Al-MukhtasarAl‑Baqarah · 2:246–269

Al-Mukhtasar · Tafsir · in Bangla

Al-Baqarah 2:246–269

2:246Page 40

أَلَمۡ تَرَ إِلَى ٱلۡمَلَإِ مِنۢ بَنِيٓ إِسۡرَٰٓءِيلَ مِنۢ بَعۡدِ مُوسَىٰٓ إِذۡ قَالُواْ لِنَبِيّٖ لَّهُمُ ٱبۡعَثۡ لَنَا مَلِكٗا نُّقَٰتِلۡ فِي سَبِيلِ ٱللَّهِۖ قَالَ هَلۡ عَسَيۡتُمۡ إِن كُتِبَ عَلَيۡكُمُ ٱلۡقِتَالُ أَلَّا تُقَٰتِلُواْۖ قَالُواْ وَمَا لَنَآ أَلَّا نُقَٰتِلَ فِي سَبِيلِ ٱللَّهِ وَقَدۡ أُخۡرِجۡنَا مِن دِيَٰرِنَا وَأَبۡنَآئِنَاۖ فَلَمَّا كُتِبَ عَلَيۡهِمُ ٱلۡقِتَالُ تَوَلَّوۡاْ إِلَّا قَلِيلٗا مِّنۡهُمۡۚ وَٱللَّهُ عَلِيمُۢ بِٱلظَّٰلِمِينَ ٢٤٦

Have you not considered the assembly of the Children of Israel after [the time of] Moses when they said to a prophet of theirs, "Send to us a king, and we will fight in the way of Allāh"? He said, "Would you perhaps refrain from fighting if battle was prescribed for you?" They said, "And why should we not fight in the cause of Allāh when we have been driven out from our homes and from our children?" But when battle was prescribed for them, they turned away, except for a few of them. And Allāh is Knowing of the wrongdoers.

২৪৬. হে নবী! আপনি কি ওই ব্যাপারটি সম্পর্কে চিন্তা করে দেখেছেন? মূসা (আলাইহিস-সালাম) এর পরে বনী ইসরাঈলদের মধ্যকার নেতৃস্থানীয়দের মাঝে ঘটেছিলো। তারা তাদের নবীকে বললো: আপনি আমাদের জন্য একজন রাষ্ট্রপতি ঠিক করুন যার সাথে আমরা আল্লাহর পথে যুদ্ধ করবো। তখন তাদের নবী তাদেরকে উদ্দেশ্য করে বললেন: আমার তো মনে হয়, আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের উপর যুদ্ধ ফরয করে দিলে তোমরা তাঁর পথে যুদ্ধ করবে না। তখন তারা নবীর ধারণাকে অস্বীকার করে বললো: কেন আমরা আল্লাহর পথে যুদ্ধ করবো না অথচ যুদ্ধ করার পরিস্থিতি ইতিমধ্যে আমাদের জন্য তৈরি হয়ে গেছে। কারণ, আমাদের শত্রæরা আমাদেরকে নিজেদের এলাকা থেকে বের করে দিয়েছে। উপরন্তু তারা আমাদের সন্তানদেরকে বন্দী করেছে। তাই আমরা নিজেদের মাতৃভ‚মি ফিরিয়ে নেয়া এবং আমাদের বন্দীদেরকে মুক্ত করার জন্য তাদের সাথে যুদ্ধ করবো। বস্তুতঃ আল্লাহ তা‘আলা যখন তাদের উপর যুদ্ধ ফরয করে দিলেন তখন তারা মুখ ফিরিয়ে নিলো। তাদের মধ্যকার সামান্য লোক ছাড়া তাদের অনেকেই তাদের কৃত ওয়াদা পূরণ করেনি। তবে আল্লাহর আদেশ থেকে যারা মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে এবং তাঁর সাথে কৃত ওয়াদা ভঙ্গ করেছে এ রকম যালিমদের সম্পর্কে আল্লাহ তা‘আলা ভালোই জানেন। তাই অচিরেই তিনি এদেরকে এর প্রতিদান দিবেন।

2:247Page 40

وَقَالَ لَهُمۡ نَبِيُّهُمۡ إِنَّ ٱللَّهَ قَدۡ بَعَثَ لَكُمۡ طَالُوتَ مَلِكٗاۚ قَالُوٓاْ أَنَّىٰ يَكُونُ لَهُ ٱلۡمُلۡكُ عَلَيۡنَا وَنَحۡنُ أَحَقُّ بِٱلۡمُلۡكِ مِنۡهُ وَلَمۡ يُؤۡتَ سَعَةٗ مِّنَ ٱلۡمَالِۚ قَالَ إِنَّ ٱللَّهَ ٱصۡطَفَىٰهُ عَلَيۡكُمۡ وَزَادَهُۥ بَسۡطَةٗ فِي ٱلۡعِلۡمِ وَٱلۡجِسۡمِۖ وَٱللَّهُ يُؤۡتِي مُلۡكَهُۥ مَن يَشَآءُۚ وَٱللَّهُ وَٰسِعٌ عَلِيمٞ ٢٤٧

And their prophet said to them, "Indeed, Allāh has sent to you Saul as a king." They said, "How can he have kingship over us while we are more worthy of kingship than him and he has not been given any measure of wealth?" He said, "Indeed, Allāh has chosen him over you and has increased him abundantly in knowledge and stature. And Allāh gives His sovereignty to whom He wills. And Allāh is all-Encompassing [in favor] and Knowing."

২৪৭. তাদের নবী তখন তাদেরকে বলেছিলেন: নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা তালূতকে তোমাদের রাষ্ট্রপতি বানিয়েছেন যেন তোমরা তাঁর ঝাÐাতলে যুদ্ধ করতে পারো। তখন তাদের নেতৃস্থানীয়রা এ মনোনয়নকে অপছন্দ করে তাঁর বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলে বললো: সে কীভাবে আমাদের রাষ্ট্রপতি হয়ে গেলো অথচ আমরা তাঁর চেয়েও রাষ্ট্রপতি হওয়ার বেশি উপযুক্ত। কারণ, তিনি রাষ্ট্রপতিদের সন্তানাদির কেউ নন। এমনকি তাঁকে এতো বেশি সম্পদও দেয়া হয়নি যা কর্তৃক তিনি রাষ্ট্র পরিচালনায় বিশেষ সহযোগিতা পাবেন। তখন তাদের নবী তাদেরকে বললেন: নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা তাঁকে তোমাদের উপর বাদশা হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছেন। অধিকন্তু তিনি তাঁকে প্রচুর জ্ঞান ও শারীরিক শক্তি দিয়েছেন। আর আল্লাহ তা‘আলা যাঁকে চান তাঁকেই তাঁর রহমত ও হিকমতের ভিত্তিতে রাষ্ট্র ক্ষমতা দিয়ে থাকেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা অতি দয়ালু তিনি যাকে চান তাকেই দয়া করেন। তিনি জানেন তাঁর সৃষ্টির মধ্যকার কে তাঁর অনুগ্রহের উপযুক্ত।

2:248Page 40

وَقَالَ لَهُمۡ نَبِيُّهُمۡ إِنَّ ءَايَةَ مُلۡكِهِۦٓ أَن يَأۡتِيَكُمُ ٱلتَّابُوتُ فِيهِ سَكِينَةٞ مِّن رَّبِّكُمۡ وَبَقِيَّةٞ مِّمَّا تَرَكَ ءَالُ مُوسَىٰ وَءَالُ هَٰرُونَ تَحۡمِلُهُ ٱلۡمَلَٰٓئِكَةُۚ إِنَّ فِي ذَٰلِكَ لَأٓيَةٗ لَّكُمۡ إِن كُنتُم مُّؤۡمِنِينَ ٢٤٨

And their prophet said to them, "Indeed, a sign of his kingship is that the chest will come to you in which is assurance1 from your Lord and a remnant of what the family of Moses and the family of Aaron had left, carried by the angels. Indeed in that is a sign for you, if you are believers."

২৪৮. তাদের নবী তাদেরকে আরো বললেন: নিশ্চয়ই তাঁকে তোমাদের উপর রাষ্ট্রপতিরূপে মনোনয়ন দিয়েছেন এবং এর প্রমাণ হলো আল্লাহ তা‘আলা তোমাদেরকে তাবূত নামক সিন্দুকটি ফিরিয়ে দিবেন। যা ফিরিশতারা বহন করে আনবে। তারা সিন্দুকটিকে খুবই সম্মান করতো। কিন্তু এক সময় তা তাদের কাছ থেকে উঠিয়ে নেয়া হয়েছিলো। তার মাঝে এক ধরনের প্রশান্তি লুক্কায়িত ছিলো। এমনকি তাতে মূসা ও হারূন (আলাইহিমাস-সালাম) এর রেখে যাওয়া কিছু জিনিসও ছিলো। যেমন: লাঠি ও তাওরাতের কিছু লেখা ফলক। নিশ্চয়ই তাতে রয়েছে তোমাদের জন্য সুস্পষ্ট নিদর্শন যদি তোমরা সত্যিকারার্থে মু’মিন হয়ে থাকো।

2:249Page 41

فَلَمَّا فَصَلَ طَالُوتُ بِٱلۡجُنُودِ قَالَ إِنَّ ٱللَّهَ مُبۡتَلِيكُم بِنَهَرٖ فَمَن شَرِبَ مِنۡهُ فَلَيۡسَ مِنِّي وَمَن لَّمۡ يَطۡعَمۡهُ فَإِنَّهُۥ مِنِّيٓ إِلَّا مَنِ ٱغۡتَرَفَ غُرۡفَةَۢ بِيَدِهِۦۚ فَشَرِبُواْ مِنۡهُ إِلَّا قَلِيلٗا مِّنۡهُمۡۚ فَلَمَّا جَاوَزَهُۥ هُوَ وَٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ مَعَهُۥ قَالُواْ لَا طَاقَةَ لَنَا ٱلۡيَوۡمَ بِجَالُوتَ وَجُنُودِهِۦۚ قَالَ ٱلَّذِينَ يَظُنُّونَ أَنَّهُم مُّلَٰقُواْ ٱللَّهِ كَم مِّن فِئَةٖ قَلِيلَةٍ غَلَبَتۡ فِئَةٗ كَثِيرَةَۢ بِإِذۡنِ ٱللَّهِۗ وَٱللَّهُ مَعَ ٱلصَّٰبِرِينَ ٢٤٩

And when Saul went forth with the soldiers, he said, "Indeed, Allāh will be testing you with a river. So whoever drinks from it is not of me, and whoever does not taste it is indeed of me, excepting one who takes [from it] in the hollow of his hand." But they drank from it, except a [very] few of them. Then when he had crossed it along with those who believed with him, they said, "There is no power for us today against Goliath and his soldiers." But those who were certain that they would meet Allāh said, "How many a small company has overcome a large company by permission of Allāh. And Allāh is with the patient."

২৪৯. যখন তালূত নিজ সৈন্য-সামন্ত নিয়ে এলাকা থেকে বের হলেন তখন তিনি তাদেরকে বললেন: নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা তোমাদেরকে একটি নদীর মাধ্যমে পরীক্ষা করবেন। সুতরাং যে ব্যক্তি সেখান থেকে পানি পান করবে সে আমার আদর্শপন্থী নয়। উপরন্তু সে যেন আমার সাথে যুদ্ধে অংশ গ্রহণ না করে। আর যে ব্যক্তি সেখান থেকে পানি পান করবে না সে আমার আদর্শপন্থী এবং সে যেন আমার সাথে যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করে। তবে যে ব্যক্তি বাধ্য হয়ে সেখান থেকে এক অঞ্জলি সমপরিমাণ পানি পান করবে তার কথা ভিন্ন। কিন্তু সবাই পানি পান করেছে। তবে কিছু সংখ্যক সৈন্য তা করেনি। তারা অত্যন্ত পিপাসা সত্তে¡ও পানি পান না করে ধৈর্য ধরেছে। অতঃপর যখন তালূত ও তাঁর মু’মিন সঙ্গীরা নদী অতিক্রম করে তখন কিছু সংখ্যক সৈন্য বলে উঠলো: জালূত ও তার সেনা বাহিনীর সাথে যুদ্ধ করার ক্ষমতা আজ আমাদের কারো নেই। তখন যারা কিয়ামতের দিবসে আল্লাহর সাক্ষাতে বিশ্বাসী তারা বললো: অনেকবারই দেখা গেছে যে, মু’মিনদের একটি ক্ষুদ্রতম দল আল্লাহর ইচ্ছায় ও তাঁর সহযোগিতায় কাফির সম্প্রদায়ের বৃহত্তম দলের বিরুদ্ধে জয়লাভ করেছে। সুতরাং কেবল ঈমানই জয়ের ক্ষেত্রে ধর্তব্য; বেশি সংখ্যক সৈন্য নয়। আর আল্লাহ তা‘আলা তাঁর ধৈর্যশীল বান্দাদের সাথেই রয়েছেন। তিনি তাদেরকে সাহায্য ও জয়যুক্ত করবেন।

2:250Page 41

وَلَمَّا بَرَزُواْ لِجَالُوتَ وَجُنُودِهِۦ قَالُواْ رَبَّنَآ أَفۡرِغۡ عَلَيۡنَا صَبۡرٗا وَثَبِّتۡ أَقۡدَامَنَا وَٱنصُرۡنَا عَلَى ٱلۡقَوۡمِ ٱلۡكَٰفِرِينَ ٢٥٠

And when they went forth to [face] Goliath and his soldiers, they said, "Our Lord, pour upon us patience and plant firmly our feet and give us victory over the disbelieving people."

২৫০. যখন তারা জালূত ও তার সেনা বাহিনীর সাথে যুদ্ধ করার জন্য বের হলো তখন তারা আল্লাহ অভিমুখী হয়ে তাঁর নিকট দু‘আ করতে গিয়ে বললো: হে আমাদের প্রভু! আপনি আমাদের হৃদয়গুলোর উপর ধৈর্য ঢেলে দিন এবং আমাদের পাগুলো দৃঢ় করুন। যাতে আমরা শত্রæর সামনে থেকে পালিয়ে না যাই এবং পরাজিত না হই। আর আপনি আমাদেরকে আপনার নিজ শক্তি ও ক্ষমতা দিয়ে কাফির সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে সাহায্য করুন।

2:251Page 41

فَهَزَمُوهُم بِإِذۡنِ ٱللَّهِ وَقَتَلَ دَاوُۥدُ جَالُوتَ وَءَاتَىٰهُ ٱللَّهُ ٱلۡمُلۡكَ وَٱلۡحِكۡمَةَ وَعَلَّمَهُۥ مِمَّا يَشَآءُۗ وَلَوۡلَا دَفۡعُ ٱللَّهِ ٱلنَّاسَ بَعۡضَهُم بِبَعۡضٖ لَّفَسَدَتِ ٱلۡأَرۡضُ وَلَٰكِنَّ ٱللَّهَ ذُو فَضۡلٍ عَلَى ٱلۡعَٰلَمِينَ ٢٥١

So they defeated them by permission of Allāh, and David killed Goliath, and Allāh gave him the kingship and wisdom [i.e., prophethood] and taught him from that which He willed. And if it were not for Allāh checking [some] people by means of others, the earth would have been corrupted, but Allāh is the possessor of bounty for the worlds.

২৫১. অতঃপর তারা আল্লাহর ইচ্ছায় শত্রæ পক্ষকে পরাজিত করে এবং দাঊদ তাদের সেনাপতি জালূতকে হত্যা করে। বস্তুতঃ আল্লাহ তা‘আলা তাকে ক্ষমতা ও নবুওয়াত দিয়েছেন এবং তাকে তাঁর ইচ্ছা মতো হরেক রকমের জ্ঞান দিয়েছেন। তিনি তাঁর মধ্যে দুনিয়া ও আখিরাতে উপকারে আসে এমন সব কিছুই একত্রিত করেছেন। যদি আল্লাহ তা‘আলার এ নিয়ম না থাকতো যে, তিনি একদলকে দিয়ে অন্য দলের ফাসাদ প্রতিহত করে থাকেন তাহলে ফাসাদ সৃষ্টিকারীদের দাপটে পুরো পৃথিবীই নষ্ট হয়ে যেতো। কিন্তু আল্লাহ তা‘আলা তাঁর সকল সৃষ্টির প্রতিই দয়াশীল।

2:252Page 41

تِلۡكَ ءَايَٰتُ ٱللَّهِ نَتۡلُوهَا عَلَيۡكَ بِٱلۡحَقِّۚ وَإِنَّكَ لَمِنَ ٱلۡمُرۡسَلِينَ ٢٥٢

These are the verses of Allāh which We recite to you, [O Muḥammad], in truth. And indeed, you are from among the messengers.

২৫২. হে নবী! এগুলো হলো আল্লাহ তা‘আলার পরিষ্কার ও সুস্পষ্ট আয়াত যা আমি আপনাকে তিলাওয়াত করে শুনাচ্ছি। যাতে সত্য সংবাদ ও ন্যায়পূর্ণ বিধান রয়েছে। আর আপনি নিশ্চয়ই সর্ব জগতের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে প্রেরিত রাসূলদেরই একজন।

2:253Page 42

۞ تِلۡكَ ٱلرُّسُلُ فَضَّلۡنَا بَعۡضَهُمۡ عَلَىٰ بَعۡضٖۘ مِّنۡهُم مَّن كَلَّمَ ٱللَّهُۖ وَرَفَعَ بَعۡضَهُمۡ دَرَجَٰتٖۚ وَءَاتَيۡنَا عِيسَى ٱبۡنَ مَرۡيَمَ ٱلۡبَيِّنَٰتِ وَأَيَّدۡنَٰهُ بِرُوحِ ٱلۡقُدُسِۗ وَلَوۡ شَآءَ ٱللَّهُ مَا ٱقۡتَتَلَ ٱلَّذِينَ مِنۢ بَعۡدِهِم مِّنۢ بَعۡدِ مَا جَآءَتۡهُمُ ٱلۡبَيِّنَٰتُ وَلَٰكِنِ ٱخۡتَلَفُواْ فَمِنۡهُم مَّنۡ ءَامَنَ وَمِنۡهُم مَّن كَفَرَۚ وَلَوۡ شَآءَ ٱللَّهُ مَا ٱقۡتَتَلُواْ وَلَٰكِنَّ ٱللَّهَ يَفۡعَلُ مَا يُرِيدُ ٢٥٣

Those messengers - some of them We caused to exceed others. Among them were those to whom Allāh spoke, and He raised some of them in degree. And We gave Jesus, the son of Mary, clear proofs, and We supported him with the Pure Spirit [i.e., Gabriel]. If Allāh had willed, those [generations] succeeding them would not have fought each other after the clear proofs had come to them. But they differed, and some of them believed and some of them disbelieved. And if Allāh had willed, they would not have fought each other, but Allāh does what He intends.

২৫৩. এ রাসূলগণ যাদের কথা আমি ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি তাদের কিছু সংখ্যককে আমি অন্যের উপর ওহী, অনুসারী ও মর্যাদার ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছি। তাদের কারো সাথে আল্লাহ কথা বলেছেন যেমন: মূসা। আর কারো মর্যাদা সুউচ্চ করেছেন যেমন: মুহাম্মাদ। তাঁকে আল্লাহ তা‘আলা সকল মানুষের নিকট পাঠিয়েছেন এবং তাঁর মাধ্যমেই নবুওয়াত সমাপ্তি লাভ করে। উপরন্তু তাঁর উম্মতকে সকল উম্মতের উপর শ্রেষ্ঠত্ব দেয়া হয়েছে। আর আমি ঈসা বিন মারইয়ামকে সুস্পষ্ট মু’জিযাহ দিয়েছি যা তাঁর নবুওয়াত প্রমাণ করে। যেমন: মৃত ব্যক্তিকে জীবিত করা এবং জন্মান্ধ ও কুষ্ঠরোগীকে সুস্থ করে দেয়া। তেমনিভাবে আমি তাঁকে জিব্রীলের মাধ্যমে শক্তিশালী করেছি যাতে তিনি আল্লাহর দেয়া দায়িত্ব আদায় করতে পারেন। আল্লাহ চাইলে রাসূলদের পরের লোকেরা হত্যাকাÐ চালাতে পারতো না। কারণ, তাদের নিকট সুস্পষ্ট নিদর্শনসমূহ এসেছে। তারা দ্ব›দ্ব করে পরস্পর বিভক্ত হয়ে গেছে। তাদের কেউ আল্লাহর উপর ঈমান এনেছে। আবার কেউ তাঁর সাথে কুফরি করেছে। মূলতঃ আল্লাহ চাইলে তারা কখনো হত্যাকাÐ চালাতে পারতো না। তবে আল্লাহ তা‘আলা যা চান তাই করেন। তিনি যাকে চান তাকে তাঁর দয়া ও করুণায় ঈমানের দিশা দেন। আর যাকে চান তাকে তাঁর ইনসাফ ও হিকমতের ভিত্তিতে পথভ্রষ্ট করেন।

2:254Page 42

يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓاْ أَنفِقُواْ مِمَّا رَزَقۡنَٰكُم مِّن قَبۡلِ أَن يَأۡتِيَ يَوۡمٞ لَّا بَيۡعٞ فِيهِ وَلَا خُلَّةٞ وَلَا شَفَٰعَةٞۗ وَٱلۡكَٰفِرُونَ هُمُ ٱلظَّٰلِمُونَ ٢٥٤

O you who have believed, spend from that which We have provided for you before there comes a Day in which there is no exchange [i.e., ransom] and no friendship and no intercession. And the disbelievers - they are the wrongdoers.

২৫৪. হে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অনুসারী ঈমানদারগণ! আমি তোমাদেরকে যে হরেক রকমের হালাল রিযিক দিয়েছি কিয়ামত আসার আগেই তা থেকে আল্লাহর পথে কিছুটা ব্যয় করো। সে দিন কোন ক্রয়-বিক্রয় থাকবে না। যার মাধ্যমে মানুষ কিছু লাভজনক বস্তু সংগ্রহ করতে পারে। না কোন বন্ধুত্ব থাকবে যা বিপদের সময় কাজে আসবে। না সে দিন কোন সুপারিশ চলবে যদ্বারা কেউ কোন প্রকার লাভবান হতে পারবে কিংবা ক্ষতি থেকে বাঁচতে পারবে। তবে আল্লাহ যার ব্যাপারে চাইবেন ও তার উপর সন্তুষ্ট থাকবেন শুধু তারই কাজে আসতে পারে। বস্তুতঃ কাফিররা তাদের কুফরির দরুন সত্যিই যালিম।

2:255Page 42

ٱللَّهُ لَآ إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ ٱلۡحَيُّ ٱلۡقَيُّومُۚ لَا تَأۡخُذُهُۥ سِنَةٞ وَلَا نَوۡمٞۚ لَّهُۥ مَا فِي ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَمَا فِي ٱلۡأَرۡضِۗ مَن ذَا ٱلَّذِي يَشۡفَعُ عِندَهُۥٓ إِلَّا بِإِذۡنِهِۦۚ يَعۡلَمُ مَا بَيۡنَ أَيۡدِيهِمۡ وَمَا خَلۡفَهُمۡۖ وَلَا يُحِيطُونَ بِشَيۡءٖ مِّنۡ عِلۡمِهِۦٓ إِلَّا بِمَا شَآءَۚ وَسِعَ كُرۡسِيُّهُ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلۡأَرۡضَۖ وَلَا يَـُٔودُهُۥ حِفۡظُهُمَاۚ وَهُوَ ٱلۡعَلِيُّ ٱلۡعَظِيمُ ٢٥٥

Allāh - there is no deity except Him, the Ever-Living,1 the Self-Sustaining.2 Neither drowsiness overtakes Him nor sleep. To Him belongs whatever is in the heavens and whatever is on the earth. Who is it that can intercede with Him except by His permission? He knows what is [presently] before them and what will be after them,3 and they encompass not a thing of His knowledge except for what He wills. His Kursī4 extends over the heavens and the earth, and their preservation tires Him not. And He is the Most High,5 the Most Great.6

২৫৫. তিনি আল্লাহ। তিনি ছাড়া সত্য কোন মা’বূদ নেই। তিনি চিরঞ্জীব তথা তিনি চির অবিনশ্বর। তাঁর কোন মৃত্যু নেই এবং তাঁর মাঝে কোন ত্রæটিও নেই। তিনি শাশ্বত সত্তা, চিরস্থায়ী সংরক্ষক। তিনি একাই বিদ্যমান। সৃষ্টির প্রতি তাঁর কোন প্রয়োজন নেই। বরং সকল সৃষ্টি তাঁকে দিয়েই বিদ্যমান। তারা সর্বাবস্থায় তাঁর মুখাপেক্ষী। তাঁকে কোন তন্দ্রা ও নিদ্রা পায় না। কারণ, তিনি পরিপূর্ণ জীবনের মালিক, চিরঞ্জীব ও চির সংরক্ষক। আকাশ ও জমিনে যা কিছু রয়েছে তা সবই তাঁর একক মালিকানাধীন। তাঁর অনুমতি ও সন্তুষ্টি ব্যতিরেকে কেউ কারো জন্য তাঁর নিকট সুপারিশ করতে পারে না। তিনি তাঁর সৃষ্টির অতীতে সংঘটিত সকল ব্যাপারের পূর্বাপর জানেন। এমনকি যা এখনো ঘটেনি তবে ভবিষ্যতে ঘটবে তাও জানেন। তাঁর জ্ঞানের কিয়দংশও তারা আয়ত্ব করতে পারে না। তবে আল্লাহ তা‘আলা যদি তাদেরকে কোন কিছু জানাতে চান সেটা ভিন্ন কথা। তাঁর কুরসী তথা প্রভুর পায়ের জায়গা এতো বড় ও প্রশস্ত যা একাই আকাশ ও জমিনকে বেষ্টন করে আছে। এতদুভয়ের সংরক্ষণ করা এমন দুষ্কর বা কষ্টকর নয় যে, তাঁকে ক্লান্ত করে দিতে পারে। বস্তুতঃ তিনি তাঁর সত্তা, পরিচালনা ও অপরাজেয় শক্তিতে সুউচ্চ মর্যাদার অধিকারী। তাঁর ক্ষমতা ও প্রতিপত্তিতে তিনি সুমহান।

2:256Page 42

لَآ إِكۡرَاهَ فِي ٱلدِّينِۖ قَد تَّبَيَّنَ ٱلرُّشۡدُ مِنَ ٱلۡغَيِّۚ فَمَن يَكۡفُرۡ بِٱلطَّٰغُوتِ وَيُؤۡمِنۢ بِٱللَّهِ فَقَدِ ٱسۡتَمۡسَكَ بِٱلۡعُرۡوَةِ ٱلۡوُثۡقَىٰ لَا ٱنفِصَامَ لَهَاۗ وَٱللَّهُ سَمِيعٌ عَلِيمٌ ٢٥٦

There shall be no compulsion in [acceptance of] the religion. The right course has become distinct from the wrong. So whoever disbelieves in ṭāghūt1 and believes in Allāh has grasped the most trustworthy handhold with no break in it. And Allāh is Hearing and Knowing.

২৫৬. ইসলাম ধর্মে প্রবেশের ব্যাপারে কোন জোর-জবরদস্তি নেই। কারণ, এটি হলো একটি সত্য ও সুস্পষ্ট ধর্ম। তাই তা কবুল করতে কাউকে বাধ্য করার কোন প্রয়োজন নেই। সত্যভ্রষ্টতা থেকে এটা একেবারেই ভিন্ন। সুতরাং যে ব্যক্তি আল্লাহ ছাড়া যার ইবাদাত করা হয় তার সাথে কুফরি করে ও তা থেকে সম্পর্কচ্ছিন্ন করে এবং এক আল্লাহর প্রতি ঈমান আনে তাহলে সে কিয়ামতের দিন মুক্তির জন্য এমন এক শক্তিশালী ধর্মীয় অবলম্বনকে আঁকড়ে ধরলো যা কখানো ছিঁড়ে যাবে না। আর আল্লাহ তা‘আলা তাঁর বান্দাদের সকল কথা শুনছেন এবং তাদের সকল কর্মকাÐ সম্পর্কে অবগত আছেন। তাই তিনি অচিরেই তাদেরকে এর প্রতিদান দিবেন।

2:257Page 43

ٱللَّهُ وَلِيُّ ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ يُخۡرِجُهُم مِّنَ ٱلظُّلُمَٰتِ إِلَى ٱلنُّورِۖ وَٱلَّذِينَ كَفَرُوٓاْ أَوۡلِيَآؤُهُمُ ٱلطَّٰغُوتُ يُخۡرِجُونَهُم مِّنَ ٱلنُّورِ إِلَى ٱلظُّلُمَٰتِۗ أُوْلَٰٓئِكَ أَصۡحَٰبُ ٱلنَّارِۖ هُمۡ فِيهَا خَٰلِدُونَ ٢٥٧

Allāh is the Ally1 of those who believe. He brings them out from darknesses into the light. And those who disbelieve - their allies are ṭāghūt. They take them out of the light into darknesses.2 Those are the companions of the Fire; they will abide eternally therein.

২৫৭. নিশ্চয়ই মু’মিনরা আল্লাহরই বন্ধু। তাই তিনি তাদেরকে ভালো কাজের তাওফীক দেন এবং সহযোগিতা করেন। উপরন্তু তিনি তাদেরকে কুফরি ও মূর্খতার অন্ধকার থেকে ঈমান ও জ্ঞানের আলোর দিকে বের করে আনেন। আর কাফিরদের বন্ধু হলো মূর্তি ও শরীকরা। যারা তাদের সামনে কুফরিকে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করে তাদেরকে ঈমান ও জ্ঞানের আলো থেকে কুফরি ও মূর্খতার অন্ধকারের দিকে বের করে আনে। এরা মূলতঃ জাহান্নামী। তারা চিরকাল সেথায় অবস্থান করবে। যখন আল্লাহ তা‘আলা উভয় পক্ষের কথা এখানে উল্লেখ করেছেন তখন তিনি উভয় পক্ষের দু’টি দৃষ্টান্তও উপস্থাপন করেছেন। তিনি বলেন:

2:258Page 43

أَلَمۡ تَرَ إِلَى ٱلَّذِي حَآجَّ إِبۡرَٰهِـۧمَ فِي رَبِّهِۦٓ أَنۡ ءَاتَىٰهُ ٱللَّهُ ٱلۡمُلۡكَ إِذۡ قَالَ إِبۡرَٰهِـۧمُ رَبِّيَ ٱلَّذِي يُحۡيِۦ وَيُمِيتُ قَالَ أَنَا۠ أُحۡيِۦ وَأُمِيتُۖ قَالَ إِبۡرَٰهِـۧمُ فَإِنَّ ٱللَّهَ يَأۡتِي بِٱلشَّمۡسِ مِنَ ٱلۡمَشۡرِقِ فَأۡتِ بِهَا مِنَ ٱلۡمَغۡرِبِ فَبُهِتَ ٱلَّذِي كَفَرَۗ وَٱللَّهُ لَا يَهۡدِي ٱلۡقَوۡمَ ٱلظَّٰلِمِينَ ٢٥٨

Have you not considered the one who argued with Abraham about his Lord [merely] because Allāh had given him kingship? When Abraham said, "My Lord is the one who gives life and causes death," he said, "I give life and cause death." Abraham said, "Indeed, Allāh brings up the sun from the east, so bring it up from the west." So the disbeliever was overwhelmed [by astonishment], and Allāh does not guide the wrongdoing people.

২৫৮. হে নবী! আপনি কি সেই গাদ্দারের দুঃসাহসিকতার চেয়ে আরো আশ্চর্য কোন কিছু দেখেছেন যে ইব্রাহীম (আলাইহিস-সালাম) এর সাথে আল্লাহর রাজত্ব ও কর্মকাÐ বিষয়ে ঝগড়া করেছে? আল্লাহ তা‘আলা তাকে ক্ষমতা দিয়েছেন। আর সে গাদ্দারি করতে শুরু করলো। ইব্রাহীম (আলাইহিস-সালাম) তাঁর প্রভুর বৈশিষ্ট্যাবলী বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন: আমার প্রভু সকল সৃষ্টির জীবন ও মৃত্যু দিয়ে থাকেন। তখন গাদ্দারটি হঠকারিতা দেখিয়ে বললো: আমিও তো জীবন-মৃত্যু দিতে পারি। আমি যাকে চাইবো হত্যা করবো। আর যাকে চাইবো ক্ষমা করবো। তখন ইব্রাহীম (আলাইহিস-সালাম) আরো একটি বড় প্রমাণ দাঁড় করিয়ে বললেন: আমার প্রভু যাঁর ইবাদাত আমি করছি তিনি তো সূর্যকে পূর্ব দিক থেকে উদিত করেন। তোমার সাধ্য থাকলে তুমি তা পশ্চিম দিক থেকে উদিত করে দেখাও। গাদ্দারটি তখন অস্থির হয়ে পড়লো এবং তার কথা একেবারেই বন্ধ হয়ে গেলো। উপরন্তু সে শক্তিশালী প্রমাণের সামনে পরাজিত হলো। আর আল্লাহ তা‘আলা যালিমদেরকে তাদের যুলুম ও হঠকারিতার দরুন তাঁর সঠিক পথে চলার তাওফীক দেন না।

2:259Page 43

أَوۡ كَٱلَّذِي مَرَّ عَلَىٰ قَرۡيَةٖ وَهِيَ خَاوِيَةٌ عَلَىٰ عُرُوشِهَا قَالَ أَنَّىٰ يُحۡيِۦ هَٰذِهِ ٱللَّهُ بَعۡدَ مَوۡتِهَاۖ فَأَمَاتَهُ ٱللَّهُ مِاْئَةَ عَامٖ ثُمَّ بَعَثَهُۥۖ قَالَ كَمۡ لَبِثۡتَۖ قَالَ لَبِثۡتُ يَوۡمًا أَوۡ بَعۡضَ يَوۡمٖۖ قَالَ بَل لَّبِثۡتَ مِاْئَةَ عَامٖ فَٱنظُرۡ إِلَىٰ طَعَامِكَ وَشَرَابِكَ لَمۡ يَتَسَنَّهۡۖ وَٱنظُرۡ إِلَىٰ حِمَارِكَ وَلِنَجۡعَلَكَ ءَايَةٗ لِّلنَّاسِۖ وَٱنظُرۡ إِلَى ٱلۡعِظَامِ كَيۡفَ نُنشِزُهَا ثُمَّ نَكۡسُوهَا لَحۡمٗاۚ فَلَمَّا تَبَيَّنَ لَهُۥ قَالَ أَعۡلَمُ أَنَّ ٱللَّهَ عَلَىٰ كُلِّ شَيۡءٖ قَدِيرٞ ٢٥٩

Or [consider such an example] as the one who passed by a township which had fallen into ruin. He said, "How will Allāh bring this to life after its death?" So Allāh caused him to die for a hundred years; then He revived him. He said, "How long have you remained?" He [the man] said, "I have remained a day or part of a day." He said, "Rather, you have remained one hundred years. Look at your food and your drink; it has not changed with time. And look at your donkey; and We will make you a sign for the people. And look at the bones [of this donkey] - how We raise them and then We cover them with flesh." And when it became clear to him, he said, "I know that Allāh is over all things competent."

২৫৯. তেমনিভাবে আপনি কি তার মতোও কাউকে দেখেছেন যে এমন একটি জনপদের পাশ দিয়ে রওয়ানা করলো যার ছাদগুলো ভেঙ্গে পড়েছে এবং তার দেয়ালগুলোও ধ্বংস হয়ে গিয়েছে? উপরন্তু তার অধিবাসীরাও দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছে। ফলে তা এক ভীতিকর শূন্য ভুমিতে পরিণত হয়েছে। লোকটি তখন আশ্চর্য হয়ে বললো: কীভাবে আল্লাহ তা‘আলা এ জনপদের লোকদেরকে মৃত্যুর পর আবারো জীবিত করবেন?! তখন আল্লাহ তা‘আলা তাকে এক শত বছরের জন্য মৃত্যু দিলেন। এরপর তিনি তাকে আবারো জীবিত করে জিজ্ঞাসা করলেন: তুমি কতো বছর মৃত অবস্থায় ছিলে? তার উত্তরে সে বললো: আমি এমতাবস্থায় একদিন বা অর্ধ দিন ছিলাম। আল্লাহ তা‘আলা তাকে বললেন: বরং তুমি পূর্ণ এক শত বছর এমতাবস্থায় ছিলে। তুমি নিজের সাথে থাকা খাদ্য ও পানীয়ের দিকে তাকাও। সেগুলো এখনো অপরিবর্তিতভাবে নিজ অবস্থায়ই বিদ্যমান। অথচ খাদ্য ও পানীয় সবচেয়ে দ্রæত নষ্ট হয়ে যায়। তেমনিভাবে তুমি নিজের মরা গাধার দিকে তাকাও। আমি এটি এ জন্য করেছি যে, তা যেন মানুষের জন্য সুস্পষ্ট আলামত হিসেবে বিদ্যমান থাকে। যা তাদের পুনরুত্থানের ব্যাপারে আল্লাহর ক্ষমতার ব্যাপারটি প্রমাণ করবে। তুমি তোমার নিজের গাধার হাড়গুলোর দিকে তাকাও যা বিক্ষিপ্ত ও একটি থেকে অপরটি অনেক দূরে সরে গেছে। কীভাবে আমি সেগুলোকে যথাস্থানে উঠিয়ে একটিকে অপরটির সাথে জোড়া লাগিয়ে সেগুলোর উপর গোস্ত জড়িয়ে তাতে পুনর্জীবন দেবো। যখন সে এগুলো দেখলো তখন তার নিকট মূল ব্যাপারটি সুস্পষ্ট হয়ে গেলো। আর সে আল্লাহর ক্ষমতার কথা স্বীকার করে বললো: আমি জানি নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান।

2:260Page 44

وَإِذۡ قَالَ إِبۡرَٰهِـۧمُ رَبِّ أَرِنِي كَيۡفَ تُحۡيِ ٱلۡمَوۡتَىٰۖ قَالَ أَوَلَمۡ تُؤۡمِنۖ قَالَ بَلَىٰ وَلَٰكِن لِّيَطۡمَئِنَّ قَلۡبِيۖ قَالَ فَخُذۡ أَرۡبَعَةٗ مِّنَ ٱلطَّيۡرِ فَصُرۡهُنَّ إِلَيۡكَ ثُمَّ ٱجۡعَلۡ عَلَىٰ كُلِّ جَبَلٖ مِّنۡهُنَّ جُزۡءٗا ثُمَّ ٱدۡعُهُنَّ يَأۡتِينَكَ سَعۡيٗاۚ وَٱعۡلَمۡ أَنَّ ٱللَّهَ عَزِيزٌ حَكِيمٞ ٢٦٠

And [mention] when Abraham said, "My Lord, show me how You give life to the dead." [Allāh] said, "Have you not believed?" He said, "Yes, but [I ask] only that my heart may be satisfied." [Allāh] said, "Take four birds and commit them to yourself.1 Then [after slaughtering them] put on each hill a portion of them; then call them - they will come [flying] to you in haste. And know that Allāh is Exalted in Might and Wise."

২৬০. হে নবী! আপনি স্মরণ করুন সে সময়ের কথা যখন ইব্রাহীম (আলাইহিস-সালাম) বললেন: হে আমার প্রভু! আপনি কীভাবে মৃতকে জীবিত করেন সেটা আমাকে দেখান! আল্লাহ তা‘আলা তাঁকে বললেন: তুমি কি এ ব্যাপারটিকে বিশ্বাস করো না? ইব্রাহীম (আলাইহিস-সালাম) বললেন: হাঁ, অবশ্যই করি। তবে আমি নিজ অন্তরের আরো প্রশান্তির জন্য চাচ্ছি। তখন আল্লাহ তা‘আলা তাঁকে আদেশ করে বললেন: তুমি চারটি পাখীকে নিজের কাছে নিয়ে সেগুলোকে টুকরো টুকরো করে ফেলো। এরপর সেগুলোর অংশ বিশেষকে তোমার আশপাশের সবগুলো পাহাড়ের উপর রাখো। অতঃপর সেগুলোকে ডাকলে দেখবে সেগুলো জীবিত হয়ে খুব দ্রæত তোমার দিকে ধেয়ে আসছে। হে ইব্রাহীম! তুমি জেনে রাখো, নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা নিজ ক্ষমতায় পরাক্রমশালী। তিনি তাঁর আদেশ, শরীয়ত ও সৃষ্টির ব্যাপারে অত্যন্ত প্রজ্ঞাবান।

2:261Page 44

مَّثَلُ ٱلَّذِينَ يُنفِقُونَ أَمۡوَٰلَهُمۡ فِي سَبِيلِ ٱللَّهِ كَمَثَلِ حَبَّةٍ أَنۢبَتَتۡ سَبۡعَ سَنَابِلَ فِي كُلِّ سُنۢبُلَةٖ مِّاْئَةُ حَبَّةٖۗ وَٱللَّهُ يُضَٰعِفُ لِمَن يَشَآءُۚ وَٱللَّهُ وَٰسِعٌ عَلِيمٌ ٢٦١

The example of those who spend their wealth in the way of Allāh is like a seed [of grain] which grows seven spikes; in each spike is a hundred grains. And Allāh multiplies [His reward] for whom He wills. And Allāh is all-Encompassing and Knowing.

২৬১. যারা আল্লাহর পথে নিজেদের সম্পদগুলো ব্যয় করছে এমন মু’মিনদের পুণ্যের দৃষ্টান্ত হলো যেন একটি দানা। যা একজন চাষী উর্বর ভ‚মিতে রাখলে তা সাতটি শীষ উৎপন্ন করে। প্রত্যেক শীষে একশতটি দানা রয়েছে। আল্লাহ তা‘আলা তাঁর বান্দাদের যাকে চান আরো বেশি করে পুণ্য দেন। তিনি তাদেরকে বিনা হিসাবে সাওয়াব দিয়ে থাকেন। বস্তুতঃ আল্লাহ তা‘আলা অতি দানশীল ও দয়ালু। তিনি জানেন কে বেশি পাওয়ার উপযুক্ত।

2:262Page 44

ٱلَّذِينَ يُنفِقُونَ أَمۡوَٰلَهُمۡ فِي سَبِيلِ ٱللَّهِ ثُمَّ لَا يُتۡبِعُونَ مَآ أَنفَقُواْ مَنّٗا وَلَآ أَذٗى لَّهُمۡ أَجۡرُهُمۡ عِندَ رَبِّهِمۡ وَلَا خَوۡفٌ عَلَيۡهِمۡ وَلَا هُمۡ يَحۡزَنُونَ ٢٦٢

Those who spend their wealth in the way of Allāh and then do not follow up what they have spent with reminders [of it] or [other] injury will have their reward with their Lord, and there will be no fear concerning them, nor will they grieve.

২৬২. যারা আল্লাহর আনুগত্য ও সন্তুষ্টির কাজে নিজেদের সম্পদসমূহ ব্যয় করে এবং তার সাওয়াবকে বাতিল করতে পারে এমন কথা ও কাজ করে না। যেমন: খরচ করে প্রতিদান চায় না এবং দান গ্রহণকারীকে কষ্টও দেয় না তাদের জন্য রয়েছে তাদের প্রভুর নিকট সুনিশ্চিত প্রতিদান। তারা ভবিষ্যতের ব্যাপারে আতঙ্কিত হবে না এবং তারা গত জীবনের উপর চিন্তিতও হবে না। কারণ, তাদের উপর আল্লাহর অসীম অনুগ্রহ রয়েছে।

2:263Page 44

۞ قَوۡلٞ مَّعۡرُوفٞ وَمَغۡفِرَةٌ خَيۡرٞ مِّن صَدَقَةٖ يَتۡبَعُهَآ أَذٗىۗ وَٱللَّهُ غَنِيٌّ حَلِيمٞ ٢٦٣

Kind speech and forgiveness are better than charity followed by injury. And Allāh is Free of need and Forbearing.

২৬৩. সুন্দর কথা বলে কোন মু’মিনের অন্তরকে খুশি করা এবং অসদাচরণকারীকে ক্ষমা করা অনেক উত্তম এমন সদকার চেয়ে যার পেছনে আসে কষ্ট ও তিক্ততা। যেমন: সদকা গ্রহণকারীকে খোঁটা দিয়ে কষ্ট দেয়া। আল্লাহ তাঁর বান্দার প্রতি অমুখাপেক্ষী। তিনি অত্যন্ত ধৈর্যশীল। দ্রæত কাউকে শাস্তি দেন না।

2:264Page 44

يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ لَا تُبۡطِلُواْ صَدَقَٰتِكُم بِٱلۡمَنِّ وَٱلۡأَذَىٰ كَٱلَّذِي يُنفِقُ مَالَهُۥ رِئَآءَ ٱلنَّاسِ وَلَا يُؤۡمِنُ بِٱللَّهِ وَٱلۡيَوۡمِ ٱلۡأٓخِرِۖ فَمَثَلُهُۥ كَمَثَلِ صَفۡوَانٍ عَلَيۡهِ تُرَابٞ فَأَصَابَهُۥ وَابِلٞ فَتَرَكَهُۥ صَلۡدٗاۖ لَّا يَقۡدِرُونَ عَلَىٰ شَيۡءٖ مِّمَّا كَسَبُواْۗ وَٱللَّهُ لَا يَهۡدِي ٱلۡقَوۡمَ ٱلۡكَٰفِرِينَ ٢٦٤

O you who have believed, do not invalidate your charities with reminders [of it] or injury as does one who spends his wealth [only] to be seen by the people and does not believe in Allāh and the Last Day. His example is like that of a [large] smooth stone upon which is dust and is hit by a downpour that leaves it bare. They are unable [to keep] anything of what they have earned. And Allāh does not guide the disbelieving people.

২৬৪. হে আল্লাহতে বিশ্বাসী ও তাঁর রাসূলের অনুসারী ঈমানদারগণ! তোমরা নিজেদের সদকার সাওয়াবকে সদকা গ্রহণকারীকে খোঁটা ও কষ্ট দিয়ে ওই ব্যক্তির ন্যায় নষ্ট করে দিয়ো না যে তার সম্পদগুলো লোক দেখানো এবং তাদের প্রশংসা পাওয়ার জন্য ব্যয় করে। উপরন্তু সে কাফির। যে আল্লাহ ও পরকাল এবং সেখানকার সাওয়াব ও শাস্তিতে বিশ্বাসী নয়। এর দৃষ্টান্ত হলো এমন মসৃণ পাথর যার উপর মাটির আস্তর রয়েছে। এর উপর যখন ভারী বৃষ্টি হলো তখন তা ওই আস্তর ধুয়ে ফেলে পাথরটিকে আবারো পরিষ্কার ও মসৃণ করে তোললো। যার উপর আর কোন কিছুই রইলো না। তেমনিভাবে লোক দেখানো আমল ও সদকার সাওয়াবগুলো নষ্ট হয়ে যায়। আল্লাহর নিকট তার কিছুই জমা থাকে না এবং অবশেষে তারা কিছুই পাবে না। বস্তুতঃ আল্লাহ তা‘আলা কাফিরদেরকে এমন কাজের দিশা দেন না যা তাঁকে সন্তুষ্ট করে এবং তাদেরকে তাদের আমল ও সদকায় লাভবান করে।

2:265Page 45

وَمَثَلُ ٱلَّذِينَ يُنفِقُونَ أَمۡوَٰلَهُمُ ٱبۡتِغَآءَ مَرۡضَاتِ ٱللَّهِ وَتَثۡبِيتٗا مِّنۡ أَنفُسِهِمۡ كَمَثَلِ جَنَّةِۭ بِرَبۡوَةٍ أَصَابَهَا وَابِلٞ فَـَٔاتَتۡ أُكُلَهَا ضِعۡفَيۡنِ فَإِن لَّمۡ يُصِبۡهَا وَابِلٞ فَطَلّٞۗ وَٱللَّهُ بِمَا تَعۡمَلُونَ بَصِيرٌ ٢٦٥

And the example of those who spend their wealth seeking means to the approval of Allāh and assuring [reward for] themselves is like a garden on high ground which is hit by a downpour - so it yields its fruits in double. And [even] if it is not hit by a downpour, then a drizzle [is sufficient]. And Allāh, of what you do, is Seeing.

২৬৫. যারা আল্লাহর ওয়াদায় বিশ্বাসী হয়ে কোন ধরনের চাপাচাপি ছাড়া স্বেচ্ছায় আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে নিজেদের সম্পদগুলো ব্যয় করে তাদের দৃষ্টান্ত হচ্ছে এমন এক বাগান যা উর্বর উঁচু জায়গায় অবস্থিত এবং যার উপর ভারী বর্ষণ হলে তা দ্বিগুণ ফল উৎপন্ন করে। আর যদি ভারী বর্ষণ না হয়ে তার উপর হালকা বর্ষণ হয় তাহলেও তা তার জন্য যথেষ্ট। কারণ, জমিনটি তো উর্বর। এভাবেই আল্লাহ তা‘আলা নিষ্ঠাবানদের সদকা গ্রহণ করে তার সাওয়াব দ্বিগুণ বাড়িয়ে দেন। যদিও তা যৎসামান্যই হোক না কেন। বস্তুতঃ আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের সকল কর্মকাÐ দেখছেন। তাই তাঁর নিকট নিষ্ঠাবান ও লোক দেখানো মানুষের অবস্থা গোপন নয়। তিনি অচিরেই প্রত্যেককে তাঁর উপযুক্ত প্রতিদান দিবেন।

2:266Page 45

أَيَوَدُّ أَحَدُكُمۡ أَن تَكُونَ لَهُۥ جَنَّةٞ مِّن نَّخِيلٖ وَأَعۡنَابٖ تَجۡرِي مِن تَحۡتِهَا ٱلۡأَنۡهَٰرُ لَهُۥ فِيهَا مِن كُلِّ ٱلثَّمَرَٰتِ وَأَصَابَهُ ٱلۡكِبَرُ وَلَهُۥ ذُرِّيَّةٞ ضُعَفَآءُ فَأَصَابَهَآ إِعۡصَارٞ فِيهِ نَارٞ فَٱحۡتَرَقَتۡۗ كَذَٰلِكَ يُبَيِّنُ ٱللَّهُ لَكُمُ ٱلۡأٓيَٰتِ لَعَلَّكُمۡ تَتَفَكَّرُونَ ٢٦٦

Would one of you like to have a garden of palm trees and grapevines underneath which rivers flow in which he has from every fruit? But he is afflicted with old age and has weak [i.e., immature] offspring, and it is hit by a whirlwind containing fire and is burned. Thus does Allāh make clear to you [His] verses that you might give thought.

২৬৬. তোমাদের কেউ কি চায় তার একটি বাগান হবে যাতে থাকবে খেজুর ও আঙ্গুর গাছ। যার মাঝ দিয়ে প্রবাহিত হবে প্রচুর সুমিষ্ট পানি। আরো থাকবে সব রকমের মজাদার ফলফলাদি। আর ইতিমধ্যে সে বুড়োও হয়ে গেলো। এমন বুড়ো যে সে আর এখন উপার্জনক্ষম নয়। তদুপরি তার রয়েছে ছোট ছোট কয়েকটি সন্তান। যারা দুর্বল ও কর্মক্ষম নয়। কিন্তু হঠাৎ করে তার সেই বাগানের উপর দিয়ে বয়ে গেলো কঠিন উত্তপ্ত দমকা বায়ু। যার ফলে পুরো বাগানটিই পুড়ে গেলো। অথচ এ সময় বাগানটির তার খুবই প্রয়োজন ছিলো। কারণ, সে নিজে বৃদ্ধ এবং তার সন্তানরাও কর্মক্ষম নয়। সুতরাং যে ব্যক্তি লোক দেখানো সদকা করে সে এ লোটির মতোই। সে কিয়ামতের দিন আল্লাহর সামনে উপস্থিত হবে কোন সাওয়াব ছাড়াই। এমন সময়ে যখন তার সাওয়াবের খুবই প্রয়োজন হবে। এ বর্ণনার ন্যায় আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের জন্য দুনিয়া ও আখিরাতে যাই লাভজনক তা সবই বর্ণনা করে থাকেন। যাতে তোমরা তা নিয়ে একটু চিন্তা-ভাবনা করতে পারো।

2:267Page 45

يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓاْ أَنفِقُواْ مِن طَيِّبَٰتِ مَا كَسَبۡتُمۡ وَمِمَّآ أَخۡرَجۡنَا لَكُم مِّنَ ٱلۡأَرۡضِۖ وَلَا تَيَمَّمُواْ ٱلۡخَبِيثَ مِنۡهُ تُنفِقُونَ وَلَسۡتُم بِـَٔاخِذِيهِ إِلَّآ أَن تُغۡمِضُواْ فِيهِۚ وَٱعۡلَمُوٓاْ أَنَّ ٱللَّهَ غَنِيٌّ حَمِيدٌ ٢٦٧

O you who have believed, spend from the good things which you have earned and from that which We have produced for you from the earth. And do not aim toward the defective therefrom, spending [from that] while you would not take it [yourself] except with closed eyes. And know that Allāh is Free of need and Praiseworthy.

২৬৭. হে আল্লাহতে বিশ্বাসী ও তাঁর রাসূলের অনুসারী ঈমানদারগণ! তোমরা নিজেদের হালাল ও পবিত্র কামাই এবং আমি জমিনের উদ্ভিদ থেকে যা উৎপন্ন করি তা থেকে তোমরা উৎকৃষ্ট অংশ আল্লাহর পথে খরচ করো। তোমরা কখনো সেগুলোর মধ্যকার খারাপটি সদকা হিসেবে দিয়ো না। তোমাদেরকে যদি এমন কিছু দেয়া হয় তাহলে তোমরা হয়তো এমন অপছন্দীয় বস্তু কেবল বাধ্য হয়েই চোখ বন্ধ করে নিবে। তাই তোমরা কেন আল্লাহর জন্য এমন কিছু পছন্দ করো যা নিজেদের জন্য পছন্দ করো না?! তোমরা জেনে রাখো, নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের এ সদকার প্রতি অবশ্যই অমুখাপেক্ষী। তিনি নিজ ব্যক্তিত্ব ও কাজে সত্যিই প্রসংশিত।

2:268Page 45

ٱلشَّيۡطَٰنُ يَعِدُكُمُ ٱلۡفَقۡرَ وَيَأۡمُرُكُم بِٱلۡفَحۡشَآءِۖ وَٱللَّهُ يَعِدُكُم مَّغۡفِرَةٗ مِّنۡهُ وَفَضۡلٗاۗ وَٱللَّهُ وَٰسِعٌ عَلِيمٞ ٢٦٨

Satan threatens you with poverty and orders you to immorality, while Allāh promises you forgiveness from Him and bounty. And Allāh is all-Encompassing and Knowing.

২৬৮. শয়তান তোমাদেরকে দরিদ্রতার ভয় দেখায়, কার্পণ্যের প্রতি উৎসাহি করে এবং তোমাদেরকে গুনাহ ও পাপে লিপ্ত হওয়ার জন্য আহŸান করে। আর আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের সাথে ওয়াদা করছেন মহৎ ক্ষমা ও প্রশস্ত রিযিকের। বস্তুতঃ আল্লাহ তা‘আলা খুবই দয়াবান এবং তিনি তাঁর বান্দাদের অবস্থা সম্পর্কে ভালোই জানেন।

2:269Page 45

يُؤۡتِي ٱلۡحِكۡمَةَ مَن يَشَآءُۚ وَمَن يُؤۡتَ ٱلۡحِكۡمَةَ فَقَدۡ أُوتِيَ خَيۡرٗا كَثِيرٗاۗ وَمَا يَذَّكَّرُ إِلَّآ أُوْلُواْ ٱلۡأَلۡبَٰبِ ٢٦٩

He gives wisdom1 to whom He wills, and whoever has been given wisdom has certainly been given much good. And none will remember except those of understanding.

২৬৯. তিনি যাকে চান তাকে সত্য কথা ও সঠিক কাজের তাওফীক দান করেন। যাকে এমন কিছু দেয়া হয়েছে তাকে নিশ্চয়ই অনেক কল্যাণই দেয়া হয়েছে। আল্লাহর আয়াতসমূহ থেকে কেবল তারাই উপদেশ গ্রহণ করে যাদের মূলতঃ পরিপূর্ণ বিবেক-বুদ্ধি রয়েছে। যারা সর্বদা আল্লাহর নূরে আলোকিত এবং তাঁর হিদায়েতে হিদায়েতপ্রাপ্ত।

Text: Quranic Universal Library (Tarteel), via spa5k/tafsir_api (MIT), at a fixed version. The ayahs: Quran Foundation. Sources and licences

Contents

Ayat al-Kursi36Al-Kahfpage 42juz 15Bukhari 1Muslim 2999

Style

Theme
Text size
Layout

Читать на русском