Al-MukhtasarAl‑Baqarah · 2:195–220

Al-Mukhtasar · Tafsir · in Bangla

Al-Baqarah 2:195–220

2:195Page 30

وَأَنفِقُواْ فِي سَبِيلِ ٱللَّهِ وَلَا تُلۡقُواْ بِأَيۡدِيكُمۡ إِلَى ٱلتَّهۡلُكَةِ وَأَحۡسِنُوٓاْۚ إِنَّ ٱللَّهَ يُحِبُّ ٱلۡمُحۡسِنِينَ ١٩٥

And spend in the way of Allāh and do not throw [yourselves] with your [own] hands into destruction [by refraining]. And do good; indeed, Allāh loves the doers of good.

১৯৫. আর তোমরা নিজেদের সম্পদ আল্লাহর আনুগত্য তথা জিহাদ ও অনুরূপ ক্ষেত্রে ব্যয় করো। কখনো নিজেদেরকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিয়ো না। অর্থাৎ তোমরা জিহাদ ও জিহাদের পথে সম্পদ ব্যয় করা পরিত্যাগ করো না। এমনিভাবে তোমরা নিজেদেরকে এমন কাজে ঠেলে দিয়ো না যা তোমাদের ধ্বংসের কারণ হবে। তোমরা সুন্দরভাবে নিজেদের ইবাদাত, লেনদেন ও কাজকর্ম চালিয়ে যাও। নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা প্রতিটি ক্ষেত্রে সৎকর্মশীলদেরকেই পছন্দ করেন। তাই তিনি তাদেরকে বেশি সাওয়াব ও সত্যের দিশা দিবেন।

2:196Page 30

وَأَتِمُّواْ ٱلۡحَجَّ وَٱلۡعُمۡرَةَ لِلَّهِۚ فَإِنۡ أُحۡصِرۡتُمۡ فَمَا ٱسۡتَيۡسَرَ مِنَ ٱلۡهَدۡيِۖ وَلَا تَحۡلِقُواْ رُءُوسَكُمۡ حَتَّىٰ يَبۡلُغَ ٱلۡهَدۡيُ مَحِلَّهُۥۚ فَمَن كَانَ مِنكُم مَّرِيضًا أَوۡ بِهِۦٓ أَذٗى مِّن رَّأۡسِهِۦ فَفِدۡيَةٞ مِّن صِيَامٍ أَوۡ صَدَقَةٍ أَوۡ نُسُكٖۚ فَإِذَآ أَمِنتُمۡ فَمَن تَمَتَّعَ بِٱلۡعُمۡرَةِ إِلَى ٱلۡحَجِّ فَمَا ٱسۡتَيۡسَرَ مِنَ ٱلۡهَدۡيِۚ فَمَن لَّمۡ يَجِدۡ فَصِيَامُ ثَلَٰثَةِ أَيَّامٖ فِي ٱلۡحَجِّ وَسَبۡعَةٍ إِذَا رَجَعۡتُمۡۗ تِلۡكَ عَشَرَةٞ كَامِلَةٞۗ ذَٰلِكَ لِمَن لَّمۡ يَكُنۡ أَهۡلُهُۥ حَاضِرِي ٱلۡمَسۡجِدِ ٱلۡحَرَامِۚ وَٱتَّقُواْ ٱللَّهَ وَٱعۡلَمُوٓاْ أَنَّ ٱللَّهَ شَدِيدُ ٱلۡعِقَابِ ١٩٦

And complete the ḥajj and ʿumrah for Allāh. But if you are prevented, then [offer] what can be obtained with ease of sacrificial animals. And do not shave your heads until the sacrificial animal has reached its place of slaughter. And whoever among you is ill or has an ailment of the head [making shaving necessary must offer] a ransom of fasting [three days] or charity1 or sacrifice.2 And when you are secure,3 then whoever performs ʿumrah [during the ḥajj months]4 followed by ḥajj [offers] what can be obtained with ease of sacrificial animals. And whoever cannot find [or afford such an animal] - then a fast of three days during ḥajj and of seven when you have returned [home]. Those are ten complete [days]. This is for those whose family is not in the area of al-Masjid al-Ḥarām. And fear Allāh and know that Allāh is severe in penalty.

১৯৬. তোমরা আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় হজ্জ ও উমরাহ পরিপূর্ণভাবে আদায় করো। আর যদি তোমরা রোগ ও শত্রæর দরুন তা পরিপূর্ণ করতে বাধাগ্রস্ত হও তাহলে তোমরা উট, গরু ও ছাগলের মধ্যে যেটি সহজে পাও সেটিই হাদি হিসেবে জবাই করো। যাতে তোমরা নিজেদের ইহরাম থেকে হালাল হয়ে যেতে পারো। আর তোমরা নিজেদের মাথা মুÐন কিংবা চুল ছোট করো না যতক্ষণনা হাদি এমন জায়গায় পৌঁছাবে যেখানে তাকে জবাই করা জায়িয। যদি হারামে ঢুকতে বাধা দেয়া হয় তাহলে সেখানেই সেটিকে জবাই করবে যেখানে তাকে বাধা দেয়া হয়েছে। আর যদি তাকে হারামে ঢুকতে বাধা না দেয়া হয় তাহলে সে ঈদের দিনে অথবা তার পরের তাশরীকের তিন দিনে তথা যিলহজ্জ মাসের ১১, ১২ ও ১৩ তারিখে হারামেই সেটিকে জবাই করবে। তোমাদের কেউ রোগাক্রান্ত হলে অথবা তার মাথার চুল উকুন বা তদ্রƒপ কোন কিছুর দ্বারা কষ্টের কারণে মুÐন করলে তাতে কোন অসুবিধে নেই। তবে তাকে এ জন্য তিনটি রোযা, হারাম এলাকার ছয়জন মিসকীনকে খাওয়ানো কিংবা একটি ছাগল ফিদয়াহ হিসেবে দিতে হবে। তবে ছাগলের ক্ষেত্রে সেটিকে জবাই করে এর গোস্ত হারামের ফকিরদের মাঝে বন্টন করা হবে। অতঃপর তোমরা যদি শান্তি ও নিরাপত্তা লাভ করো তাহলে তোমাদের যে ব্যক্তি হজ্জের মাসগুলোতে উমরার ফায়েদা গ্রহণ করবে এবং ইহরাম অবস্থায় যা নিষিদ্ধ এমন কোন কাজ করবে অতঃপর সে বছরেই হজ্জ করবে সে যেন একটি ছাগল জবাই অথবা সাত জনে মিলে একটি উট বা গরু জবাই তথা যা তার জন্য সহজ তাই করে। আর যদি সে কোন হাদি জবাই করার সক্ষমতা না রাখে তাহলে সে এর পরিবর্তে হজ্জের দিনগুলোতে তিনটি এবং বাড়ি ফিরে সাতটি রোযা রাখবে। যাতে দশটি রোযা একেবারেই পরিপূর্ণ হয়ে যায়। এ সুবিধাটুকু শুধু তাদের জন্য যাদের ঘর-বাড়ী কা’বা ঘরের নিকটবর্তী নয়। সুতরাং হাদিসহ অথবা তার পরিবর্তে রোযাসহ এ তামাত্তু’ হজ্জটি হারামের অধিবাসী এবং তার নিকটবর্তী লোকদের জন্য নয়। কারণ, তাদের তামাত্তু’ করার কোন প্রয়োজনই নেই। যেহেতু তারা হারামের এলাকাতেই থাকে এবং তাদের জন্য তামাত্তু’ না করে শুধু তাওয়াফ করাই যথেষ্ট। আর তোমরা শরীয়তের অনুসরণ ও তাঁর দেয়া সীমারেখার প্রতি সম্মান দেখানোর মাধ্যমে আল্লাহকে ভয় করো। জেনে রেখো, নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা তাঁর আদেশ লঙ্ঘনকারীদের কঠিন শাস্তিদাতা।

2:197Page 31

ٱلۡحَجُّ أَشۡهُرٞ مَّعۡلُومَٰتٞۚ فَمَن فَرَضَ فِيهِنَّ ٱلۡحَجَّ فَلَا رَفَثَ وَلَا فُسُوقَ وَلَا جِدَالَ فِي ٱلۡحَجِّۗ وَمَا تَفۡعَلُواْ مِنۡ خَيۡرٖ يَعۡلَمۡهُ ٱللَّهُۗ وَتَزَوَّدُواْ فَإِنَّ خَيۡرَ ٱلزَّادِ ٱلتَّقۡوَىٰۖ وَٱتَّقُونِ يَٰٓأُوْلِي ٱلۡأَلۡبَٰبِ ١٩٧

Ḥajj is [during] well-known months,1 so whoever has made ḥajj obligatory upon himself therein [by entering the state of iḥrām], there is [to be for him] no sexual relations and no disobedience and no disputing during ḥajj. And whatever good you do - Allāh knows it. And take provisions, but indeed, the best provision is fear of Allāh. And fear Me, O you of understanding.

১৯৭. হজ্জের সময় হলো মূলতঃ গুটি কয়েক মাস। যা শাওয়াল মাসে শুরু হয়ে যিল-হজ্জের দশ তারিখে শেষ হয়। সুতরাং কেউ যদি এ মাসগুলোতে নিজের উপর হজ্জকে বাধ্যতামূলক করে নিয়ে ইহরাম বেঁধে ফেলে তাহলে তার জন্য স্ত্রী সহবাস ও তার আনুষঙ্গিক বিষয়গুলো নিষিদ্ধ। তেমনিভাবে তার জন্য সময় ও স্থানের গুরুত্বের দরুন আল্লাহর আনুগত্য থেকে বের হয়ে এসে যে কোন পাপে লিপ্ত হওয়া সমধিকভাবে নিষিদ্ধ। অনুরূপভাবে তার জন্য এমন তর্কও হারাম যা রাগ ও ঝগড়া পর্যন্ত পৌঁছিয়ে দেয়। তোমরা যে কল্যাণের কাজগুলো করো তা সবই আল্লাহ জানেন এবং তিনি তার প্রতিদান দিবেন। আর তোমরা হজ্জকর্ম আদায়ের জন্য নিজ ঘর থেকে প্রয়োজনীয় খাদ্য-পানীয় নিয়ে বের হবে। জেনে রাখো, তোমাদের যে কোন কাজের সর্বোত্তম প্রেরণা হলো একমাত্র আল্লাহভীরুতা। তাই হে সুস্থ বিবেকবানরা! তোমরা আমার আদেশ-নিষেধ মানার মাধ্যমে আমাকেই ভয় করো।

2:198Page 31

لَيۡسَ عَلَيۡكُمۡ جُنَاحٌ أَن تَبۡتَغُواْ فَضۡلٗا مِّن رَّبِّكُمۡۚ فَإِذَآ أَفَضۡتُم مِّنۡ عَرَفَٰتٖ فَٱذۡكُرُواْ ٱللَّهَ عِندَ ٱلۡمَشۡعَرِ ٱلۡحَرَامِۖ وَٱذۡكُرُوهُ كَمَا هَدَىٰكُمۡ وَإِن كُنتُم مِّن قَبۡلِهِۦ لَمِنَ ٱلضَّآلِّينَ ١٩٨

There is no blame upon you for seeking bounty1 from your Lord [during ḥajj]. But when you depart from ʿArafāt, remember Allāh at al-Mashʿar al-Ḥarām.2 And remember Him, as He has guided you, for indeed, you were before that among those astray.

১৯৮. হজ্জ মৌসমে ব্যবসা ইত্যাদির মাধ্যমে হালাল রিযিক অনুসন্ধান করায় বস্তুতঃ কোন গুনাহ নেই। তোমরা যিলহজ্জের নয় তারিখে আরাফাতে অবস্থান করার পর সেখান থেকে যিল-হজ্জের দশ তারিখ রাতে মুযদালিফায় যাওয়ার সময় তাসবীহ (সুবহানাল্লাহ), তাহলীল (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ) এবং মুযদালিফার মাশআরে হারামের নিকট দু‘আর মাধ্যমে আল্লাহকে স্মরণ করো। তোমরা আল্লাহকে স্মরণ করো যেহেতু তিনি তোমাদেরকে তাঁর ধর্মের নিদর্শনসমূহ এবং তাঁর ঘরের হজ্জের নিয়মকানুন শিখিয়েছেন। কারণ, তোমরা ইতিপূর্বে তাঁর শরীয়ত সম্পর্কে অবগত ছিলে না।

2:199Page 31

ثُمَّ أَفِيضُواْ مِنۡ حَيۡثُ أَفَاضَ ٱلنَّاسُ وَٱسۡتَغۡفِرُواْ ٱللَّهَۚ إِنَّ ٱللَّهَ غَفُورٞ رَّحِيمٞ ١٩٩

Then depart from the place from where [all] the people depart and ask forgiveness of Allāh. Indeed, Allāh is Forgiving and Merciful.

১৯৯. অতঃপর তোমরা আরাফাত থেকে রওয়ানা করো যা ইব্রাহীম (আলাইহিস-সালাম) এর অনুসারী লোকেরা করতো। জাহিলী যুগের লোকদের ন্যায় করো না যারা সেখানে অবস্থান করতো না। আর তোমরা শরীয়ত পালনে যে কোন ত্রæটির জন্য আল্লাহর ক্ষমা প্রার্থনা করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা তাঁর তাওবাকারী বান্দাদের প্রতি অত্যন্ত ক্ষমাশীল ও দয়ালু।

2:200Page 31

فَإِذَا قَضَيۡتُم مَّنَٰسِكَكُمۡ فَٱذۡكُرُواْ ٱللَّهَ كَذِكۡرِكُمۡ ءَابَآءَكُمۡ أَوۡ أَشَدَّ ذِكۡرٗاۗ فَمِنَ ٱلنَّاسِ مَن يَقُولُ رَبَّنَآ ءَاتِنَا فِي ٱلدُّنۡيَا وَمَا لَهُۥ فِي ٱلۡأٓخِرَةِ مِنۡ خَلَٰقٖ ٢٠٠

And when you have completed your rites, remember Allāh like your [previous] remembrance of your fathers or with [much] greater remembrance. And among the people is he who says, "Our Lord, give us in this world," and he will have in the Hereafter no share.

২০০. যখন তোমরা হজ্জের কাজগুলো শেষ করে অবসর হবে তখন আল্লাহকে স্মরণ করো আর তাঁর বেশি বেশি প্রশংসা করো। যেমনিভাবে তোমরা নিজেদের বাপ-দাদাকে নিয়ে গর্ব করো এবং তাদের প্রশংসা করো কিংবা তোমাদের বাপ-দাদাকে স্মরণ করার চাইতে আল্লাহকে আরো বেশি স্মরণ করো। কারণ, তোমরা যে নিয়ামতগুলো ভোগ করছো তা সবই তাঁর কাছ থেকেই আসা। অথচ মানুষ এ ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রকৃতির। তাদের কেউ তো মুশরিক ও কাফির যে এ দুনিয়ার জীবন ছাড়া অন্য কিছুতে বিশ্বাসী নয়। তাই সে তার প্রভুর নিকট দুনিয়ার নিয়ামত ও সৌন্দর্য তথা শারীরিক সুস্থতা, সম্পদ ও সন্তানই কামনা করে। আল্লাহ তা‘আলা তাঁর মু’মিন বান্দাদের জন্য পরকালে যা তৈরি করে রেখেছেন তার কিছুই তারা পাবে না। কারণ, তারা তো কেবল দুনিয়াই চেয়েছে এবং আখিরাত থেকে নিজেদের মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।

2:201Page 31

وَمِنۡهُم مَّن يَقُولُ رَبَّنَآ ءَاتِنَا فِي ٱلدُّنۡيَا حَسَنَةٗ وَفِي ٱلۡأٓخِرَةِ حَسَنَةٗ وَقِنَا عَذَابَ ٱلنَّارِ ٢٠١

But among them is he who says, "Our Lord, give us in this world [that which is] good and in the Hereafter [that which is] good and protect us from the punishment of the Fire."

২০১. মানুষের আরেকটি দল হলো আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাসী। তাই তারা নিজেদের প্রভুর নিকট দুনিয়ার নিয়ামত ও নেক আমল কামনা করে। তেমনিভাবে তারা আল্লাহর নিকট জান্নাত পাওয়ার সফলতা এবং জাহান্নামের শাস্তি থেকে মুক্তি কামনা করে।

2:202Page 31

أُوْلَٰٓئِكَ لَهُمۡ نَصِيبٞ مِّمَّا كَسَبُواْۚ وَٱللَّهُ سَرِيعُ ٱلۡحِسَابِ ٢٠٢

Those will have a share of what they have earned, and Allāh is swift in account.

২০২. যারা সর্বদা দুনিয়া ও আখিরাতের সমূহ কল্যাণের দু‘আ করে তাদের জন্য রয়েছে সাওয়াবের একটি মহৎ ভাÐার। কারণ, তারা দুনিয়াতে প্রচুর নেক আমল করেছে। আর আল্লাহ তা‘আলা নেক আমলের দ্রæত হিসাব গ্রহণকারী।

2:203Page 32

۞ وَٱذۡكُرُواْ ٱللَّهَ فِيٓ أَيَّامٖ مَّعۡدُودَٰتٖۚ فَمَن تَعَجَّلَ فِي يَوۡمَيۡنِ فَلَآ إِثۡمَ عَلَيۡهِ وَمَن تَأَخَّرَ فَلَآ إِثۡمَ عَلَيۡهِۖ لِمَنِ ٱتَّقَىٰۗ وَٱتَّقُواْ ٱللَّهَ وَٱعۡلَمُوٓاْ أَنَّكُمۡ إِلَيۡهِ تُحۡشَرُونَ ٢٠٣

And remember Allāh during [specific] numbered days. Then whoever hastens [his departure] in two days - there is no sin upon him; and whoever delays [until the third] - there is no sin upon him - for him who fears Allāh. And fear Allāh and know that unto Him you will be gathered.

২০৩. তোমরা কিছু দিন তাকবীর (আল্লাহু আকবার) ও তাহলীল (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ) এর মাধ্যমে আল্লাহকে স্মরণ করো। সে দিনগুলো হলো যিল-হজ্জের ১১, ১২ ও ১৩ তারিখ। সুতরাং কেউ যদি ১২ তারিখে পাথর নিক্ষেপ করে মিনা থেকে দ্রæত বের হয়ে যেতে চায় তাহলে সে যেতে পারে। তাতে কোন প্রকারের গুনাহ নেই। কারণ, আল্লাহ তা‘আলা ব্যাপারটিকে হালকা করে দিয়েছেন। আর যে ১৩ তারিখের পাথর মারা পর্যন্ত দেরী করবে সেও তা করতে পারে। তাতে কোন অসুবিধে নেই। বরং সে পরিপূর্ণ আমলটাই করলো এবং সে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর পুরো কর্মেরই অনুসারী হলো। এ সবই ওই ব্যক্তির জন্য যে হজ্জের সময় আল্লাহকে ভয় করে তাঁর আদেশসমূহ পালন করেছে। তোমরা আল্লাহর আদেশ-নিষেধ মান্য করে তাঁকেই ভয় করো। এ কথা সুনিশ্চিত যে, তোমরা সবাই তাঁর নিকটই ফিরে যাবে অতঃপর তিনি তোমাদের আমলসমূহের প্রতিদান দিবেন।

2:204Page 32

وَمِنَ ٱلنَّاسِ مَن يُعۡجِبُكَ قَوۡلُهُۥ فِي ٱلۡحَيَوٰةِ ٱلدُّنۡيَا وَيُشۡهِدُ ٱللَّهَ عَلَىٰ مَا فِي قَلۡبِهِۦ وَهُوَ أَلَدُّ ٱلۡخِصَامِ ٢٠٤

And of the people is he whose speech pleases you in worldly life, and he calls Allāh to witness as to what is in his heart, yet he is the fiercest of opponents.

২০৪. হে নবী! মানুষের মাঝে কিছু আছে মুনাফিক। যার কথাবার্তা এ দুনিয়াতে আপনার খুব ভালোই লাগবে। দেখবেন, সে খুব সুন্দর কথাই বলছে। এমনকি আপনি তাকে সত্যবাদী এবং কল্যাণকামীই মনে করবেন। অথচ তার মূল উদ্দেশ্য হলো শুধুমাত্র তার জীবন ও সম্পদ রক্ষা করা। উপরন্তু সে মিথ্যাবশতঃ আল্লাহকে তার অন্তরের ঈমান ও কল্যাণের সাক্ষী বানাচ্ছে। আর সে মুসলমানদের কঠিন শত্রæ এবং মারাত্মক ঝগড়াটে।

2:205Page 32

وَإِذَا تَوَلَّىٰ سَعَىٰ فِي ٱلۡأَرۡضِ لِيُفۡسِدَ فِيهَا وَيُهۡلِكَ ٱلۡحَرۡثَ وَٱلنَّسۡلَۚ وَٱللَّهُ لَا يُحِبُّ ٱلۡفَسَادَ ٢٠٥

And when he goes away, he strives throughout the land to cause corruption therein and destroy crops and animals. And Allāh does not like corruption.

২০৫. যখন সে আপনার নিকট থেকে ফিরে চলে যায় তখন সে গুনাহর মাধ্যমে জমিনে ফাসাদ সৃষ্টির চেষ্টা করে। তেমনিভাবে সে ফসলের হানি করে এবং গৃহপালিত পশুগুলোকে হত্যা করে। আর আল্লাহ তা‘আলা জমিনে ফাসাদ সৃষ্টি করা ও সৃষ্টিকারীকে কখনোই পছন্দ করেন না।

2:206Page 32

وَإِذَا قِيلَ لَهُ ٱتَّقِ ٱللَّهَ أَخَذَتۡهُ ٱلۡعِزَّةُ بِٱلۡإِثۡمِۚ فَحَسۡبُهُۥ جَهَنَّمُۖ وَلَبِئۡسَ ٱلۡمِهَادُ ٢٠٦

And when it is said to him, "Fear Allāh," pride in the sin takes hold of him. Sufficient for him is Hellfire, and how wretched is the resting place.

২০৬. যখন এ ফাসাদ সৃষ্টিকারীকে নসীহত করতে গিয়ে বলা হয়, তুমি আল্লাহকে ভয় করে তাঁর দেয়া সীমারেখাকে সম্মান করো এবং তাঁর নিষিদ্ধ কর্মকাÐ থেকে দূরে থাকো তাঁকে ভয় করো তখন তার অহঙ্কারবোধ ও নিজের সম্মান রক্ষার চিন্তা তাকে সত্যের দিকে ফিরে আসার পথে বাধার সৃষ্টি করে। তখন সে লাগাতার গুনাহই করতে থাকে। তাই তার উপযুক্ত প্রতিদান হলো জাহান্নামে প্রবেশ করা। আর জাহান্নাম হলো তার অধিবাসীদের জন্য অত্যন্ত নিকৃষ্ট একটি গন্তব্যস্থল।

2:207Page 32

وَمِنَ ٱلنَّاسِ مَن يَشۡرِي نَفۡسَهُ ٱبۡتِغَآءَ مَرۡضَاتِ ٱللَّهِۚ وَٱللَّهُ رَءُوفُۢ بِٱلۡعِبَادِ ٢٠٧

And of the people is he who sells himself, seeking means to the approval of Allāh. And Allāh is Kind to [His] servants.

২০৭. আবার মানুষের মাঝে কিছু রয়েছে সত্যিকার ঈমানদার। যারা নিজেদের জীবনকে আল্লাহর নিকট বিকিয়ে দিয়ে প্রভুর আনুগত্যে সেটিকে ব্যয় করে। তারা তাঁর পথে জিহাদ করে ও সর্বদা তাঁর সন্তুষ্টি কামনা করে। আর আল্লাহ তা‘আলা তাঁর বান্দাদের প্রতি অতি করুণাময় অতীব দয়ালু।

2:208Page 32

يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ ٱدۡخُلُواْ فِي ٱلسِّلۡمِ كَآفَّةٗ وَلَا تَتَّبِعُواْ خُطُوَٰتِ ٱلشَّيۡطَٰنِۚ إِنَّهُۥ لَكُمۡ عَدُوّٞ مُّبِينٞ ٢٠٨

O you who have believed, enter into Islām completely [and perfectly] and do not follow the footsteps of Satan. Indeed, he is to you a clear enemy.

২০৮. হে আল্লাহতে বিশ্বাসী ও তাঁর রাসূলের অনুসারী ঈমানদারগণ! তোমরা পরিপূর্ণভাবে ইসলামে প্রবেশ করো; তার কোন কিছুই ছেড়ে দিয়ো না। যা আহলে কিতাবদের চরিত্র। তারা কিতাবের কিছু অংশকে বিশ্বাস করে আর কিছু অংশের সাথে কুফরি করে। আর তোমরা শয়তানের পথের অনুসরণ করো না। কারণ, সে তোমাদের প্রকাশ্য ও সুস্পষ্ট শত্রæ।

2:209Page 32

فَإِن زَلَلۡتُم مِّنۢ بَعۡدِ مَا جَآءَتۡكُمُ ٱلۡبَيِّنَٰتُ فَٱعۡلَمُوٓاْ أَنَّ ٱللَّهَ عَزِيزٌ حَكِيمٌ ٢٠٩

But if you slip [i.e., deviate] after clear proofs have come to you, then know that Allāh is Exalted in Might and Wise.

২০৯. তোমাদের নিকট অবিমিশ্র ও সুস্পষ্ট প্রমাণাদি আসার পরও যদি তোমাদের পদস্খলন হয় তাহলে জেনে রাখো, নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা তাঁর শক্তি ও সামর্থ্যে পরাক্রমশালী; তাঁর শরীয়ত রচনা ও বিশ্ব পরিচালনায় প্রজ্ঞাময়। তাই তোমরা তাঁকে সম্মান ও ভয় করে চলো।

2:210Page 32

هَلۡ يَنظُرُونَ إِلَّآ أَن يَأۡتِيَهُمُ ٱللَّهُ فِي ظُلَلٖ مِّنَ ٱلۡغَمَامِ وَٱلۡمَلَٰٓئِكَةُ وَقُضِيَ ٱلۡأَمۡرُۚ وَإِلَى ٱللَّهِ تُرۡجَعُ ٱلۡأُمُورُ ٢١٠

Do they await but that Allāh should come to them in covers of clouds and the angels [as well] and the matter is [then] decided? And to Allāh [all] matters are returned.

২১০. এতো কিছুর পরও যারা সত্যকে পাশ কাটিয়ে শয়তানের পথ অনুসরণ করেছে তারা কি এখনো এই অপেক্ষাই করছে যে, আল্লাহ তা‘আলা মেঘমালার ছায়াতলে নিজেই তাদের নিকট এসে উপস্থিত হবেন এবং ফেরেশতাগণ তাদেরকে চতুর্দিক থেকে বেষ্টন করে রাখবেন? কিন্তু তখনই তো আল্লাহর চ‚ড়ান্ত ফায়সালা ঘোষিত হয়ে যাবে এবং তাদের ব্যাপারসমূহের পরিসমাপ্তি ঘটবে। বস্তুতঃ একমাত্র আল্লাহর দিকেই তাঁর সৃষ্টির সকল ব্যাপার ও কর্মকাÐ প্রত্যাবর্তিত হয়।

2:211Page 33

سَلۡ بَنِيٓ إِسۡرَٰٓءِيلَ كَمۡ ءَاتَيۡنَٰهُم مِّنۡ ءَايَةِۭ بَيِّنَةٖۗ وَمَن يُبَدِّلۡ نِعۡمَةَ ٱللَّهِ مِنۢ بَعۡدِ مَا جَآءَتۡهُ فَإِنَّ ٱللَّهَ شَدِيدُ ٱلۡعِقَابِ ٢١١

Ask the Children of Israel how many a sign of evidence We have given them. And whoever exchanges the favor of Allāh [for disbelief] after it has come to him - then indeed, Allāh is severe in penalty.

২১১. হে নবী! আপনি বনী ইসরাঈলকে তিরস্কার করতঃ জিজ্ঞাসা করুন যে, রাসূলগণের সত্যতা প্রমাণে আমি আল্লাহ তাদের সামনে কতো নিদর্শনাবলী পেশ করেছি। অথচ তারা তা মিথ্যা বলে অগ্রাহ্য করেছে। যারা আল্লাহ তা‘আলার নিয়ামতগুলোকে ভালোভাবে জেনেশুনে তা মিথ্যা বলে অস্বীকার করে আল্লাহ তা‘আলা মূলতঃ এ জাতীয় মিথ্যুক কাফিরদের কঠিন শাস্তিদাতা।

2:212Page 33

زُيِّنَ لِلَّذِينَ كَفَرُواْ ٱلۡحَيَوٰةُ ٱلدُّنۡيَا وَيَسۡخَرُونَ مِنَ ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْۘ وَٱلَّذِينَ ٱتَّقَوۡاْ فَوۡقَهُمۡ يَوۡمَ ٱلۡقِيَٰمَةِۗ وَٱللَّهُ يَرۡزُقُ مَن يَشَآءُ بِغَيۡرِ حِسَابٖ ٢١٢

Beautified for those who disbelieve is the life of this world, and they ridicule those who believe. But those who fear Allāh are above them on the Day of Resurrection. And Allāh gives provision to whom He wills without account.

২১২. কাফিরদের জন্য দুনিয়ার জীবন এবং তাতে যে অস্থায়ী ভোগবিলাসের সামগ্রী রয়েছে তা খুব প্রিয় ও লোভনীয় করে দেয়া হয়েছে। তারা আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাসীদেরকে নিয়ে ঠাট্টা করে। অথচ যারা আল্লাহর বিধি-নিষেধ মেনে তাঁকে ভয় করে তারাই পরকালে মর্যাদার ক্ষেত্রে কাফিরদের অনেক উপরে অবস্থান করবে। কারণ, আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে আদন নামক জান্নাত দিবেন। তবে দুনিয়ায় রিযিকদানের ক্ষেত্রে আল্লাহ তা‘আলা তাঁর সৃষ্টির যাকে চান তাকে বিনা হিসাবে অপরিমিত দিয়ে থাকেন।

2:213Page 33

كَانَ ٱلنَّاسُ أُمَّةٗ وَٰحِدَةٗ فَبَعَثَ ٱللَّهُ ٱلنَّبِيِّـۧنَ مُبَشِّرِينَ وَمُنذِرِينَ وَأَنزَلَ مَعَهُمُ ٱلۡكِتَٰبَ بِٱلۡحَقِّ لِيَحۡكُمَ بَيۡنَ ٱلنَّاسِ فِيمَا ٱخۡتَلَفُواْ فِيهِۚ وَمَا ٱخۡتَلَفَ فِيهِ إِلَّا ٱلَّذِينَ أُوتُوهُ مِنۢ بَعۡدِ مَا جَآءَتۡهُمُ ٱلۡبَيِّنَٰتُ بَغۡيَۢا بَيۡنَهُمۡۖ فَهَدَى ٱللَّهُ ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ لِمَا ٱخۡتَلَفُواْ فِيهِ مِنَ ٱلۡحَقِّ بِإِذۡنِهِۦۗ وَٱللَّهُ يَهۡدِي مَن يَشَآءُ إِلَىٰ صِرَٰطٖ مُّسۡتَقِيمٍ ٢١٣

Mankind was [of] one religion [before their deviation]; then Allāh sent the prophets as bringers of good tidings and warners and sent down with them the Scripture in truth to judge between the people concerning that in which they differed. And none differed over it [i.e., the Scripture] except those who were given it - after the clear proofs came to them - out of jealous animosity among themselves. And Allāh guided those who believed to the truth concerning that over which they had differed, by His permission. And Allāh guides whom He wills to a straight path.

২১৩. মানুষজন তো তাদের পিতা আদমের ধর্ম তথা হিদায়েতের উপর এক জাতি- সত্তারূপেই বিদ্যমান ছিলো। অতঃপর শয়তান তাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছে। তাই তারা মু’মিন ও কাফিরে বিভক্ত হয়েছে। এ জন্যই আল্লাহ তা‘আলা রাসূলদেরকে পাঠিয়েছেন। যাতে তাঁরা ঈমান ও আনুগত্যকারীদেরকে আল্লাহর প্রস্তুতকৃত রহমতের সুসংবাদ দিতে পারেন আর কাফিরদেরকে আল্লাহর প্রস্তুতকৃত কঠিন শাস্তির ভয় দেখাতে পারেন। তেমনিভাবে তিনি তাঁর রাসূলদের সাথে কিতাবও নাযিল করেছেন যা নিঃসন্দেহ সত্যকে ধারণ করে আছে। যদ্বারা তাঁরা মানুষের দ্ব›দ্বপূর্ণ বিষয়ে ফায়সালা করতে পারেন। বস্তুতঃ তাওরাত নিয়ে ওই ইহুদিরাই দ্ব›দ্ব করেছে যাদেরকে তার সম্যক জ্ঞান দেয়া হয়েছে। অথচ তাদের নিকট আল্লাহর পক্ষ থেকে তার সত্যতার উপর এমন প্রমাণ এসেছে যা নিয়ে মতভেদ করার কোন সুযোগই নেই। মূলতঃ এটি ছিলো তাদের পক্ষ থেকে এক ধরনের অত্যাচার ও হঠকারিতামাত্র। তবে আল্লাহ তা‘আলা তাঁর ইচ্ছায় মু’মিনদেরকে ভ্রষ্টতা থেকে হিদায়েত পার্থক্য করে বুঝার তাওফীক দিয়েছেন। বস্তুতঃ আল্লাহ তা‘আলা যাকে চান তাকে এমন সোজা পথ দেখান যাতে কোন ধরনের বক্রতা নেই। সেটি হলো মূলতঃ ঈমানের পথ।

2:214Page 33

أَمۡ حَسِبۡتُمۡ أَن تَدۡخُلُواْ ٱلۡجَنَّةَ وَلَمَّا يَأۡتِكُم مَّثَلُ ٱلَّذِينَ خَلَوۡاْ مِن قَبۡلِكُمۖ مَّسَّتۡهُمُ ٱلۡبَأۡسَآءُ وَٱلضَّرَّآءُ وَزُلۡزِلُواْ حَتَّىٰ يَقُولَ ٱلرَّسُولُ وَٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ مَعَهُۥ مَتَىٰ نَصۡرُ ٱللَّهِۗ أَلَآ إِنَّ نَصۡرَ ٱللَّهِ قَرِيبٞ ٢١٤

Or do you think that you will enter Paradise while such [trial] has not yet come to you as came to those who passed on before you? They were touched by poverty and hardship and were shaken until [even their] messenger and those who believed with him said, "When is the help of Allāh?" Unquestionably, the help of Allāh is near.

২১৪. হে মু’মিনরা! তোমরা কি মনে করছো যে, তোমরা এমনিতেই জান্নাতে প্রবেশ করবে? অথচ তোমাদের উপর এখনো তোমাদের পূর্ববর্তীতের ন্যায় কোন পরীক্ষা তথা বিপদাপদ নেমে আসেনি। তাদেরকে কঠিন দরিদ্রতা ও রোগ-বালাই দেয়া হয়েছিলো। এমনিভাবে প্রচÐ ভয়ভীতি তাদের ভীতকে নাড়িয়ে দিয়েছিলো। তাদের উপর বিপদাপদ এমনভাবে এসেছে যে, তারা দ্রæত আল্লাহর সাহায্য কামনা করতে বাধ্য হয়েছে। তখন রাসূল ও তাঁর মু’মিন সাথীরা হতাশ হয়ে বলেছে: আল্লাহর সাহায্য কোথায়? জেনে রাখো, নিশ্চয়ই আল্লাহর সাহায্য মু’মিন ও আল্লাহর উপর নির্ভরশীলদের অতি নিকটেই।

2:215Page 33

يَسۡـَٔلُونَكَ مَاذَا يُنفِقُونَۖ قُلۡ مَآ أَنفَقۡتُم مِّنۡ خَيۡرٖ فَلِلۡوَٰلِدَيۡنِ وَٱلۡأَقۡرَبِينَ وَٱلۡيَتَٰمَىٰ وَٱلۡمَسَٰكِينِ وَٱبۡنِ ٱلسَّبِيلِۗ وَمَا تَفۡعَلُواْ مِنۡ خَيۡرٖ فَإِنَّ ٱللَّهَ بِهِۦ عَلِيمٞ ٢١٥

They ask you, [O Muḥammad], what they should spend. Say, "Whatever you spend of good is [to be] for parents and relatives and orphans and the needy and the traveler. And whatever you do of good - indeed, Allāh is Knowing of it."

২১৫. হে নবী! আপনার সাথীরা আপনাকে জিজ্ঞাসা করবে, তারা নিজেদের রকমারি সম্পদের কতটুকু ও কোথায় ব্যয় করবে? আপনি তাদের উত্তরে বলুন, তোমরা যে হালাল সম্পদটুকু ব্যয় করতে চাচ্ছো তা যেন প্রয়োজনানুসারে নিজ মাতা-পিতা, নিকটাত্মীয়, গরিব ইয়াতীম, নিঃস্ব ব্যক্তিবর্গ এবং নিজ পরিবার ও দেশ থেকে অনেক দূরে সফরে আটকে পড়া লোকের জন্য ব্যয় করা হয়। হে মু’মিনরা! তোমরা কম-বেশী যে কল্যাণকর কাজই করো না কেন তা নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা জানেন। কোন কিছুই তাঁর নিকট গোপনীয় নয়। তাই তিনি অচিরেই সেগুলোর প্রতিদান দিবেন।

2:216Page 34

كُتِبَ عَلَيۡكُمُ ٱلۡقِتَالُ وَهُوَ كُرۡهٞ لَّكُمۡۖ وَعَسَىٰٓ أَن تَكۡرَهُواْ شَيۡـٔٗا وَهُوَ خَيۡرٞ لَّكُمۡۖ وَعَسَىٰٓ أَن تُحِبُّواْ شَيۡـٔٗا وَهُوَ شَرّٞ لَّكُمۡۚ وَٱللَّهُ يَعۡلَمُ وَأَنتُمۡ لَا تَعۡلَمُونَ ٢١٦

Battle has been enjoined upon you while it is hateful to you. But perhaps you hate a thing and it is good for you; and perhaps you love a thing and it is bad for you. And Allāh knows, while you know not.

২১৬. হে মু’মিনরা! তোমাদের উপর ফরয করা হয়েছে আল্লাহর পথে যুদ্ধ করা। সেটি স্বভাবতঃ তোমাদের মনের বিরুদ্ধে। কারণ, তাতে রয়েছে জীবন ও সম্পদহানীর আশঙ্কা এবং তা অকাতরে ব্যয় করা। বস্তুতঃ তোমরা যা অপছন্দ করছো তা কিন্তু তোমাদের জন্য বাস্তবে অতি লাভজনক ও খুবই উত্তম। যেমন: আল্লাহর পথে যুদ্ধ করা। এতে প্রচুর সাওয়াবের পাশাপাশি শত্রæ পক্ষের উপর বিজয় এবং আল্লাহর বাণীকে সুউচ্চ করার ব্যাপারটি অবশ্যই রয়েছে। তেমনিভাবে তোমরা যা পছন্দ করছো তা কিন্তু বাস্তবে তোমাদের জন্য অতি নিকৃষ্ট ও বিপদের কারণ হিসেবে দেখা দিতে পারে। যেমন: আল্লাহর পথে জিহাদ না করে ঘরে বসে থাকা। কারণ, তাতে লাঞ্ছনার পাশাপাশি শত্রæ পক্ষের প্রতিপত্তিও রয়েছে। বস্তুতঃ আল্লাহ তা‘আলাই পরিপূর্ণভাবে জানেন, কোন জিনিসটি আমাদের জন্য অতি লাভজনক এবং কোন জিনিসটি আমাদের জন্য অতি ক্ষতিকর। তোমরা কিন্তু তা জানো না। তাই তাঁরই আদেশ মান্য করো। তাতেই তোমাদের জন্য অনেক কল্যাণ রয়েছে।

2:217Page 34

يَسۡـَٔلُونَكَ عَنِ ٱلشَّهۡرِ ٱلۡحَرَامِ قِتَالٖ فِيهِۖ قُلۡ قِتَالٞ فِيهِ كَبِيرٞۚ وَصَدٌّ عَن سَبِيلِ ٱللَّهِ وَكُفۡرُۢ بِهِۦ وَٱلۡمَسۡجِدِ ٱلۡحَرَامِ وَإِخۡرَاجُ أَهۡلِهِۦ مِنۡهُ أَكۡبَرُ عِندَ ٱللَّهِۚ وَٱلۡفِتۡنَةُ أَكۡبَرُ مِنَ ٱلۡقَتۡلِۗ وَلَا يَزَالُونَ يُقَٰتِلُونَكُمۡ حَتَّىٰ يَرُدُّوكُمۡ عَن دِينِكُمۡ إِنِ ٱسۡتَطَٰعُواْۚ وَمَن يَرۡتَدِدۡ مِنكُمۡ عَن دِينِهِۦ فَيَمُتۡ وَهُوَ كَافِرٞ فَأُوْلَٰٓئِكَ حَبِطَتۡ أَعۡمَٰلُهُمۡ فِي ٱلدُّنۡيَا وَٱلۡأٓخِرَةِۖ وَأُوْلَٰٓئِكَ أَصۡحَٰبُ ٱلنَّارِۖ هُمۡ فِيهَا خَٰلِدُونَ ٢١٧

They ask you about the sacred month1 - about fighting therein. Say, "Fighting therein is great [sin], but averting [people] from the way of Allāh and disbelief in Him and [preventing access to] al-Masjid al-Ḥarām and the expulsion of its people therefrom are greater [evil] in the sight of Allāh. And fitnah2 is greater than killing." And they will continue to fight you until they turn you back from your religion if they are able. And whoever of you reverts from his religion [to disbelief] and dies while he is a disbeliever - for those, their deeds have become worthless in this world and the Hereafter, and those are the companions of the Fire; they will abide therein eternally.

২১৭. হে নবী! মানুষ আপনাকে হারাম মাসগুলো তথা যুল-কি’দাহ, যুল-হিজ্জাহ, মুহাররাম ও রজব মাসে যুদ্ধ করার বিধান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবে। আপনি তাদের উত্তরে বলুন: এ মাসগুলোতে যুদ্ধ করা আল্লাহর নিকট খুবই ভয়ানক ও অত্যন্ত অপছন্দনীয়। এমনিভাবে মুশরিকরা যে আল্লাহর পথে বাধা সৃষ্টি করে তাও অতি নিকৃষ্ট। তাছাড়া মু’মিনদেরকে মসজিদে হারামে ঢুকতে নিষেধ করা এবং মসজিদে হারামের অধিবাসীদেরকে সেখান থেকে বের করে দেয়া আল্লাহর নিকট হারাম মাসে যুদ্ধ করার চেয়েও অতি ভয়ানক। আর যে শিরকের উপর তারা বিদ্যমান তা মানব হত্যার চেয়েও অতি ভয়ঙ্কর। হে মু’মিনগণ! মুশরিকরা যতক্ষণনা তোমাদেরকে সত্য ধর্ম থেকে বের করে মিথ্যা ধর্মে ফিরিয়ে আনতে পেরেছে ততক্ষণ অন্যায়ভাবে তোমাদের সাথে যুদ্ধ চালিয়েই যাবে। যদিও তা করা তাদের পক্ষে সম্ভবপর হয়। বস্তুতঃ তোমাদের মধ্য থেকে যে ব্যক্তি নিজ ধর্ম থেকে ফিরে এসে আল্লাহর সাথে কুফরি অবস্থায় মৃত্যু বরণ করবে তার সকল নেক আমলই ধ্বংস হয়ে যাবে এবং পরিণতিতে সে পরকালে জাহান্নামের চিরস্থায়ী অধিবাসী হবে।

2:218Page 34

إِنَّ ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ وَٱلَّذِينَ هَاجَرُواْ وَجَٰهَدُواْ فِي سَبِيلِ ٱللَّهِ أُوْلَٰٓئِكَ يَرۡجُونَ رَحۡمَتَ ٱللَّهِۚ وَٱللَّهُ غَفُورٞ رَّحِيمٞ ٢١٨

Indeed, those who have believed and those who have emigrated and fought in the cause of Allāh - those expect the mercy of Allāh. And Allāh is Forgiving and Merciful.

২১৮. যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উপর ঈমান এনেছে, যারা আল্লাহ তা‘আলা ও তাঁর রাসূলের দিকে হিজরত করার উদ্দেশ্যে নিজ এলাকা ছেড়েছে এবং যারা আল্লাহর বাণীকে বিজয়ী করার জন্য তাঁর পথে যুদ্ধ করেছে তারাই মূলতঃ আল্লাহর রহমত ও তাঁর ক্ষমালাভের ন্যায়সঙ্গত প্রত্যাশী। আর আল্লাহ তা‘আলা তাঁর বান্দাদের গুনাহ ক্ষমাকারী এবং তাদের প্রতি অতি দয়ালু।

2:219Page 34

۞ يَسۡـَٔلُونَكَ عَنِ ٱلۡخَمۡرِ وَٱلۡمَيۡسِرِۖ قُلۡ فِيهِمَآ إِثۡمٞ كَبِيرٞ وَمَنَٰفِعُ لِلنَّاسِ وَإِثۡمُهُمَآ أَكۡبَرُ مِن نَّفۡعِهِمَاۗ وَيَسۡـَٔلُونَكَ مَاذَا يُنفِقُونَۖ قُلِ ٱلۡعَفۡوَۗ كَذَٰلِكَ يُبَيِّنُ ٱللَّهُ لَكُمُ ٱلۡأٓيَٰتِ لَعَلَّكُمۡ تَتَفَكَّرُونَ ٢١٩

They ask you about wine1 and gambling. Say, "In them is great sin and [yet, some] benefit for people. But their sin is greater than their benefit." And they ask you what they should spend. Say, "The excess [beyond needs]." Thus Allāh makes clear to you the verses [of revelation] that you might give thought

২১৯. আল্লাহ তা‘আলা বলেন: হে নবী! আপনার সাথীরা আপনাকে মদপান এবং তা ক্রয়-বিক্রয় করা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবে। মদ বলতে এমন সকল বস্তুকে বুঝানো হয় যা সেবনের পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মস্তিষ্কের উপর পর্দা পড়ে যায় এবং সে তার বোধশক্তি তাৎক্ষণিক হারিয়ে ফেলে। এমনিভাবে তারা আপনাকে জিজ্ঞাসা করবে জুয়া খেলার বিধান সম্পর্কে। জুয়া বলতে এমন সম্পদকে বুঝানো হয় যা পারস্পরিক প্রতিযোগায় চুক্তিমাফিক বিজয়ী হওয়ার মাধ্যমে সকল প্রতিযোগীর নিকট থেকে হাতিয়ে নেয়া হয়। তাই আপনি তাদের উত্তরে বলুন: এ দু’টিতে ধর্মীয় ও বৈষয়িক অনেকগুলো ক্ষতিকর দিক রয়েছে। যেমন: মেধা ও সম্পদ নষ্ট এবং পারস্পরিক বিদ্বেষ ও শত্রæতা ইত্যাদি। অন্যদিকে তাতে মানুষের জন্য কিছু উপকারিতাও আছে। যেমন: দুনিয়ার স্বার্থ হাসিল ও কিছু অর্থ উপার্জন। তবে এগুলোর ক্ষতি ও পাপ উপকারিতার চেয়ে অনেক বেশি। আর যে কাজে লাভের চেয়ে ক্ষতি বেশি কোন বুদ্ধিমান ব্যক্তি তা করতে পারে না। মূলতঃ এ বর্ণনাটি মদপান হারাম করার ব্যাপারে আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি ভ‚মিকা স্বরূপ বিবৃতি। আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন: হে নবী! আপনার সাথীরা আপনাকে জিজ্ঞাসা করবে কতটুকু সম্পদ সাধারণ সাদকা ও দান হিসেবে আল্লাহর পথে ব্যয় করা যায়? আপনি তাদের উত্তরে বলুন: তোমরা নিজেদের সম্পদ থেকে যা প্রয়োজনাতিরিক্ত তাই ব্যয় করবে। এটি ইসলামের শুরু যুগে ছিলো। পরবর্তীতে আল্লাহ তা‘আলা বিশেষ বিশেষ সম্পদের নির্দিষ্ট পরিমাণের ভিত্তিতে যাকাত ফরয করেন। এ সুস্পষ্ট বর্ণনার মতোই আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের জন্য শরীয়তের অন্যান্য বিধি-বিধানগুলো বর্ণনা করে থাকেন। যাতে তোমরা তা নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করতে পারো।

2:220Page 35

فِي ٱلدُّنۡيَا وَٱلۡأٓخِرَةِۗ وَيَسۡـَٔلُونَكَ عَنِ ٱلۡيَتَٰمَىٰۖ قُلۡ إِصۡلَاحٞ لَّهُمۡ خَيۡرٞۖ وَإِن تُخَالِطُوهُمۡ فَإِخۡوَٰنُكُمۡۚ وَٱللَّهُ يَعۡلَمُ ٱلۡمُفۡسِدَ مِنَ ٱلۡمُصۡلِحِۚ وَلَوۡ شَآءَ ٱللَّهُ لَأَعۡنَتَكُمۡۚ إِنَّ ٱللَّهَ عَزِيزٌ حَكِيمٞ ٢٢٠

To this world and the Hereafter. And they ask you about orphans. Say, "Improvement for them is best. And if you mix your affairs with theirs - they are your brothers. And Allāh knows the corrupter from the amender. And if Allāh had willed, He could have put you in difficulty. Indeed, Allāh is Exalted in Might and Wise."

২২০. আল্লাহ তা‘আলা উক্ত বিধানগুলো নাযিল করেছেন যেন তোমরা দুনিয়া ও আখিরাতে লাভজনক এমন বস্তু নিয়ে চিন্তা করে দেখতে পারো। হে নবী! আপনার সাথীরা আপনাকে প্রশ্ন করবে ইয়াতীমের পৃষ্ঠপোষকতার ব্যাপারে। কীভাবে তারা ওদের সাথে সম্পদের লেনদেন করবে? তারা কি খাদ্য, বাসস্থান ও অন্যান্য খরচাদির ক্ষেত্রে নিজেদের সম্পদকে ওদের সম্পদের সাথে মিশিয়ে ফেলবে? আপনি তাদের উত্তরে বলুন: তোমরা যদি দয়া করে কোন বিনিময় কিংবা তোমাদের সম্পদগুলোকে ওদের সম্পদগুলোর সাথে মিশানো ছাড়া তাদের সম্পদগুলো সঠিকভাবে পরিচালনা করো তাহলে তা তোমাদের জন্য অতি কল্যাণকর ও বেশি সাওয়াবের কারণ হবে। এমনকি তাদের সম্পদগুলোর জন্যও তা অতি লাভজনক হবে। কারণ, তাতে করে তাদের সম্পদগুলো পুরোপুরিভাবে রক্ষা পাবে। আর যদি তোমরা জীবন যাপন ও বাসস্থান ইত্যাদির ক্ষেত্রে নিজেদের সম্পদগুলোর সাথে ওদের সম্পদগুলো মিশিয়ে নাও তাতেও কোন অসুবিধে নেই। কারণ, তারা তোমাদের ধর্মীয় ভাই। আর ভাইতো ভাইয়ের সাহায্য-সহযোগিতা এবং তার কাজের দায়িত্ব পালন করবেই। উপরন্তু আল্লাহ তা‘আলা তো জানেনই অভিভাবকদের মধ্যকার কে ইয়াতীমদের সম্পদগুলোকে নিজের সম্পদগুলোর সাথে মিশিয়ে তা ধ্বংস করার ইচ্ছা পোষণ করে। আর কে তা সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য করে। আল্লাহ চাইলে ইয়াতীমদের ব্যাপারে তোমাদের জন্য কঠিন বিধান নাযিল করে তোমাদেরকে কষ্ট দিতে পারতেন। কিন্তু তিনি তাদের সাথে তোমাদের লেনদেনের ব্যাপারটি অতি সহজ করে দিয়েছেন। কারণ, তাঁর শরীয়ত সহজ-সরল নীতির উপর প্রতিষ্ঠিত। নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা পরাক্রমশালী; তাকে কেউ পরাজিত করতে পারবে না। এমনকি তিনি তাঁর সৃষ্টি, পরিচালনা ও শরীয়তের ক্ষেত্রে অত্যন্ত প্রজ্ঞাময়।

Text: Quranic Universal Library (Tarteel), via spa5k/tafsir_api (MIT), at a fixed version. The ayahs: Quran Foundation. Sources and licences

Contents

Ayat al-Kursi36Al-Kahfpage 42juz 15Bukhari 1Muslim 2999

Style

Theme
Text size
Layout

Читать на русском