنَ ٱلۡبَيۡتِ وَإِسۡمَٰعِيلُ رَبَّنَا تَقَبَّلۡ مِنَّآۖ إِنَّكَ أَنتَ ٱلسَّمِيعُ ٱلۡعَلِيمُ ١٢٧

And [mention] when Abraham was raising the foundations of the House and [with him] Ishmael, [saying], "Our Lord, accept [this] from us. Indeed, You are the Hearing,1 the Knowing.2

১২৭. হে নবী! আপনি স্মরণ করুন সে সময়ের কথা যখন ইব্রাহীম ও ইসমাঈল (আলাইহিমাস-সালাম) কা’বা শরীফের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেছেন। তখন তাঁরা বিনয় ও ন¤্রতার সাথে বলেছিলেন: হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি আমাদের পক্ষ থেকে আমাদের সকল আমল বিশেষ করে কা’বা ঘর নির্মাণের মতো আমলটুকু গ্রহণ করুন। নিশ্চয়ই আপনি আমাদের দু‘আ কবুলকারী এবং আমাদের নিয়ত ও আমল সম্পর্কে সম্পূর্ণরূপে জ্ঞাত।

2:128Page 20

رَبَّنَا وَٱجۡعَلۡنَا مُسۡلِمَيۡنِ لَكَ وَمِن ذُرِّيَّتِنَآ أُمَّةٗ مُّسۡلِمَةٗ لَّكَ وَأَرِنَا مَنَاسِكَنَا وَتُبۡ عَلَيۡنَآۖ إِنَّكَ أَنتَ ٱلتَّوَّابُ ٱلرَّحِيمُ ١٢٨

Our Lord, and make us Muslims [in submission] to You and from our descendants a Muslim nation [in submission] to You. And show us our rites [of worship] and accept our repentance. Indeed, You are the Accepting of Repentance, the Merciful.

১২৮. হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি আমাদেরকে আপনার আদেশ মান্যকারী বিনয়ী বানিয়ে দিন। যাতে আমরা আপনার সাথে অন্য কাউকে শরীক না করি। এমনিভাবে আপনি আমাদের বংশধর থেকেও একটি আপনার বাধ্য জাতি তৈরি করুন। উপরন্তু আপনি আমাদেরকে আপনার ইবাদাতের সঠিক পদ্ধতি জানিয়ে দিন। আর আমাদের গুনাহ ও ইবাদাতের ত্রæটিসমূহ ক্ষমা করুন। নিশ্চয়ই আপনি আপনার বান্দাদের মধ্যে তাওবাকারীদের তাওবা গ্রহণকারী ও তাদের প্রতি দয়াশীল।

2:129Page 20

رَبَّنَا وَٱبۡعَثۡ فِيهِمۡ رَسُولٗا مِّنۡهُمۡ يَتۡلُواْ عَلَيۡهِمۡ ءَايَٰتِكَ وَيُعَلِّمُهُمُ ٱلۡكِتَٰبَ وَٱلۡحِكۡمَةَ وَيُزَكِّيهِمۡۖ إِنَّكَ أَنتَ ٱلۡعَزِيزُ ٱلۡحَكِيمُ ١٢٩

Our Lord, and send among them a messenger from themselves who will recite to them Your verses and teach them the Book and wisdom and purify them. Indeed, You are the Exalted in Might,1 the Wise."

১২৯. হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি তাদের মাঝে বিশেষ করে ইসমাঈল (আলাইহিস-সালাম) এর বংশধরদের মাঝে একজন রাসূল পাঠান। যিনি তাদেরকে আপনার নাযিলকৃত আয়াতসমূহ পড়ে শুনাবেন এবং তাদেরকে কুরআন ও সুন্নাহ শিখাবেন। উপরন্তু তিনি তাদেরকে শিরক ও সকল প্রকারের দোষ থেকে মুক্ত করবেন। নিশ্চয়ই আপনি অপরাজেয় শক্তিধর। নিজ কর্ম ও বিধানে প্রজ্ঞাময়।

2:130Page 20

وَمَن يَرۡغَبُ عَن مِّلَّةِ إِبۡرَٰهِـۧمَ إِلَّا مَن سَفِهَ نَفۡسَهُۥۚ وَلَقَدِ ٱصۡطَفَيۡنَٰهُ فِي ٱلدُّنۡيَاۖ وَإِنَّهُۥ فِي ٱلۡأٓخِرَةِ لَمِنَ ٱلصَّٰلِحِينَ ١٣٠

And who would be averse to the religion of Abraham except one who makes a fool of himself. And We had chosen him in this world, and indeed he, in the Hereafter, will be among the righteous.

১৩০. কেউ ইব্রাহীম (আলাইহিস-সালাম) এর ধর্ম ত্যাগ করে অন্য ধর্ম গ্রহণ করতে পারে না। তবে সেই পারে যে মূর্খতা ও নির্বুদ্ধিতার দরুন সত্যের পরিবর্তে ভ্রষ্টতাকে গ্রহণ করে নিজের উপর নিজেই যুলুম করেছে। এমনকি সে এজন্য নিজের লাঞ্ছনাও সহ্য করতে রাজি। নিশ্চয়ই আমি তাঁকে দুনিয়াতে আমার রাসূল ও অন্তরঙ্গ বন্ধু হওয়ার জন্য চয়ন করেছি। আর অবশ্যই তিনি পরকালে নেককারদেরই অন্তর্ভুক্ত হবেন। যাঁরা তাঁদের উপর ন্যস্ত সকল দায়িত্ব পালন করে উচ্চ পর্যায়ে উন্নীত হয়েছেন।

2:131Page 20

إِذۡ قَالَ لَهُۥ رَبُّهُۥٓ أَسۡلِمۡۖ قَالَ أَسۡلَمۡتُ لِرَبِّ ٱلۡعَٰلَمِينَ ١٣١

When his Lord said to him, "Submit," he said, "I have submitted [in Islām]1 to the Lord of the worlds."

১৩১. আত্মসমর্পণের প্রতি তার বিশেষ আগ্রহের কারণে আল্লাহ তা‘আলা তাকে মনোনীত করেছেন। তিনি তাকে বললেন: একনিষ্ঠভাবে আমার ইবাদাত করো এবং আমার আনুগত্যের ব্যাপারে বিনয়ী হও। তখন তিনি তাঁর প্রতিপালকের আদেশের উত্তরে বললেন: আমি সে আল্লাহর আদেশ মানতে বাধ্য যিনি মানুষের ¯্রষ্টা, রিযিকদাতা ও তাদের সমূহ ব্যাপার নিয়ন্ত্রণকারী।

2:132Page 20

وَوَصَّىٰ بِهَآ إِبۡرَٰهِـۧمُ بَنِيهِ وَيَعۡقُوبُ يَٰبَنِيَّ إِنَّ ٱللَّهَ ٱصۡطَفَىٰ لَكُمُ ٱلدِّينَ فَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنتُم مُّسۡلِمُونَ ١٣٢

And Abraham instructed his sons [to do the same] and [so did] Jacob, [saying], "O my sons, indeed Allāh has chosen for you this religion, so do not die except while you are Muslims."

১৩২. এমনকি ইব্রাহীম (আলাইহিস-সালাম) তাঁর সন্তানদেরকেও এ বাক্য (আমি সর্ব জগতের প্রতিপালকের সামনে মস্তকাবনত) বলার ওসিয়ত করেছেন। তেমনিভাবে ইয়াক‚ব (আলাইহিস-সালাম)ও তাঁর সন্তানদেরকে এ বাক্য বলার ওসিয়ত করেছেন। তাঁরা নিজেদের সন্তানদেরকে ডেকে বললেন: নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের জন্য ইসলাম ধর্মকে চয়ন করেছেন। তাই তোমরা সেটিকে আঁকড়ে ধরো যতক্ষণ না প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য তথা সার্বিকভাবে আল্লাহর সামনে অবনত হয়ে তোমাদের মৃত্যু আসে।

2:133Page 20

أَمۡ كُنتُمۡ شُهَدَآءَ إِذۡ حَضَرَ يَعۡقُوبَ ٱلۡمَوۡتُ إِذۡ قَالَ لِبَنِيهِ مَا تَعۡبُدُونَ مِنۢ بَعۡدِيۖ قَالُواْ نَعۡبُدُ إِلَٰهَكَ وَإِلَٰهَ ءَابَآئِكَ إِبۡرَٰهِـۧمَ وَإِسۡمَٰعِيلَ وَإِسۡحَٰقَ إِلَٰهٗا وَٰحِدٗا وَنَحۡنُ لَهُۥ مُسۡلِمُونَ ١٣٣

Or were you witnesses when death approached Jacob, when he said to his sons, "What will you worship after me?" They said, "We will worship your God and the God of your fathers, Abraham and Ishmael and Isaac - one God.1 And we are Muslims [in submission] to Him."

১৩৩. তোমরা কি ইয়াক‚ব (আলাইহিস-সালাম) এর ঘটনার সময় সেখানে উপস্থিত ছিলে যখন তাঁর মৃত্যু ঘনিয়ে আসলো, যখন তিনি তাঁর সন্তানদেরকে জিজ্ঞাসা করলেন: আমার মৃত্যুর পর তোমরা কার ইবাদাত করবে? তারা তাঁর প্রশ্নের উত্তরে বললো: আমরা আপনি ও আপনার বাপ-দাদা তথা ইব্রাহীম, ইসমাঈল ও ইসহাক (আলাইহিমুস-সালাম) এর মা’বূদের ইবাদাত করবো। যিনি একক মা’বূদ। তাঁর কোন শরীক নেই। আর আমরা একনিষ্ঠভাবে তাঁরই সামনে বিনয়াবনত।

2:134Page 20

تِلۡكَ أُمَّةٞ قَدۡ خَلَتۡۖ لَهَا مَا كَسَبَتۡ وَلَكُم مَّا كَسَبۡتُمۡۖ وَلَا تُسۡـَٔلُونَ عَمَّا كَانُواْ يَعۡمَلُونَ ١٣٤

That was a nation which has passed on. It will have [the consequence of] what it earned, and you will have what you have earned. And you will not be asked about what they used to do.

১৩৪. এরা এমন এক জাতি যারা অন্যান্যদের ন্যায় ইতিপূর্বে দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছে। তারা দুনিয়া থেকে যে আমল অগ্রিম পাঠিয়েছে তারা তাই পাবে। তারা ভালো-মন্দ যাই অর্জন করেছে তারা তারই প্রতিদান পাবে। আর তোমরা নিজেদের অর্জনের প্রতিদান পাবে। তোমাদেরকে তাদের আমল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে না। না তাদেরকে তোমাদের আমল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে। কাউকে অন্যের পাপের জন্য কখনোই পাকড়াও করা হবে না। বরং প্রত্যেককে তার আমলেরই প্রতিদান দেয়া হবে। তাই তোমরা নিজেদের পূর্ববর্তীদের কারো আমল নিয়ে ব্যস্ত হয়ে নিজেদের আমলের ব্যাপারে চিন্তা করতে ভুলে যেও না। কারণ, আল্লাহর রহমতের পর নেক আমল ছাড়া কেউ কারোই উপকার করতে পারবে না।

2:135Page 21

وَقَالُواْ كُونُواْ هُودًا أَوۡ نَصَٰرَىٰ تَهۡتَدُواْۗ قُلۡ بَلۡ مِلَّةَ إِبۡرَٰهِـۧمَ حَنِيفٗاۖ وَمَا كَانَ مِنَ ٱلۡمُشۡرِكِينَ ١٣٥

They say, "Be Jews or Christians [so] you will be guided." Say, "Rather, [we follow] the religion of Abraham, inclining toward truth, and he was not of the polytheists."1

১৩৫. ইহুদিরা এ উম্মতকে বলে: তোমরা ইহুদি হয়ে যাও তাহলে তোমরা সঠিক রাস্তার উপর চলতে পারবে। আবার খ্রিস্টানরাও বলে: তোমরা খ্রিস্টান হয়ে যাও তাহলে তোমরা সঠিক রাস্তার উপর চলতে পারবে। হে নবী! আপনি তাদের উত্তরে বলুন: বরং আমরা ইব্রাহীম (আলাইহিস-সালাম) এর ধর্মের অনুসরণ করবো। যিনি বাতিল সকল ধর্ম পরিত্যাগ করে সত্য ধর্মের অনুসারী হয়েছেন। বস্তুতঃ তিনি আল্লাহর সাথে যারা শরীক করে তাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না।

Text: Quranic Universal Library (Tarteel), via spa5k/tafsir_api (MIT), at a fixed version. The ayahs: Quran Foundation. Sources and licences

Contents

Ayat al-Kursi36Al-Kahfpage 42juz 15Bukhari 1Muslim 2999

Style

Theme
Text size
Layout

Читать на русском