Al-MukhtasarAn‑Nisa · 4:129–164

Al-Mukhtasar · Tafsir · in Bangla

An-Nisa 4:129–164

4:129Page 99

وَلَن تَسۡتَطِيعُوٓاْ أَن تَعۡدِلُواْ بَيۡنَ ٱلنِّسَآءِ وَلَوۡ حَرَصۡتُمۡۖ فَلَا تَمِيلُواْ كُلَّ ٱلۡمَيۡلِ فَتَذَرُوهَا كَٱلۡمُعَلَّقَةِۚ وَإِن تُصۡلِحُواْ وَتَتَّقُواْ فَإِنَّ ٱللَّهَ كَانَ غَفُورٗا رَّحِيمٗا ١٢٩

And you will never be able to be equal [in feeling] between wives, even if you should strive [to do so]. So do not incline completely [toward one] and leave another hanging.1 And if you amend [your affairs] and fear Allāh - then indeed, Allāh is ever Forgiving and Merciful.

১২৯. হে স্বামীরা! তোমরা কখনো বিপুল ইচ্ছা থাকা সত্তে¡ও হৃদয়ের আকর্ষণের ক্ষেত্রে স্ত্রীদের মাঝে পরিপূর্ণ ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করতে পারবে না। এমন কিছু কারণে যা সাধারণত তোমাদের ইচ্ছার বাইরে। তাই তোমরা যাকে ভালোবাসো না তার থেকে পরিপূর্ণভাবে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে তাকে ঝুলিয়ে রাখা বস্তুর ন্যায় পরিত্যাগ করো না। না তার কোন স্বামী আছে যে তার অধিকার আদায় করবে। না তার কোন স্বামী নেই তাই সে বিবাহের জন্য উৎসুকা থাকবে। আর যদি তোমরা নিজেদের ব্যাপারগুলো সংশোধন করে স্ত্রীর অধিকার আদায়ের ব্যাপারে নিজেদেরকে বাধ্য এবং সে ক্ষেত্রে আল্লাহকে ভয় করতে পারো তাহলে নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের উপর অত্যন্ত ক্ষমাশীল ও দয়ালু।

4:130Page 99

وَإِن يَتَفَرَّقَا يُغۡنِ ٱللَّهُ كُلّٗا مِّن سَعَتِهِۦۚ وَكَانَ ٱللَّهُ وَٰسِعًا حَكِيمٗا ١٣٠

But if they separate [by divorce], Allāh will enrich each [of them] from His abundance. And ever is Allāh Encompassing and Wise.

১৩০. যদি স্বামী-স্ত্রী উভয়ে তালাক অথবা খোলার মাধ্যমে একে অপর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় তাহলে আল্লাহ তা‘আলা তাদের প্রত্যেককে তাঁর প্রশস্ত করুণায় অন্যের প্রতি অমুখাপেক্ষী করবেন। পুরুষকে তার আগের স্ত্রী থেকে আরো উত্তম স্ত্রী দিয়ে তার আগের স্ত্রীর প্রতি অমুখাপেক্ষী করবেন। তেমনিভাবে মহিলাকে তার আগের স্বামী থেকে আরো উত্তম স্বামী দিয়ে তার আগের স্বামীর প্রতি অমুখাপেক্ষী করবেন। বস্তুতঃ আল্লাহ তা‘আলা প্রশস্ত করুণা ও দয়ার মালিক। তাঁর তাকদীর ও পরিচালনায় অত্যন্ত প্রজ্ঞাময়।

4:131Page 99

وَلِلَّهِ مَا فِي ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَمَا فِي ٱلۡأَرۡضِۗ وَلَقَدۡ وَصَّيۡنَا ٱلَّذِينَ أُوتُواْ ٱلۡكِتَٰبَ مِن قَبۡلِكُمۡ وَإِيَّاكُمۡ أَنِ ٱتَّقُواْ ٱللَّهَۚ وَإِن تَكۡفُرُواْ فَإِنَّ لِلَّهِ مَا فِي ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَمَا فِي ٱلۡأَرۡضِۚ وَكَانَ ٱللَّهُ غَنِيًّا حَمِيدٗا ١٣١

And to Allāh belongs whatever is in the heavens and whatever is on the earth. And We have instructed those who were given the Scripture before you and yourselves to fear Allāh. But if you disbelieve - then to Allāh belongs whatever is in the heavens and whatever is on the earth. And ever is Allāh Free of need and Praiseworthy.

১৩১. একমাত্র আল্লাহর জন্যই আকাশ, জমিন ও এতুদভয়ের সবকিছুই তার মালিকানা। আমি আহলে কিতাব তথা ইহুদি-খ্রিস্টান এবং তোমাদের থেকে এ মর্মে অঙ্গীকার নিয়েছি যে, তোমরা আল্লাহর আদেশ-নিষেধ মেনে তাঁকে ভয় করে চলবে। উক্ত অঙ্গীকার অস্বীকার করলে তোমরা নিজেরাই নিজেদের ক্ষতি করবে। আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের আনুগত্যের অমুখাপেক্ষী। কারণ, আকাশ ও জমিনের সবই তাঁর মালিকানাধীন। তিনি তাঁর সকল সৃষ্টির প্রতি অমুখাপেক্ষী। তাঁর সকল কর্ম ও গুণাবলীতে তিনি সত্যিই প্রশংসিত।

4:132Page 99

وَلِلَّهِ مَا فِي ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَمَا فِي ٱلۡأَرۡضِۚ وَكَفَىٰ بِٱللَّهِ وَكِيلًا ١٣٢

And to Allāh belongs whatever is in the heavens and whatever is on the earth. And sufficient is Allāh as Disposer of affairs.1

১৩২. একমাত্র আল্লাহর জন্যই আকাশ ও জমিনে যা কিছু আছে তার মালিকানা। তিনিই আনুগত্যের উপযুক্ত। তাঁর সৃষ্টির সকল বিষয়াদির পরিচালনায় অভিভাবক হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট।

4:133Page 99

إِن يَشَأۡ يُذۡهِبۡكُمۡ أَيُّهَا ٱلنَّاسُ وَيَأۡتِ بِـَٔاخَرِينَۚ وَكَانَ ٱللَّهُ عَلَىٰ ذَٰلِكَ قَدِيرٗا ١٣٣

If He wills, He can do away with you, O people, and bring others [in your place]. And ever is Allāh competent to do that.

১৩৩. হে মানুষ! তিনি চাইলেই তোমাদেরকে ধ্বংস করে অন্যদেরকে নিয়ে আসবেন। যারা আল্লাহর আনুগত্য করবে এবং তাঁর অবাধ্য হবে না। বস্তুতঃ আল্লাহ তা‘আলা তা করতে সক্ষম।

4:134Page 99

مَّن كَانَ يُرِيدُ ثَوَابَ ٱلدُّنۡيَا فَعِندَ ٱللَّهِ ثَوَابُ ٱلدُّنۡيَا وَٱلۡأٓخِرَةِۚ وَكَانَ ٱللَّهُ سَمِيعَۢا بَصِيرٗا ١٣٤

Whoever desires the reward of this world - then with Allāh is the reward of this world and the Hereafter. And ever is Allāh Hearing and Seeing.

১৩৪. হে মানুষ! তোমাদের কেউ নিজ আমলের মাধ্যমে শুধু দুনিয়ার প্রতিদান চাইলে সে যেন জেনে রাখে, নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট রয়েছে দুনিয়া ও আখিরাতের প্রতিদান। তাই তাঁর কাছ থেকেই সেগুলোর প্রতিদান কামনা করতে হবে। বস্তুতঃ আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের সব কথাই শুনছেন এবং তোমাদের সকল কাজই দেখছেন। তাই অচিরেই তিনি তোমাদেরকে এগুলোর প্রতিদান দিবেন।

4:135Page 100

۞ يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ كُونُواْ قَوَّٰمِينَ بِٱلۡقِسۡطِ شُهَدَآءَ لِلَّهِ وَلَوۡ عَلَىٰٓ أَنفُسِكُمۡ أَوِ ٱلۡوَٰلِدَيۡنِ وَٱلۡأَقۡرَبِينَۚ إِن يَكُنۡ غَنِيًّا أَوۡ فَقِيرٗا فَٱللَّهُ أَوۡلَىٰ بِهِمَاۖ فَلَا تَتَّبِعُواْ ٱلۡهَوَىٰٓ أَن تَعۡدِلُواْۚ وَإِن تَلۡوُۥٓاْ أَوۡ تُعۡرِضُواْ فَإِنَّ ٱللَّهَ كَانَ بِمَا تَعۡمَلُونَ خَبِيرٗا ١٣٥

O you who have believed, be persistently standing firm in justice, witnesses for Allāh, even if it be against yourselves or parents and relatives. Whether one is rich or poor, Allāh is more worthy of both.1 So follow not [personal] inclination, lest you not be just. And if you distort [your testimony] or refuse [to give it], then indeed Allāh is ever, of what you do, Aware.

১৩৫. হে আল্লাহতে বিশ্বাসী ও তাঁর রাসূলের অনুসারী মু’মিনরা! তোমরা সর্বাবস্থায় ইনসাফের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকো। সবার ব্যাপারে সত্যের সাক্ষ্য প্রদান করো। যদিও তা নিজেদের ও নিজেদের পিতা-মাতা এবং আত্মীয়-স্বজনের বিরুদ্ধে সত্যকে স্বীকার করাটাই চায়। কারো দরিদ্রতা অথবা স্বচ্ছলতা যেন সাক্ষ্য আদায় বা তা পরিত্যাগে উৎসাহিত না করে। বস্তুতঃ আল্লাহই তোমাদের চেয়ে ধনী ও গরিবের বেশি নিকটবর্তী এবং তাদের সুবিধাদি সম্পর্কে সম্যক অবগত। তাই তোমরা নিজেদের সাক্ষ্যর ক্ষেত্রে প্রবৃত্তির অনুসরণ করো না। যাতে তোমরা সেখানে সত্যকে এড়িয়ে না যাও। যদি তোমরা যথোপযুক্তভাবে সাক্ষ্যটিকে আদায় না করে তাকে বিকৃত করো অথবা তা আদায় করা থেকে মুখ ফিরিয়ে নাও তাহলে নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের কর্মকাÐ সম্পর্কে সম্যক অবগত।

4:136Page 100

يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓاْ ءَامِنُواْ بِٱللَّهِ وَرَسُولِهِۦ وَٱلۡكِتَٰبِ ٱلَّذِي نَزَّلَ عَلَىٰ رَسُولِهِۦ وَٱلۡكِتَٰبِ ٱلَّذِيٓ أَنزَلَ مِن قَبۡلُۚ وَمَن يَكۡفُرۡ بِٱللَّهِ وَمَلَٰٓئِكَتِهِۦ وَكُتُبِهِۦ وَرُسُلِهِۦ وَٱلۡيَوۡمِ ٱلۡأٓخِرِ فَقَدۡ ضَلَّ ضَلَٰلَۢا بَعِيدًا ١٣٦

O you who have believed, believe1 in Allāh and His Messenger and the Book that He sent down upon His Messenger and the Scripture which He sent down before. And whoever disbelieves in Allāh, His angels, His books, His messengers, and the Last Day has certainly gone far astray.

১৩৬. হে মু’মিনরা! তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল এবং যে কুর‘আনকে আল্লাহ তাঁর রাসূলের উপর নাযিল করেছেন উপরন্তু যে কিতাবগুলোকে তিনি তাঁর পূর্বেকার রাসূলদের উপর নাযিল করেছেন সেগুলোর উপর ঈমান আনার ক্ষেত্রে সর্বদা অটল থাকো। যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর ফিরিশতাগণ এবং তাঁর কিতাবসমূহ ও পরকালকে অস্বীকার করে সে মূলতঃ সঠিক রাস্তা থেকে বহু দূরে সরে গিয়েছে।

4:137Page 100

إِنَّ ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ ثُمَّ كَفَرُواْ ثُمَّ ءَامَنُواْ ثُمَّ كَفَرُواْ ثُمَّ ٱزۡدَادُواْ كُفۡرٗا لَّمۡ يَكُنِ ٱللَّهُ لِيَغۡفِرَ لَهُمۡ وَلَا لِيَهۡدِيَهُمۡ سَبِيلَۢا ١٣٧

Indeed, those who have believed then disbelieved, then believed then disbelieved, and then increased in disbelief - never will Allāh forgive them, nor will He guide them to a way.

১৩৭. নিশ্চয়ই যারা ঈমান আনার পর বারবার কুফরি করেছে তথা ঈমানের ছায়াতলে প্রবেশ করে তা থেকে আবার ফিরে এসেছে অতঃপর তাতে প্রবেশ করে আবারো তা থেকে ফিরে এসেছে এবং কুফরির উপর অটল থেকে তার উপর মৃত্যু বরণ করেছে আল্লাহ তা‘আলা তাদের গুনাহগুলো ক্ষমা করবেন না, না তাদেরকে সঠিক পথে চলার তাওফীক দিবেন যা তাঁর পর্যন্ত পৌঁছিয়ে দিবে।

4:138Page 100

بَشِّرِ ٱلۡمُنَٰفِقِينَ بِأَنَّ لَهُمۡ عَذَابًا أَلِيمًا ١٣٨

Give tidings to the hypocrites that there is for them a painful punishment -

১৩৮. হে রাসূল! আপনি যারা কুফরিকে লুকিয়ে ঈমানকে প্রকাশ করে এমন মুনাফিকদেরকে সুসংবাদ দিন যে, তাদের জন্য কিয়ামতের দিন রয়েছে আল্লাহর নিকট যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।

4:139Page 100

ٱلَّذِينَ يَتَّخِذُونَ ٱلۡكَٰفِرِينَ أَوۡلِيَآءَ مِن دُونِ ٱلۡمُؤۡمِنِينَۚ أَيَبۡتَغُونَ عِندَهُمُ ٱلۡعِزَّةَ فَإِنَّ ٱلۡعِزَّةَ لِلَّهِ جَمِيعٗا ١٣٩

Those who take disbelievers as allies instead of the believers. Do they seek with them honor [through power]? But indeed, honor belongs to Allāh entirely.1

১৩৯. উক্ত আযাবটি এ জন্য যে, তারা মু’মিনদেরকে বাদ দিয়ে কাফিরদেরকে সাহায্যকারী ও সহযোগী হিসেবে গ্রহণ করেছে। খুবই আশ্চর্যজনক সে ব্যাপারটি যা তাদেরকে ওদের বন্ধু বানিয়েছে। তারা কি ওদের নিকট শক্তি ও প্রতিরক্ষা চায়, যার মাধ্যমে তারা উচ্চ সম্মানিত হবে?! অথচ শক্তি ও প্রতিরক্ষা সবই আল্লাহর জন্য।

4:140Page 100

وَقَدۡ نَزَّلَ عَلَيۡكُمۡ فِي ٱلۡكِتَٰبِ أَنۡ إِذَا سَمِعۡتُمۡ ءَايَٰتِ ٱللَّهِ يُكۡفَرُ بِهَا وَيُسۡتَهۡزَأُ بِهَا فَلَا تَقۡعُدُواْ مَعَهُمۡ حَتَّىٰ يَخُوضُواْ فِي حَدِيثٍ غَيۡرِهِۦٓ إِنَّكُمۡ إِذٗا مِّثۡلُهُمۡۗ إِنَّ ٱللَّهَ جَامِعُ ٱلۡمُنَٰفِقِينَ وَٱلۡكَٰفِرِينَ فِي جَهَنَّمَ جَمِيعًا ١٤٠

And it has already come down to you in the Book [i.e., the Qur’ān] that when you hear the verses of Allāh [recited], they are denied [by them] and ridiculed; so do not sit with them until they enter into another conversation. Indeed, you would then be like them.1 Indeed, Allāh will gather the hypocrites and disbelievers in Hell all together -

১৪০. হে মু’মিনরা! আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের উপর কুরআনুল-কারীমে এ ব্যাপারটি নাযিল করেছেন যে, তোমরা কোন মজলিসে বসে এমন লোকের কথা শুনতে পেলে যে আল্লাহর আয়াতসমূহের সাথে কুফরি ও সেগুলোকে নিয়ে ঠাট্টা করে তখন তাদের মজলিসে না বসে সেখান থেকে সরে যাওয়া বাধ্যতামূলক। যতক্ষণ না তারা আল্লাহর আয়াতসমূহের সাথে কুফরি ও সেগুলোকে নিয়ে ঠাট্টা করা ছাড়া অন্য কথা বলে। তোমরা এটা শুনার পরও তাদের সাথে বসলে তোমরা তাদের মতোই আল্লাহর আদেশ অমান্য করলে। কারণ, তোমরাও তাদের সাথে বসে তাদের মতো আল্লাহর অবাধ্য হলে। নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা অচিরেই কুফরিকে লুকিয়ে ইসলাম প্রকাশকারী মুনাফিকদেরকে কিয়ামতের দিন কাফিরদের সাথে জাহান্নামের আগুনে একত্রিত করবেন।

4:141Page 101

ٱلَّذِينَ يَتَرَبَّصُونَ بِكُمۡ فَإِن كَانَ لَكُمۡ فَتۡحٞ مِّنَ ٱللَّهِ قَالُوٓاْ أَلَمۡ نَكُن مَّعَكُمۡ وَإِن كَانَ لِلۡكَٰفِرِينَ نَصِيبٞ قَالُوٓاْ أَلَمۡ نَسۡتَحۡوِذۡ عَلَيۡكُمۡ وَنَمۡنَعۡكُم مِّنَ ٱلۡمُؤۡمِنِينَۚ فَٱللَّهُ يَحۡكُمُ بَيۡنَكُمۡ يَوۡمَ ٱلۡقِيَٰمَةِۚ وَلَن يَجۡعَلَ ٱللَّهُ لِلۡكَٰفِرِينَ عَلَى ٱلۡمُؤۡمِنِينَ سَبِيلًا ١٤١

Those who wait [and watch] you. Then if you gain a victory from Allāh, they say, "Were we not with you?" But if the disbelievers have a success, they say [to them], "Did we not gain the advantage over you, but we protected you from the believers?" Allāh will judge between [all of] you on the Day of Resurrection, and never will Allāh give the disbelievers over the believers a way [to overcome them].1

১৪১. যারা তোমাদের কল্যাণ অথবা অকল্যাণ যাই হোক না কেন তার অপেক্ষা করে অতঃপর আল্লাহর পক্ষ থেকে যদি তোমাদের জন্য বিজয় নেমে আসে এবং তোমরা যুদ্ধলব্ধ সম্পদ আহরণ করো তখন তারা তোমাদেরকে বলে: আমরা কি তোমাদের সাথে ছিলাম না। আমরা সে জিনিসের সাক্ষী হয়েছি তোমরা যার সাক্ষী হয়েছো?! তথা আমরা সেখানে উপস্থিত হয়েছি যেখানে তোমরা উপস্থিত হয়েছো। যাতে তারা যুদ্ধলব্ধ সম্পদ পেতে পারে। আর যদি কাফিরদের কোন লাভ হয়ে যায় তখন তারা তাদেরকে বলে: আমরা কি তোমাদের দায়িত্ব নেইনি। গুরুত্ব ও সহযোগিতা দিয়ে আমরা কি তোমাদেরকে বেষ্টন করে রাখিনি। আমরা কি তোমাদের সহযোগিতা ও মু’মিনদের অসহযোগিতা করে তাদের হাত থেকে তোমাদের রক্ষা করিনি?! আল্লাহ তা‘আলা কিয়ামতের দিন তোমাদের সকলের মাঝে ফায়সালা করে দিবেন। তখন তিনি মু’মিনদেরকে জান্নাতে প্রবেশের প্রতিদান দিবেন। আর মুনাফিকদেরকে জাহান্নামের তলদেশে প্রবেশের প্রতিদান দিবেন। আল্লাহ তা‘আলা কখনো তাঁর দয়ায় মু’মিনদের উপর কাফিরদেরকে কর্তৃত্ব করতে দিবেন না। বরং তিনি অচিরেই মু’মিনদেরকে সুপরিণতি দিবেন।

4:142Page 101

إِنَّ ٱلۡمُنَٰفِقِينَ يُخَٰدِعُونَ ٱللَّهَ وَهُوَ خَٰدِعُهُمۡ وَإِذَا قَامُوٓاْ إِلَى ٱلصَّلَوٰةِ قَامُواْ كُسَالَىٰ يُرَآءُونَ ٱلنَّاسَ وَلَا يَذۡكُرُونَ ٱللَّهَ إِلَّا قَلِيلٗا ١٤٢

Indeed, the hypocrites [think to] deceive Allāh, but He is deceiving them. And when they stand for prayer, they stand lazily, showing [themselves to] the people and not remembering Allāh except a little,

১৪২. নিশ্চয়ই মুনাফিকরা কুফরিকে লুকিয়ে ইসলাম প্রকাশের মাধ্যমে আল্লাহকে ধোঁকা দিতে চাচ্ছে; অথচ তিনি তাদেরকে ধোঁকায় ফেলে রেখেছেন। তিনি তাদের কুফরি জেনেও তাদের জীবনকে হিফাযত করেছেন। আর তাদের জন্য পরকালে কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা রেখেছেন। তারা সালাতে অলসভাবে ও অস্থির মনে দাঁড়ায়। তারা শুধু মু’মিনদেরকে দেখলেই সামান্য আল্লাহর স্মরণ করে। নতুবা নয়।

4:143Page 101

مُّذَبۡذَبِينَ بَيۡنَ ذَٰلِكَ لَآ إِلَىٰ هَٰٓؤُلَآءِ وَلَآ إِلَىٰ هَٰٓؤُلَآءِۚ وَمَن يُضۡلِلِ ٱللَّهُ فَلَن تَجِدَ لَهُۥ سَبِيلٗا ١٤٣

Wavering between them, [belonging] neither to these [i.e., the believers] nor to those [i.e., the disbelievers]. And whoever Allāh sends astray - never will you find for him a way.

১৪৩. উক্ত মুনাফিকরা অস্থিরতা ও দ্বিধা-দ্ব›েদ্ব ভুগছে। তারা না প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্যভাবে মু’মিনদের সাথে, না কাফিরদের সাথে। বরং তাদের বাহ্যিক দিকটা মু’মিনদের আর ভেতরের দিকটা কাফিরদের সাথে। বস্তুতঃ আল্লাহ তা‘আলা যাকে পথভ্রষ্ট করবেন হে রাসূল! আপনি তার জন্য ভ্রষ্টতা থেকে বাঁচার হিদায়েতের কোন পথ খুুঁজে পাবেন না।

4:144Page 101

يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ لَا تَتَّخِذُواْ ٱلۡكَٰفِرِينَ أَوۡلِيَآءَ مِن دُونِ ٱلۡمُؤۡمِنِينَۚ أَتُرِيدُونَ أَن تَجۡعَلُواْ لِلَّهِ عَلَيۡكُمۡ سُلۡطَٰنٗا مُّبِينًا ١٤٤

O you who have believed, do not take the disbelievers as allies instead of the believers. Do you wish to give Allāh against yourselves a clear case?

১৪৪. হে আল্লাহতে বিশ্বাসী ও তাঁর রাসূলের অনুসারী মু’মিনরা! তোমরা মু’মিনদের ব্যতিরেকে কাফিরদেরকে ঘনিষ্ঠ বন্ধু বানিয়ো না। তোমরা কি চাচ্ছো এ কর্মের মাধ্যমে তোমাদের বিপক্ষে আল্লাহর জন্য একটি সুস্পষ্ট প্রমাণ দাঁড় করাতে যা তোমাদের শাস্তির উপযুক্ততা বুঝাবে।

4:145Page 101

إِنَّ ٱلۡمُنَٰفِقِينَ فِي ٱلدَّرۡكِ ٱلۡأَسۡفَلِ مِنَ ٱلنَّارِ وَلَن تَجِدَ لَهُمۡ نَصِيرًا ١٤٥

Indeed, the hypocrites will be in the lowest depths of the Fire - and never will you find for them a helper -

১৪৫. আল্লাহ তা‘আলা মুনাফিকদেরকে কিয়ামতের দিন জাহান্নামের একেবারে নিচু স্তরে রাখবেন। আপনি তাদের জন্য শাস্তি থেকে রক্ষাকারী কোন সাহায্যকারী পাবেন না।

4:146Page 101

إِلَّا ٱلَّذِينَ تَابُواْ وَأَصۡلَحُواْ وَٱعۡتَصَمُواْ بِٱللَّهِ وَأَخۡلَصُواْ دِينَهُمۡ لِلَّهِ فَأُوْلَٰٓئِكَ مَعَ ٱلۡمُؤۡمِنِينَۖ وَسَوۡفَ يُؤۡتِ ٱللَّهُ ٱلۡمُؤۡمِنِينَ أَجۡرًا عَظِيمٗا ١٤٦

Except for those who repent, correct themselves, hold fast to Allāh, and are sincere in their religion for Allāh, for those will be with the believers. And Allāh is going to give the believers a great reward.

১৪৬. তবে যারা মুনাফিকী থেকে তাওবা করে আল্লাহর দিকে ফিরে আসে এবং নিজেদের ভেতরকে ঠিক করে নেয় উপরন্তু আল্লাহর অঙ্গীকারকে আঁকড়ে ধরে নিজেদের আমলকে রিয়া বিহীন আল্লাহর জন্য খাঁটি করে নেয় এ সকল বৈশিষ্ট্যের অধিকারীরা দুনিয়া ও আখিরাতে মু’মিনদের সাথেই থাকবে। আর আল্লাহ তা‘আলা অচিরেই মু’মিনদেরকে বড় প্রতিদান দিবেন।

4:147Page 101

مَّا يَفۡعَلُ ٱللَّهُ بِعَذَابِكُمۡ إِن شَكَرۡتُمۡ وَءَامَنتُمۡۚ وَكَانَ ٱللَّهُ شَاكِرًا عَلِيمٗا ١٤٧

What would Allāh do with [i.e., gain from] your punishment if you are grateful and believe? And ever is Allāh Appreciative1 and Knowing.

১৪৭. তোমাদেরকে শাস্তি দেয়ার আল্লাহর কোন প্রয়োজন নেই। যদি তোমরা তাঁর কৃতজ্ঞতা আদায় করো এবং তাঁর উপর ঈমান আনো। কারণ, তিনি দয়াশীল করুণাময়। তবে তিনি তোমাদের গুনাহের দরুন শাস্তি দিবেন। নিজের আমলগুলোকে যথাযথ করে তাঁর নিয়ামতগুলোর কৃতজ্ঞতা আদায় করলে আর তাঁর উপর প্রকাশ্যে ও অপ্রকাশ্যে ঈমান আনলে তিনি কখনোই তোমাদেরকে শাস্তি দিবেন না। বস্তুতঃ আল্লাহ তা‘আলা তাঁর নিয়ামত স্বীকারকারীদের প্রতি কৃতজ্ঞ। তাই তিনি তাদেরকে এর সাওয়াব দিবেন। আর তিনি তাঁর সৃষ্টির ঈমান সম্পর্কে অবগত। তাই অচিরেই তিনি প্রত্যেককে তার আমলের প্রতিদান দিবেন।

4:148Page 102

۞ لَّا يُحِبُّ ٱللَّهُ ٱلۡجَهۡرَ بِٱلسُّوٓءِ مِنَ ٱلۡقَوۡلِ إِلَّا مَن ظُلِمَۚ وَكَانَ ٱللَّهُ سَمِيعًا عَلِيمًا ١٤٨

Allāh does not like the public mention of evil except by one who has been wronged. And ever is Allāh Hearing and Knowing.

১৪৮. আল্লাহ তা‘আলা প্রকাশ্যে খারাপ কথা বলা পছন্দ করেন না। বরং অপছন্দ করেন ও সে ব্যাপারে শাস্তির হুমকি দেন। যালিমের ব্যাপারে বিচার চাইতে গিয়ে ও তার ব্যাপারে বদদু‘আ করতে গিয়ে এবং তার সমপর্যায়ের কথার প্রতিদান দিতে গিয়ে অত্যাচারিত হলে তার জন্য জায়িয খারাপ কথাটি প্রকাশ্যে বলা। তবে এ বিষয়ে ধৈর্য ধারণই উত্তম। বস্তুতঃ আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের কথাগুলো শুনেন এবং তোমাদের নিয়্যাতসমূহ জানেন। তাই তোমরা খারাপ কথা বলা ও তার ইচ্ছা করার ব্যাপারে সতর্ক থাকবে।

4:149Page 102

إِن تُبۡدُواْ خَيۡرًا أَوۡ تُخۡفُوهُ أَوۡ تَعۡفُواْ عَن سُوٓءٖ فَإِنَّ ٱللَّهَ كَانَ عَفُوّٗا قَدِيرًا ١٤٩

If [instead] you show [some] good or conceal it or pardon an offense - indeed, Allāh is ever Pardoning and Competent.1

১৪৯. তোমরা যে কোন ভালো কথা বা কাজ প্রকাশ্যে করো অথবা গোপনে কিংবা তোমাদের প্রতি দুর্ব্যবহারকারীদেরকে ক্ষমা করে দাও নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা ক্ষমাশীল শক্তিধর। তাই ক্ষমা করাই তোমাদের চরিত্র হওয়া উচিত। আশা করা যায় আল্লাহও তোমাদেরকে ক্ষমা করে দিবেন।

4:150Page 102

إِنَّ ٱلَّذِينَ يَكۡفُرُونَ بِٱللَّهِ وَرُسُلِهِۦ وَيُرِيدُونَ أَن يُفَرِّقُواْ بَيۡنَ ٱللَّهِ وَرُسُلِهِۦ وَيَقُولُونَ نُؤۡمِنُ بِبَعۡضٖ وَنَكۡفُرُ بِبَعۡضٖ وَيُرِيدُونَ أَن يَتَّخِذُواْ بَيۡنَ ذَٰلِكَ سَبِيلًا ١٥٠

Indeed, those who disbelieve in Allāh and His messengers and wish to discriminate between Allāh and His messengers and say, "We believe in some and disbelieve in others," and wish to adopt a way in between -

১৫০. যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলদের সাথে কুফরি করে এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলদের মাঝে পার্থক্য সৃষ্টি করতে চায়, যে আল্লাহর উপর ঈমান আনবে আর তাঁর রাসূলদের সাথে কুফরি করবে। উপরন্তু তারা বলে: আমরা কিছু রাসূলের উপর ঈমান আনবো আর কিছুর সাথে কুফরি করবো। মূলতঃ তারা চায় ঈমান ও কুফরির মাঝে ভিন্ন একটি পথ সৃষ্টি করতে যা তাদের ধারণামতে তাদেরকে জাহান্নাম থেকে রক্ষা করবে।

4:151Page 102

أُوْلَٰٓئِكَ هُمُ ٱلۡكَٰفِرُونَ حَقّٗاۚ وَأَعۡتَدۡنَا لِلۡكَٰفِرِينَ عَذَابٗا مُّهِينٗا ١٥١

Those are the disbelievers, truly. And We have prepared for the disbelievers a humiliating punishment.

১৫১. যারা এ পথ অবলম্বন করে তারা সত্যিকারার্থেই কাফির। তা এ জন্য যে, যারা সকল রাসূলের সাথে কুফরি করে অথবা তাঁদের কারো সাথে সে যেন আল্লাহ ও তাঁর সকল রাসূলের সাথে কুফরি করলো। আর আমি কাফিরদের জন্য কিয়ামতের দিন লাঞ্ছনাকর আযাবের ব্যবস্থা রেখেছি। উপরন্তু অহঙ্কারবশত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলদের উপর ঈমান না আনার দরুন তাদের জন্য শাস্তির বিশেষ আয়োজনও রয়েছে।

4:152Page 102

وَٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ بِٱللَّهِ وَرُسُلِهِۦ وَلَمۡ يُفَرِّقُواْ بَيۡنَ أَحَدٖ مِّنۡهُمۡ أُوْلَٰٓئِكَ سَوۡفَ يُؤۡتِيهِمۡ أُجُورَهُمۡۚ وَكَانَ ٱللَّهُ غَفُورٗا رَّحِيمٗا ١٥٢

But they who believe in Allāh and His messengers and do not discriminate between any of them - to those He is going to give their rewards. And ever is Allāh Forgiving and Merciful.

১৫২. যারা একমাত্র আল্লাহর উপর ঈমান আনে এবং তাঁর সাথে কাউকে শরীক করে না উপরন্তু তাঁর সকল রাসূলকে বিশ্বাস করে ও কাফিরদের মতো তাঁদের কারো মাঝে পার্থক্য সৃষ্টি না করে সকলের উপরই ঈমান আনে তাদেরকে ঈমান ও নেক আমলের প্রতিদান স্বরূপ আল্লাহ তা‘আলা মহা পুরস্কার দিবেন। বস্তুতঃ আল্লাহ তা‘আলা তাঁর তাওবাকারী বান্দাদের প্রতি ক্ষমাশীল ও দয়ালু।

4:153Page 102

يَسۡـَٔلُكَ أَهۡلُ ٱلۡكِتَٰبِ أَن تُنَزِّلَ عَلَيۡهِمۡ كِتَٰبٗا مِّنَ ٱلسَّمَآءِۚ فَقَدۡ سَأَلُواْ مُوسَىٰٓ أَكۡبَرَ مِن ذَٰلِكَ فَقَالُوٓاْ أَرِنَا ٱللَّهَ جَهۡرَةٗ فَأَخَذَتۡهُمُ ٱلصَّٰعِقَةُ بِظُلۡمِهِمۡۚ ثُمَّ ٱتَّخَذُواْ ٱلۡعِجۡلَ مِنۢ بَعۡدِ مَا جَآءَتۡهُمُ ٱلۡبَيِّنَٰتُ فَعَفَوۡنَا عَن ذَٰلِكَۚ وَءَاتَيۡنَا مُوسَىٰ سُلۡطَٰنٗا مُّبِينٗا ١٥٣

The People of the Scripture ask you to bring down to them a book from the heaven. But they had asked of Moses [even] greater than that and said, "Show us Allāh outright," so the thunderbolt struck them for their wrongdoing. Then they took the calf [for worship] after clear evidences had come to them, and We pardoned that. And We gave Moses a clear authority.

১৫৩. হে রাসূল! ইহুদিরা আপনার নিকট চাইবে যেন পুরো কিতাবটি তাদের উপর এক বারে আকাশ থেকে নাযিল করা হয় যেমন তা মূসা (আলাইহিস-সালাম) এর ব্যাপারে ঘটেছে। যা আপনার সত্যতার আলামত হবে। আপনি তাদের এ চাওয়াকে বেশি বড় মনে করবেন না। কারণ, তাদের পূর্ববর্তীরা মূসা (আলাইহিস-সালাম) এর নিকট এর চেয়ে আরো বড় কিছু তথা আল্লাহকে প্রকাশ্যে দেখতে চায়। তখন তাদের অপকর্মের শাস্তিস্বরূপ তাদেরকে বজ্রপাতে মৃত্যু দেয়া হয়। অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে আবারো জীবিত করেছেন। এরপর তাদের নিকট আল্লাহর সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলী আসার পরও - যা আল্লাহর একত্ববাদ এবং রুবূবিয়্যাত ও উলূহিয়্যাতে তাঁর একক মালিকানা বুঝায় - তারা আল্লাহ ব্যতিরেকে গো বাছুরের পূজা করে। এরপরও আমি তাদেরকে ক্ষমা করি আর মূসাকে তাঁর বংশের উপর সুস্পষ্ট প্রমাণ দেই।

4:154Page 102

وَرَفَعۡنَا فَوۡقَهُمُ ٱلطُّورَ بِمِيثَٰقِهِمۡ وَقُلۡنَا لَهُمُ ٱدۡخُلُواْ ٱلۡبَابَ سُجَّدٗا وَقُلۡنَا لَهُمۡ لَا تَعۡدُواْ فِي ٱلسَّبۡتِ وَأَخَذۡنَا مِنۡهُم مِّيثَٰقًا غَلِيظٗا ١٥٤

And We raised over them the mount for [refusal of] their covenant; and We said to them, "Enter the gate bowing humbly"; and We said to them, "Do not transgress on the sabbath"; and We took from them a solemn covenant.

১৫৪. আমি তাদের কাছ থেকে শক্ত অঙ্গীকার গ্রহণের জন্য তাদের মাথার উপর পাহাড় উঁচিয়ে ধরি। যাতে তারা ভয়ে তার উপর আমল করে। আর আমি তা উঁচিয়ে ধরার পর তাদেরকে বললাম: তোমরা বাইতুল-মাক্বদিসের দরজা দিয়ে মাথা ঝুঁকিয়ে সাজদারত অবস্থায় তাতে প্রবেশ করো। তখন তারা পিঠ বাঁকিয়ে তাতে প্রবেশ করে। আমি তাদেরকে বললাম, তোমরা শনিবার মাছ শিকারের হঠকারিতা দেখিও না। তখন তারা হঠকারিতা দেখিয়ে মাছ শিকার করে। অথচ আমি ইতোপূর্বে এ ব্যাপারে তাদের থেকে শক্ত ও কঠিন অঙ্গীকার নেই। কিন্তু তারা সে কৃত অঙ্গীকার ভঙ্গ করে।

4:155Page 103

فَبِمَا نَقۡضِهِم مِّيثَٰقَهُمۡ وَكُفۡرِهِم بِـَٔايَٰتِ ٱللَّهِ وَقَتۡلِهِمُ ٱلۡأَنۢبِيَآءَ بِغَيۡرِ حَقّٖ وَقَوۡلِهِمۡ قُلُوبُنَا غُلۡفُۢۚ بَلۡ طَبَعَ ٱللَّهُ عَلَيۡهَا بِكُفۡرِهِمۡ فَلَا يُؤۡمِنُونَ إِلَّا قَلِيلٗا ١٥٥

And [We cursed them]1 for their breaking of the covenant and their disbelief in the signs of Allāh and their killing of the prophets without right and their saying, "Our hearts are wrapped" [i.e., sealed against reception]. Rather, Allāh has sealed them because of their disbelief, so they believe not, except for a few.2

১৫৫. ফলে আমি তাদেরকে আমার রহমত থেকে বিতাড়িত করেছি। কারণ, তারা নিজেদের শক্ত অঙ্গীকারটি ভঙ্গ করেছে, আল্লাহর আয়াতগুলোর সাথে কুফরি করেছে, নবীদেরকে হত্যা করার সাহসিকতা দেখিয়েছে এবং তারা মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে বলেছে: আমাদের অন্তরগুলো আচ্ছাদিত। আপনি যা বলেন তা বুঝতে সক্ষম নয়। অথচ ব্যাপারটি তেমন যা তারা বলেছে। বরং আল্লাহ তা‘আলা তাদের অন্তরে মোহর মেরে দিয়েছেন ফলে তাতে কোন কল্যাণই পেঁছাবে না। তাই তারা সামান্যটুকুই ঈমান আনবে যা তাদের কোন উপকার করতে পারবে না।

4:156Page 103

وَبِكُفۡرِهِمۡ وَقَوۡلِهِمۡ عَلَىٰ مَرۡيَمَ بُهۡتَٰنًا عَظِيمٗا ١٥٦

And [We cursed them] for their disbelief and their saying against Mary a great slander1

১৫৬. আমি তাদেরকে কুফরির কারণে এবং মারইয়াম (আলাইহাস-সালাম) কে ব্যভিচারের মিথ্যা ও অমূলক অপবাদ দেয়ার কারণে আমার রহমত থেকে বিতাড়িত করি।

4:157Page 103

وَقَوۡلِهِمۡ إِنَّا قَتَلۡنَا ٱلۡمَسِيحَ عِيسَى ٱبۡنَ مَرۡيَمَ رَسُولَ ٱللَّهِ وَمَا قَتَلُوهُ وَمَا صَلَبُوهُ وَلَٰكِن شُبِّهَ لَهُمۡۚ وَإِنَّ ٱلَّذِينَ ٱخۡتَلَفُواْ فِيهِ لَفِي شَكّٖ مِّنۡهُۚ مَا لَهُم بِهِۦ مِنۡ عِلۡمٍ إِلَّا ٱتِّبَاعَ ٱلظَّنِّۚ وَمَا قَتَلُوهُ يَقِينَۢا ١٥٧

And [for] their saying, "Indeed, we have killed the Messiah, Jesus the son of Mary, the messenger of Allāh." And they did not kill him, nor did they crucify him; but [another] was made to resemble him to them. And indeed, those who differ over it are in doubt about it. They have no knowledge of it except the following of assumption. And they did not kill him, for certain.1

১৫৭. আর আমি তাদেরকে লা’নত করি। কারণ, তারা মিথ্যাভাবে অহঙ্কার করে বলে: আমরা আল্লাহর রাসূল মাসীহ ‘ঈসা বিন মারইয়ামকে হত্যা করেছি। অথচ তারা না হত্যা করেছে, না তাঁকে ক্রুশবিদ্ধ করেছে। যা তাদের ধারণা। বরং তারা এমন এক ব্যক্তিকে হত্যা করেছে যার উপর আল্লাহ তা‘আলা ‘ঈসা (আলাইহিস-সালাম) এর সাদৃশ্য ঢেলে দিয়েছেন। তারা মূলতঃ তাকেই ক্রুশবিদ্ধ করেছে। অথচ তাদের ধারণা তারা ‘ঈসা (আলাইহিস-সালাম) কেই হত্যা করেছে। যারা তাঁর হত্যার দাবি করছে তারা হলো ইহুদি। আর যারা তাঁকে তাদের হাতে তুলে দিয়েছে তারা হলো খ্রিস্টান। তারা উভয়ই তাঁর ব্যাপারে সন্দেহ ও অস্থিরতায় ভুগছে। তাদের কারোরই তাঁর সম্পর্কে সঠিক ধারণা নেই। তারা কেবল অনুমানেরই অনুসরণ করছে। আর অনুমান কখনো সত্য উদঘাটনে কোন উপকারে আসে না। বস্তুতঃ তারা না ‘ঈসা (আলাইহিস-সালাম) কে হত্যা করেছে। না তারা তাঁকে নিশ্চিত ক্রুশবিদ্ধ করেছে।

4:158Page 103

بَل رَّفَعَهُ ٱللَّهُ إِلَيۡهِۚ وَكَانَ ٱللَّهُ عَزِيزًا حَكِيمٗا ١٥٨

Rather, Allāh raised him to Himself. And ever is Allāh Exalted in Might and Wise.

১৫৮. বরং আল্লাহ তা‘আলা তাঁকে তাদের ষড়যন্ত্র থেকে উদ্ধার করে শরীর ও রূহ সমেত তাঁর কাছে উঠিয়ে নিয়েছেন। বস্তুতঃ আল্লাহ তা‘আলা তাঁর ক্ষমতায় পরাক্রমশালী। কেউ তাঁকে পরাজিত করতে পারে না। তেমনিভাবে তিনি তাঁর শরীয়ত, ফায়সালা ও পরিচালনায় প্রজ্ঞাবান।

4:159Page 103

وَإِن مِّنۡ أَهۡلِ ٱلۡكِتَٰبِ إِلَّا لَيُؤۡمِنَنَّ بِهِۦ قَبۡلَ مَوۡتِهِۦۖ وَيَوۡمَ ٱلۡقِيَٰمَةِ يَكُونُ عَلَيۡهِمۡ شَهِيدٗا ١٥٩

And there is none from the People of the Scripture but that he will surely believe in him [i.e., Jesus] before his death.1 And on the Day of Resurrection he will be against them a witness.

১৫৯. শেষ যুগে ‘ঈসা (আলাইহিস-সালাম) এর অবতরণের পর তাঁর মৃত্যুর আগেই আহলে কিতাবের প্রত্যেকেই তাঁর উপর ঈমান আনবে। আর কিয়ামতের দিন ‘ঈসা (আলাইহিস-সালাম) তাদের কর্মকাÐের সাক্ষী হবেন। তা শরীয়তের পক্ষে হোক অথবা বিপক্ষে।

4:160Page 103

فَبِظُلۡمٖ مِّنَ ٱلَّذِينَ هَادُواْ حَرَّمۡنَا عَلَيۡهِمۡ طَيِّبَٰتٍ أُحِلَّتۡ لَهُمۡ وَبِصَدِّهِمۡ عَن سَبِيلِ ٱللَّهِ كَثِيرٗا ١٦٠

For wrongdoing on the part of the Jews, We made unlawful for them [certain] good foods which had been lawful to them, and for their averting from the way of Allāh many [people],

১৬০. ইহুদিদের যুলুমের কারণেই আমি তাদের পূর্বের কিছু পবিত্র ও হালাল খাদ্য তাদের জন্য হারাম করে দিয়েছি। আমি প্রত্যেক নখ বিশিষ্ট প্রাণী এবং গরু ও ছাগলের চর্বি তাদের উপর হারাম করে দিয়েছি। তবে সেগুলোর পিঠের চর্বি তাদের জন্য হালাল। যেহেতু তারা নিজেদের ও অন্যদেরকে আল্লাহর পথে চলতে বাধা প্রদান করেছে। এমনকি কল্যাণের পথে বাধা প্রদান তাদের চরিত্রে রূপান্তরিত হয়েছে।

4:161Page 103

وَأَخۡذِهِمُ ٱلرِّبَوٰاْ وَقَدۡ نُهُواْ عَنۡهُ وَأَكۡلِهِمۡ أَمۡوَٰلَ ٱلنَّاسِ بِٱلۡبَٰطِلِۚ وَأَعۡتَدۡنَا لِلۡكَٰفِرِينَ مِنۡهُمۡ عَذَابًا أَلِيمٗا ١٦١

And [for] their taking of usury while they had been forbidden from it, and their consuming of the people's wealth unjustly. And We have prepared for the disbelievers among them a painful punishment.

১৬১. যেহেতু তারা সুদের লেন-দেন করে; অথচ সুদ গ্রহণ করতে আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে নিষেধ করেছেন। আর যেহেতু তারা শরীয়তের কোন অধিকার ছাড়া মানুষের সম্পদ গ্রাস করে নিচ্ছে। বস্তুতঃ আমি তাদের মধ্যকার কাফিরদের জন্য যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির ব্যবস্থা রেখেছি।

4:162Page 103

لَّٰكِنِ ٱلرَّٰسِخُونَ فِي ٱلۡعِلۡمِ مِنۡهُمۡ وَٱلۡمُؤۡمِنُونَ يُؤۡمِنُونَ بِمَآ أُنزِلَ إِلَيۡكَ وَمَآ أُنزِلَ مِن قَبۡلِكَۚ وَٱلۡمُقِيمِينَ ٱلصَّلَوٰةَۚ وَٱلۡمُؤۡتُونَ ٱلزَّكَوٰةَ وَٱلۡمُؤۡمِنُونَ بِٱللَّهِ وَٱلۡيَوۡمِ ٱلۡأٓخِرِ أُوْلَٰٓئِكَ سَنُؤۡتِيهِمۡ أَجۡرًا عَظِيمًا ١٦٢

But those firm in knowledge among them and the believers believe in what has been revealed to you, [O Muḥammad], and what was revealed before you. And the establishers of prayer [especially] and the givers of zakāh and the believers in Allāh and the Last Day - those We will give a great reward.

১৬২. তবে জ্ঞানে দৃঢ় ও পরিপক্ক ইহুদিরা আর হে রাসূল! মু’মিনরা আল্লাহ তা‘আলার নাযিলকৃত কুর‘আনকে বিশ্বাস করে। তারা আপনার পূর্বেকার রাসূলদের উপর নাযিলকৃত কিতাব তাওরাত এবং ইঞ্জীলেও বিশ্বাস করে। উপরন্তু তারা সালাত কায়িম করে, নিজেদের সম্পদের যাকাত দেয়, আল্লাহকে এক ও অদ্বিতীয় বলে বিশ্বাস করে। যাঁর কোন শরীক নেই। তেমনিভাবে তারা কিয়ামতের দিনকে বিশ্বাস করে। বস্তুতঃ এ বৈশিষ্ট্যাবলীর অধিকারীদেরকে আমি অচিরেই মহা প্রতিদান দেবো।

4:163Page 104

۞ إِنَّآ أَوۡحَيۡنَآ إِلَيۡكَ كَمَآ أَوۡحَيۡنَآ إِلَىٰ نُوحٖ وَٱلنَّبِيِّـۧنَ مِنۢ بَعۡدِهِۦۚ وَأَوۡحَيۡنَآ إِلَىٰٓ إِبۡرَٰهِيمَ وَإِسۡمَٰعِيلَ وَإِسۡحَٰقَ وَيَعۡقُوبَ وَٱلۡأَسۡبَاطِ وَعِيسَىٰ وَأَيُّوبَ وَيُونُسَ وَهَٰرُونَ وَسُلَيۡمَٰنَۚ وَءَاتَيۡنَا دَاوُۥدَ زَبُورٗا ١٦٣

Indeed, We have revealed to you, [O Muḥammad], as We revealed to Noah and the prophets after him. And We revealed to Abraham, Ishmael, Isaac, Jacob, the Descendants,1 Jesus, Job, Jonah, Aaron, and Solomon; and to David We gave the book [of Psalms].

১৬৩. হে রাসূল! আমি আগের নবীদের মতো আপনার নিকটও ওহী পাঠিয়েছি। তাই আপনি নতুন কোন রাসূল নন। ইতোপূর্বে আমি নূহ (আলাইহিস-সালাম) এর নিকট ওহী পাঠিয়েছি। আরো পাঠিয়েছি তাঁর পরবর্তী নবীদের নিকট। তেমনিভাবে ওহী পাঠিয়েছি ইব্রাহীম (আলাইহিস-সালাম) এর নিকট এবং তাঁর দু’ সন্তান ইসমাঈল ও ইসহাকের নিকট। অনুরূপভাবে ইয়া’কূব ইবনু ইসহাক ও তাঁর বংশধরের নিকট। তাঁরা হলেন ইয়া’ক‚ব (আলাইহিস-সালাম) এর সন্তানদের বারোটি ইসরাঈল গোত্রে প্রেরিত নবী। আর আমি দাঊদ (আলাইহিস-সালাম) কে যাবূর নামক কিতাব দিয়েছি।

4:164Page 104

وَرُسُلٗا قَدۡ قَصَصۡنَٰهُمۡ عَلَيۡكَ مِن قَبۡلُ وَرُسُلٗا لَّمۡ نَقۡصُصۡهُمۡ عَلَيۡكَۚ وَكَلَّمَ ٱللَّهُ مُوسَىٰ تَكۡلِيمٗا ١٦٤

And [We sent] messengers about whom We have related [their stories] to you before and messengers about whom We have not related to you. And Allāh spoke to Moses with [direct] speech.

১৬৪. আমার প্রেরিত অনেক রাসূলের বর্ণনা আমি আপনার নিকট প্রেরিত কুর‘আনে দিয়েছি। আবার অনেক প্রেরিত রাসূলের বর্ণনা আমি আপনার কুর‘আনে দেইনি। কৌশলগত কারণে আমি তাঁদেরকে কুর‘আনে উল্লেখ করিনি। আর আল্লাহ তা‘আলা মূসা (আলাইহিস-সালাম) কে সম্মানিত করার জন্য তাঁর সাথে কোন মাধ্যম ছাড়া নবুওয়াতের বাস্তব ও সুসামঞ্জস্যপূর্ণ কথা বলেছেন। তা ছিলো বাস্তব কথা যা তাঁর সাথে মানায় এবং তা ছিলো মূসা (আলাইহিস-সালাম)।

Text: Quranic Universal Library (Tarteel), via spa5k/tafsir_api (MIT), at a fixed version. The ayahs: Quran Foundation. Sources and licences

Contents

Ayat al-Kursi36Al-Kahfpage 42juz 15Bukhari 1Muslim 2999

Style

Theme
Text size
Layout

Читать на русском